আজারবাইজানকে দখলমুক্ত করতে মুসলিম উম্মাহর সমর্থন চায় ইরান

নাগরনো-কারাবাখ দখলমুক্ত করতে মুসলিম উম্মাহর সমর্থন দরকার বলে উল্লেখ করেছে ইরান।দেশটির অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মোকারম সিরাজী এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

এ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আজারবাইজানকে ইরান পূর্ণ সমর্থন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। -ট্রেন্ড.এজেড, আজের নিউজ, রয়টার্স, বিবিসি
মোকারম সিরাজী বলেন, বছরের পর বছর নাগরনো-কারাবাখ দখল হয়ে আছে।

এ নিয়ে মাঝেমধ্যে যুদ্ধ হয়। সম্প্রতি ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর এতে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে। দখলদার আর্মেনিয়া এ জন্য দায়ী। তিনি বলেন, যেকোনও আলোচনা, মধ্যস্থতা ও সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

এর মূলে থাকতে হবে আজারবাইজানের পূর্ণ স্বাধীনতা। দেশটির ভূখণ্ড থেকে আর্মেনিয়াকে অবশ্যই সরে যেতে হবে। সিরাজী বলেন, পবিত্র ধর্ম অনুসারে সব নবী বিশেষ করে যিশু নিপীড়ন থেকে দূরে ছিলেন। সে অনুসারে আর্মেনিয়া সরকারকে দখলদারিত্ব ও নিপীড়ন বন্ধ করতে সব খ্রিস্টানের বোঝানো উচিত।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অঞ্চলটি নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে আজারবাইজানের যুদ্ধ চলছে। এ পর্যন্ত নাগরনো-কারাবাখের ৭ শতাধিক সেনা নিহত হয়েছে বলে আর্মেনিয়া দাবি করেছে। অন্যদিকে অর্ধশতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহতের তথ্য দিয়েছে আজারবাইজান।

অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড। এটি আর্মেনিয়ার সমর্থন ও সহায়তা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে জাতিগত আর্মেনিয়রা। ১৯৯০-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ ভূখণ্ড নিয়ে সংঘর্ষে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।

অশ্রুসিক্ত নয়নে রাসূলের রওজায় সালাম

রাসুলের রওজায় সালাম দিতে কে না চায়? সবাই চায় প্রিয় নবির রওজায় সালাম প্রদান করতে। কিন্তু নবিজির রওজার পাশে দাঁড়িয়ে সালাম প্রদানের সুযোগ হয় কয়জনের? সবার ভাগ্যে জুটেনা সে সুযোগ। যার ভাগ্যে আছে সেই সুযোগ পায় একেবারে নবির রওজার কাছে গিয়ে সালাম প্রদান করতে।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ফজরের নামাজের পর খুলে দেওয়া হয় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক ও রিয়াজুল জান্নাত। দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস পর নবীর রওজায় সালাম ও রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়ে আনন্দে কেঁদেছেন মুসল্লিরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অশ্রুভেজা নয়নে সালাম পেশ ও রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করেছেন তারা।করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরীফে জিয়ারত (দর্শন, সালাম পেশ) বন্ধ ছিল। রোববার থেকে ‘ইতামারনা’ অ্যাপে নিবন্ধন করে রওজা জিয়ারত করার সুযোগ পাচ্ছেন সৌদিতে বসবাসকারীরা।

নিবন্ধনহীন কেউ রিয়াজুল জান্নাত ও রওজা শরীফে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিবন্ধনের সময় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে হবে সবাইকে। করোনা মহামারির শুরুর দিকে সৌদি আরবের সব মসজিদ বন্ধের পর ৩১ মে থেকে মসজিদে নববী খুলে দেওয়া হলেও পুরাতন মসজিদ ও রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ এবং রওজা শরীফের জিয়ারত স্থগিত ছিল।

রওজা শরীফ জিয়ারতের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া উপলক্ষে হারামাইন শরিফাইন অধিদপ্তরের প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস শনিবার (১৭ অক্টোবর) মদিনা সফর এবং মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন। নামাজের পর মুসল্লিদের উদ্দেশে পুনরায় রওজা শরীফ উন্মুক্ত ও জিয়ারত চালু উপলক্ষে আবেগমিশ্রিত ভাষণ দেন।

রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করছেন মসজিদে নববীতে কর্মরত বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা, ছবি: সংগৃহীত
ইতামারনা অ্যাপে নিবন্ধনকারীরা নির্দিষ্ট গেইট দিয়ে রওজা শরীফে প্রবেশ করবেন। নিবন্ধনের সময় রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় ও রওজায় সালাম পেশের সময় উল্লেখ করে দেওয়া হয়। একজন জিয়ারতকারী ত্রিশ মিনিট সময় পাবেন নামাজ আদায় ও সালাম পেশ করার জন্য।

রওজা শরীফে সালাম পেশের জন্য পুরুষরা বাবুস সালাম (গেইট নং ১) ও রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের জন্য বাবে বিলাল (গেইট নং ৩৮) ব্যবহার করবেন। মহিলারা বাবে উসমান (গেইট নং ২৪) দিয়ে প্রবেশ করে নামাজ আদায় ও রওজায় সালাম পেশ করবেন।

অন্যদিকে, রোববার থেকে মক্কার মসজিদে হারামে শুরু হয়েছে পবিত্র উমরা চালুর দ্বিতীয় ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে দৈনিক ১৫ হাজার মুসল্লি উমরা পালন এবং দৈনিক ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরানের সামনে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানি করার বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে আমেরিকা অনেকটা ভীত হয়ে পড়েছে। ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যতটা অস্ত্র কিনবে তার চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রপ্তানি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানী তেহরানে আজ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে এসব কথা বলেছেন। তিনি জানান, ইরানের সামরিক খাতে যে সমস্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রয়োজন তার শতকরা ৯০ ভাগ নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশীয়ভাবে তৈরি হয়।

এখন ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আমেরিকা যে ভয় পাচ্ছে সেটি হচ্ছে এই যে, ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানি করবে এবং ইরানের সামরিক প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়বে। ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ঘটনাকে তেহরানের জন্য বিরাট বিজয় বলে মন্তব্য করেন খাতিবজাদে।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের এক কূটনীতিক জানান, ২০১৫ সালে যখন পরমাণু সমঝোতা সই হয় তার আগে ইরানের আলোচকরা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিষয়টি সমঝোতায় যুক্ত করার চেষ্টা করেন তবে তাতে বাধা দিয়েছিল আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলো।

কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করা হয় এবং তারই আলোকে গতকাল ১৮ অক্টোবর ইরানের ওপর থেকে ১৩ বছরের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা যাতে বহাল থাকে সে জন্য দীর্ঘদিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে আমেরিকা। পার্সটুডে

মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ তুরস্ক: মিশরীয়দের জরিপ

মিশরের নাগরিকরা তুরস্ককে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসাবে বিবেচনা করছেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিশরীয়রা বলেছেন যে, তাদের স্বৈরশাসক আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি সরকারের চলমান আঙ্কারা বিরোধী প্রচারণা চালানো সত্ত্বেও তুরস্কের পক্ষে লড়াই করবেন তারা।

মিশরের তুরস্ক ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আরেদা’র উদ্যোগে গত ২০ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট ১,০৪৭ জন মিশরীয় নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১.৪% মিশরীয় বলেছেন যে তারা তুরস্ককে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

আর ১০.৪% বলেছেন সৌদি আরব, ৬.২% সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১.৬% কাতার, ১% পাকিস্তান এবং ০.৫% ইরান বলেছেন। আর ৯.৭ % অন্যান্য দেশ এবং ৩৯.২ জন বলেছেন কোন দেশই না।

যুদ্ধের সময় তারা তুরস্কের হয়ে লড়াই করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অংশগ্রহণকারীদের ১৫.৩% “হ্যাঁ” জবাব দিয়েছেন। মিশরের স্বৈরশাসক সম্পর্কে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৪১.৬% এবং ১৮.৪% বলেছেন তারা সিদ্ধান্তহীন।

দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তারা স্বৈরশাসক সিসিকে ভোট দেবেন কি দেবেন না এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮.৫% বলেছেন সিসিকে ভোট দেবেন না। ৩৫% বলেছেন ভোট দেবেন এবং ১৬.৫% বলেছেন তারা সিদ্ধান্তহীন।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ অন্যান্য দেশের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮.৬% বলেছেন “হ্যাঁ” এবং ৪১.৪% বলেছেন “না” এবং ১০% বলেছেন যে তাদের কোনও ধারণা নেই।

