অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর পরই রাশিয়া-চীনের সঙ্গে ইরানের অস্ত্র চুক্তি

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, তার দেশের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সমরাস্ত্র কেনার ব্যাপারে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ইরানের বিমানবাহিনীর সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের ব্যাপারে মস্কোর সঙ্গে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে তার দেশের অস্ত্র রফতানি এবং অন্য দেশের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি করার বাধা দূর হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য বারুদের স্তূপে পরিণত হবে।

জেনারেল হাতামি বলেন, তার দেশ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ হিসেবে তুরস্ক কূটনৈতিক উপায়ে নাগোরনো-কারাবাখ সংকট সমাধানের চেষ্টা চালাবে বলে তেহরান আশা করে।

জেনারেল হাতামি আরও বলেন, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো অবস্থায়ই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করবে না।

সু চির দলের ৩ প্রার্থীকে অপহরণ!

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে অপহরণের শিকার হয়েছেন দেশটির নেতা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দলের তিন প্রার্থী। আগামী ৮ নভেম্বরের নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে গত সপ্তাহে অপহরণকারীদের কবলে পড়েন দেশটির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক লিগের (এনএলডি) এই প্রার্থীরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এই প্রার্থীদের বিনিময়ে ছাত্র বিক্ষোভের সময় আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নৃতাত্ত্বিক রাখাইন জনগোষ্ঠীর অধিকারের দাবিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি। গত বছর থেকে অঞ্চলটিতে এই লড়াই তীব্র হয়েছে। এই লড়াইয়ে এনএলডি সরকারের সেনাবাহিনী বেসামরিকদের ওপর সহিংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে গোষ্ঠীটি।

সোমবার অনলাইনে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন দল এনএলডি’র তিন প্রার্থী-মিন অং, নি নি মে মিয়ান্ট এবং চিট চিট চাওকে তারাই অপহরণ করেছে। ওই বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা অপহৃতদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত,

তবে এর বিনিময়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক শিক্ষার্থী এবং নিরীহ মানুষদের মুক্তি দিতে হবে। তবে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল এনএলডি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিয়ো নুয়ান্ট বলেন, ‘তারা যদি এইভাবে দাবি তুলতে থাকে তাহলে তা মেনে নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় তংকুক টাউনশিপে এনএলডি’র এক প্রচার সভায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঢুকে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এনএলডি সমর্থক থান্ট জিন পাইয়ো জানান, ওই সময় তাকে সহ আরও অন্তত দশ জন নারী ও পুরুষকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে সেখান থেকে ওই তিন প্রার্থীকে তারা অপহরণ করে নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

শরণার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে ইব্রাহিম এখন নিউজিল্যান্ডের এমপি!

আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার একসময়ের শরণার্থী ইব্রাহিম ওমর নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। ইব্রাহিম ২০০৩ সালে দেশ ছেড়ে সুদানের পার্শ্ববর্তী একটি শরণার্থী শিবিরে যান। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক হন তিনি। পরে জাতিসংঘের প্রস্তাবে নিউজিল্যান্ড পাড়ি দেন।

নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ নেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় পড়াশোনা করেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচিত ইব্রাহিম ওমর প্রথম কোনো আফ্রিকান, যিনি নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতা হলেন। ৫০ বছরের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের লেবার পার্টি। সেইসঙ্গে এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসনও জিতেছে দলটি।

তুরস্কের অর্থায়নে পাকিস্তানে তৈরি হচ্ছে গৃহহীনদের জন্য বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র

তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিআইকেএ) অর্থায়নে পাকিস্তানের গরীব দিনমজুর শ্রেণির মধ্যে যারা গৃহহীন তাদের জন্য নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা সম্বলিত একটি বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইসলামাবাদের নিকটে তার্নল এলাকায় এ আশ্রয়কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এসময় ইসলামাবাদে টিআইকেএ এর প্রধান গোখান উমুত ও পাকিস্তান বাইতুল মাল (পিবিএম) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অয়ন আব্বাস বুপ্পিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে পাকিস্তানে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ইহসান মোস্তফা ইয়ুরদাকুল এক টুইট বার্তায় বলেন, পাকিস্তানে এ ধরনের আশ্রয়কেন্দ্র গুলোর মধ্যে এটি হবে অন্যতম। দ্রুত সময়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হবে এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এটি উদ্বোধন করবেন।

পিবিএম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অয়ন আব্বাস বুপ্পি বলেন, আমরা এই প্রকল্পের জন্য তুর্কি সরকার, রাষ্ট্রদূত এবং টিআইকেএ এর প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, এ আশ্রয়কেন্দ্রটিতে ৪০০ জনেরও বেশি লোক প্রতিদিন দুপুরের খাবার পাবেন এবং প্রায় ১০০ জন দরিদ্র গৃহহীন মানুষ প্রতিদিন সকালের নাস্তাসহ রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন। এটিতে মহিলা আশ্রিতাদের জন্য আলাদা ঘর নির্মাণ করা হবে এবং এর প্রাঙ্গণে একটি মসজিদও নির্মাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিআইকিএ) পাকিস্তানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, পানীয়জলের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখে চলছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আজারবাইজানকে দখলমুক্ত করতে মুসলিম উম্মাহর সমর্থন চায় ইরান

নাগরনো-কারাবাখ দখলমুক্ত করতে মুসলিম উম্মাহর সমর্থন দরকার বলে উল্লেখ করেছে ইরান।দেশটির অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মোকারম সিরাজী এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

এ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আজারবাইজানকে ইরান পূর্ণ সমর্থন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। -ট্রেন্ড.এজেড, আজের নিউজ, রয়টার্স, বিবিসি
মোকারম সিরাজী বলেন, বছরের পর বছর নাগরনো-কারাবাখ দখল হয়ে আছে।

এ নিয়ে মাঝেমধ্যে যুদ্ধ হয়। সম্প্রতি ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর এতে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে। দখলদার আর্মেনিয়া এ জন্য দায়ী। তিনি বলেন, যেকোনও আলোচনা, মধ্যস্থতা ও সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

এর মূলে থাকতে হবে আজারবাইজানের পূর্ণ স্বাধীনতা। দেশটির ভূখণ্ড থেকে আর্মেনিয়াকে অবশ্যই সরে যেতে হবে। সিরাজী বলেন, পবিত্র ধর্ম অনুসারে সব নবী বিশেষ করে যিশু নিপীড়ন থেকে দূরে ছিলেন। সে অনুসারে আর্মেনিয়া সরকারকে দখলদারিত্ব ও নিপীড়ন বন্ধ করতে সব খ্রিস্টানের বোঝানো উচিত।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অঞ্চলটি নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে আজারবাইজানের যুদ্ধ চলছে। এ পর্যন্ত নাগরনো-কারাবাখের ৭ শতাধিক সেনা নিহত হয়েছে বলে আর্মেনিয়া দাবি করেছে। অন্যদিকে অর্ধশতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহতের তথ্য দিয়েছে আজারবাইজান।

অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড। এটি আর্মেনিয়ার সমর্থন ও সহায়তা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে জাতিগত আর্মেনিয়রা। ১৯৯০-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ ভূখণ্ড নিয়ে সংঘর্ষে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।