প্রসঙ্গত, স্বৈরশাসক সিসি মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত শহীদ প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে অবৈধভাবে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপরই তুরস্ক ও মিশরের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

সিসির অধীনে মিশর তুরস্কবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী তুর্কি পর্যটকদের গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও লিবিয়া সংকটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে এবং ভূমধ্যসাগর সংকটে তুরস্কের বিরুদ্ধে গিয়ে গ্রিসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বৈরশাসক সিসি। সূত্র: ডেইলি সাবাহ্

আফগানের রাজনৈতিক কাঠামোয় তালেবানের অংশগ্রহণের প্রতি ইরানের সমর্থন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, আফগান সরকার তালেবানের সঙ্গে যে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে তার প্রতি তেহরানের সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোয় তালেবানের অংশগ্রহণের প্রতিও তেহরানের সমর্থন রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকারের জাতীয় পুনর্গঠন বিষয়ক উচ্চ পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহের সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এই দিনেই আব্দুল্রাহ ইরান সফরে গিয়েছিলেন। সাক্ষাতে আফগানিস্তানের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তালেবানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির খবর জানান আব্দুল্লাহ।

তেহরান আসার আগে তিনি ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরে মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

তালেবানের সঙ্গে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দোহায় দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা শুরু করেছে মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকার। যাকে আফগান-আফগান আলোচনা বলে অভিহিত করা হচ্ছে। ওই আলোচনায় আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আফগান সরকারের প্রতিনিধিদলের নের্তৃত্ব দিচ্ছেন। সূত্র: পার্সটুডে

আরও ১৩ গ্রাম মুক্ত করল আজারবাইজান!

আর্মেনিয়ার দখল থেকে নতুন করে আরও ১৩ গ্রাম মুক্ত করেছে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।জাবরাইল জেলার এ গ্রামগুলো আর্মেনিয়ার দখলে রেখে ছিল। সোমবার এক ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছেন আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। খবর ইয়েনি শাফাকের।

তিনি এক টুইটে বলেন, জাবরাইল জেলার সোলতানলি, এমিরভারলি, মাশানলি, হাসানলি, আলিকেখানলি, গুমলাগ, হাজিলি, গোয়েরসিভেইসালনি, নিয়াজিগুজলার, খেসেল মেমমেদলি, শাহভেললি, হাজি ইসমাইলি এবং ইসাগলি গ্রামগুলো মুক্ত করা হয়েছে। কারাবাখ আজারবাইজানের।

‘তাদের জঘন্য আক্রমণের কারণে সেখানে মৃত ও আহত হয়েছে। আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর পাল্টা উপযুক্ত জবাবে সেখানকার বসতিগুলো মুক্ত করা হয়।’

তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী চরমভাবে মানবিক যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে। তারা আজারবাইজানের আবাসিক এলাকা ও সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়। পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

এতে উভয় পক্ষ মানবিক কারণে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ যুদ্ধবিরতিতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দিসহ অন্যান্য বন্দি বিনিময় ও মৃতদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।

তুর্কী সাইপ্রাসের নির্বাচন; ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এরদোগানের আরেকটি বিজয়

তুর্কি প্রজাতন্ত্র উত্তর সাইপ্রাসের নির্বাচনে তুরস্ক সমর্থিত প্রার্থী এরসিন তাতার ৫১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী মুস্তাফা আকিনজি ৪৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

এরসিন তাতার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্ক সরকারের সমর্থিত প্রার্থী। অন্যদিকে মুস্তাফা আকিনজি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন ছিল তার প্রতি।

এরসিন তাতার গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তুরস্কের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে গত ৫ বছর প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় মুস্তাফা আকিনজি তুরস্কের বিরুদ্ধে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে অবস্থান নেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী মুস্তাফা আকিনজির পরাজয়ে তুরস্ক সমর্থিত প্রার্থী এরসিন তাতারের জয়ের মাধ্যমে মূলত; তুর্কি সাইপ্রাস এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে তুরস্কের অবস্থান আর শক্তিশালী হলো।

তারা মনে করছেন, তুর্কী সাইপ্রাসের নির্বাচনের এ ফলাফল মূলত গ্রীস, গ্রীক সাইপ্রাস এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এরদোগানের আরেকটি বিজয়।

পাকিস্তানের সফট পাওয়ার পুনর্গঠন করছে তুরস্ক?

বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক পালাবদলের বিশৃঙ্খলার মধ্যে মুসলিম বিশ্বে নতুন ভূ-রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটছে। তুরস্ক ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সাল থেকেই জোরাল কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। তবে তাদের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ফাতিমা ভুট্টো যখন তুরস্কের পাকিস্তান জয় নিয়ে লিখেছেন, তখন আমি তাতে পুরোপুরি একমত প্রকাশ করেছিলাম। আর্তুগ্রুলের তুর্কি নারী স্টার ইসরা বিলগিজ বর্তমানে পাকিস্তানে লাইমলাইটে আছেন। তিনি করপোরেট বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন ব্র্যান্ডে নতুন মুখ, সামাজিক মিডিয়ায় বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি ফ্যান যুগিয়ে নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে ক্যাভিট সেটিনের মতো তুর্কি অভিনেতারা পাকিস্তান সফর করে মিডিয়ায় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছেন। এতে পাকিস্তানে ব্যাপক তুর্কি উপস্থিতি ফুটে ওঠেছে। তুর্কি ধারাবাহিক আর্তুগ্রুল রাতারাতি পাকিস্তানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়, পাকিস্তানি নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে জনপ্রিয় শো হিসেবে আবির্ভূত হয়।

উসমানিয়া সাম্রাজ্যের মূল্যবোধ ও কাহিনী পাকিস্তানি হৃদয়-মনকে মোহিত করছে। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ও উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রশংসা করেছেন। বস্তুত, তার আইডিয়াতেই ধারাবাহিকটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টিভি পিটিভিতে প্রচার করা হয। তিনি ধারাবাহিকটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে তরুণরা ইসলামি ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারবে।

বস্তুত, তুরস্ক এখন পাকিস্তানের মনযোগ দখল করে নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেক পাকিস্তানির মনে প্রশ্ন জাগছে: তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক কি পাকিস্তানের সফট পাওয়ারকে পুনর্গঠন করছে?

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমরান খান বলিউডের চলচ্চিত্র ও ভারতীয় মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছেন। এর বিপরীতে তিনি মুসলিম দেশগুলোর চলচ্চিত্রকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বলা যেতে পারে, ইমরান খান একটি সেক্যুলার কাম ইসলামি দেশ গঠনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি তুরস্কের সাথে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করে পাকিস্তানে তুর্কি ইসলাম ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ আমদানি করতে চাচ্ছেন। নানা তুর্কি ধারাবাহিক প্রচারে তার সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হচ্ছে।

ইমরান খানের ভিশন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির ঊর্ধ্বে। তিনি চাচ্ছেন তুরস্কের সাথে সম্পর্ক আরো গভীর করে পাকিস্তানের সফট পাওয়ার পুনঃগঠন করতে। পাকিস্তানে তার আগে অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ নেননি।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের উত্থানের ভূরাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য সফট পাওয়ারের ধারণাটি বুঝতে হবে। যোশেপ নাই সফট পাওয়ারের ধারণাটি সামনে এনেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বদলে সাংস্কৃতিক উপাদান ব্যবহার করে আবেদন ও আকর্ষণ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে একে বোঝা যায়।

পাকিস্তানের যাত্রার শুরু থেকে সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ওহাবি সন্ত্রাসবাদ, ব্লাসফেমি আইনের কারণে দেশটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সম্প্রদায়গত বিভক্তিও নানা মাত্রিক ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সৃষ্টি করেছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য পাকিস্তান সবচেয়ে নিরাপদ স্থান নয়। এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান লজ্জাজনক অবস্থার শিকার হয়, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ব্লাসফেমি আইন বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সফট পাওয়ার পুনর্গঠন আন্তর্জাতিক বিশ্বে পাকিস্তানকে আরেকটি সুযোগ দেবে, তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি দেশের ধর্মীয় বিভক্তি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অভিশাপ থেকেও মুক্তি দেবে।

এরদোগানের তুর্কিকরণ প্রক্রিয়া ও সম্প্রসারণবাদ হয়তো পাকিস্তান সমাজের সেক্যুলারকরণ শুরু করার একটি চাবি মাত্র। কয়েক শ’ বছরের মুসলিম ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়েও তুরস্ক একটি সেক্যুলার দেশ। ১৯২৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে তুরস্কে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে।

তুর্কি সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদকে গ্রহণ করে নিয়েছে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে তুরস্ক অনেক কম সমস্যায় পড়ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি সংস্কৃতি উপভোগ করার জন্য সারা দুনিয়া থেকে পর্যটকেরা তুরস্কে যায়।

তরুণ পাকিস্তানি, সেইসাথে মুসলিম হওয়ায়, আমি উদার ও সেক্যুলার মূল্যবোধে বেড়ে ওঠেছি। আমি কি বিশ্বাস করি, সেক্যুলার সমাজই পাকিস্তানের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার সঠিক পথ? অবশ্যই। বস্তুত, এটাই হতে পারে আন্তর্জাতিক সংহতি অর্জনের পাকিস্তানের একমাত্র পথ। আর এটিই মুসলিবিশ্বে পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ নেতায়ও পরিণত করতে পারে। সূত্র: দি নিউজ

হামাস; ধর্মভিত্তিক দল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের কণ্ঠস্বর

আরববিশ্বে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয় ১৯৮৭ সালে । ইন্তিফাদা নামের সেই সময় শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরের বছর হামাসের আত্মপ্রকাশ। ধর্মভিত্তিক সংগঠনের পরিচয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাদের।

হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্র ছিল ইহুদি বিদ্বেষে ঠাঁসা। তবে ফিলিস্তিনি জনতার জাতিসত্তার বোধ জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা জোরালো করে তুলতে শুরু করার পর, সেই পরিস্থিতির সমান্তরালে বদলে যেতে থাকে হামাস। এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি মুক্তির সংগ্রামই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের শরিক হওয়ার পর ২০০৬ সালের নির্বাচনে জনতার নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনেও সমর্থ হয়েছিল হামাস। সোমবার নতুন রাজনৈতিক দলিল প্রকাশ করতে গিয়ে আরও কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় তারা।

এর অন্যতম হলো, ঘোষণাপত্রে থাকা ইহুদি বিদ্বেষ থেকে সরে আসা। পাশাপাশি ৬৭’র সীমানা মেনে রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে হামাস। তাদের ঘোষণাপত্রে মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ ছিল। পূর্বেই ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করলেও, এবারের নতুন রাজনৈতিক দলিলে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে হামাস।

প্রথম ইন্তিফাদার সময়ে হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ‘ইসরায়েলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করাটাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।’ সেই সঙ্গে ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের বিরোধকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে এটিকে মতাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। ধর্মবাদী চেতনার আলোকে এক সংগঠন গড়ার কথা বলা হয়েছিল ওই ঘোষণাপত্রে।

মূলত দ্বিতীয় ইন্তিফাদা, বা আল আকসা ইন্তিফাদার সময়কালে (২০০০–২০০৫) হামাসের রাজনীতিতে এক বিশেষ রূপান্তর ঘটতে শুরু করে। এ সময়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শিক অবস্থানকে ছাপিয়ে যায় ফিলিস্তিনের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন। সেই আন্দোলনের প্রতি নিজেদের অঙ্গীবকার জানিয়েই রাজনৈতিকভাবে হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল হামাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবদেল আজিজ আল–রানতিসি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত দায়িত্বে আসেন খালেদ মেশাল। একই বছর ১১ নভেম্বর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ফাতাহ নেতা ইয়াসির আরাফাতের জীবনাবসানের পর প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) জনভিত্তি হারাতে থাকে।

মূলত, ১৯৯৩ সালের ‘অসলো চুক্তি’র বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে ফিলিস্তিনে ফাতাহ ও পিএলওর জনসমর্থন কমে আসতে থাকে। আরাফাত পরবর্তী যুগে পিএলও যখন রাজনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, ঠিক সেই সময়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও প্রতিরোধ আন্দোলনের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয় হামাস।

ফিলিস্তিনে ২০০৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় তারা। তবে সরকার গঠনের পরপরই ইসরায়েল তাদের মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আরাফাত-পরবর্তী মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহও হামাসের সরকারে যোগদান থেকে বিরত থাকে।

ফাতাহ হামাসের ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের আহবান প্রত্যাখ্যান করার পর রাজনৈতিক বিভেদ সহিংসতায় রূপ নেয়। পশ্চিম তীরে ফাতাহ তাদের পৃথক সরকার ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখে। অপরদিকে, অবরুদ্ধ গাজা থাকে হামাসের নিয়ন্ত্রণে।

এরপর হামাস ও ফাতাহ বহুবার জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠায় সম্মত হলেও তা বাস্তব হয়নি। তবে খালেদ মেশাল রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসার পর থেকেই হামাস তার পূর্ববর্তী উগ্র ধর্মবাদী চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রশ্নেও নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করতে শুরু করে তারা। ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং হামাসের অন্যতম প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়াহ বলেন, ‘হামাস ১৯৬৭ সালের সীমানাসহ ইসরায়েলের সাথে দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে রাজী আছে।’

২০১০ সালে হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশাল বলেন, “‘হামাস চার্টার’ (হামাসের ঘোষণাপত্র) এক ইতিহাসের অংশ, কিন্তু তা এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কিছু নয়। হামাস যখন থেকে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাকেই প্রধান বলে মনে করেছে, তখন থেকেই ঘোষণাপত্র থেকে সরে এসেছে।”

২০১৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে খালেদ মেশাল বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় এই আলোচনা অর্থহীন। আমরা উগ্র হত্যাকারী নই। আমরা আসলে ইসরায়েল-বিরোধীও না।

তাদের দখলদারিত্বের বিরোধী। এর অবসান ঘটাতে পারলে আমরা আমাদের নীতি–মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করব। সেই নীতি ও মূল্যবোধ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং বহির্বিশ্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

২০১৪ সালের জুলাইয়ে খালেদ মেশাল বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। তবে সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে। আলোচনার কথা বলে আগ্রাসন চালালে সেটি তো মেনে নেওয়া যায় না।’

ওই সাক্ষাঃকারে দ্বি-রাষ্ট্র সমধান মেনে নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন মেশাল। “মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও হাতে গোনা কয়েকটি পশ্চিমা রাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থনে ইসরায়েল আজ ‘মধ্যপ্রাচ্যের বখে যাওয়া সন্তানে’ পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল আজ কাউকে মানছে না, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন মিশনে বড় রকমের ফাঁকফোকর রয়েছে। ২০০৯ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত দূর করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবাম যে রোডম্যাপের বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তাও মানতে নারাজ ইসরায়েল। মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না।”

২০১৪ সালের জুলাইয়ে সিবিএস চ্যানেলে আরেক সাক্ষাৎকারে মেশাল বলেন, ‘আমরা গোঁড়ামীবাদী নই, আমরা মৌলবাদী নই। আমরা প্রকৃতপক্ষে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। আমরা অন্য কোনও বর্ণের বা জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি না, আমরা লড়াই করছি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।’

মেশালের বক্তব্যে উঠে আসা হামাসের রাজনৈতিক ওই বদলগুলোস এবার প্রথম বারের মতো রাজনৈতিক দলিলে স্বীকৃত হলো।

হামাসের নতুন রাজনৈতিক দলিলে স্পষ্ট করে বলা হয়, হামাসের লড়াই জায়নবাদের বিরুদ্ধে। তা ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নয়। সেখানে বলা হয়, ‘যে জায়নবাদী ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করছি আমরা।’ নতুন দলিলে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘হামাস একটি স্বতন্ত্র সংগঠন।’

খালেদ মেশাল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে হামাসের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, ‘নতুন নীতিতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও সুযোগ রাখা হয়নি। তবে আমরা ১৯৬৭ সালের ৪ জুন যে সীমান্ত নির্দেশ করা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী। যার রাজধানী হবে জেরুজালেম, আর সব শরণার্থী ফিরে পাবে তাদের নিজ নিজ ঘর ফিরে পাবে।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, ইনডিপেন্ডেন্ট, সিবিএস, সিএনএন

আজারবাইজানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং লড়াইয়ে আমাদের ভাইদের সাথে থাকবাে: এরদোগান

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক ফেবু বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

তিনি তার ফেজবুক পেজে বলেন, প্রিয় ভাই, প্রিয় বন্ধু আজারবাইজানের ১৮ অক্টোবর
স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

একটি জাতির ধারণা নিয়ে আমরা
আজারবাইজানকে সব এলাকায় সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং দেশের লড়াইয়ে আমাদের ভাইদের সাথে থাকবাে।

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক ফেবু বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবসে ইমরান খানের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাশাপাশি তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিতর্কিত নাগরোনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যকার সঙ্ঘাতের কথা উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘আমরা আজেরি বাহিনীকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাব অনুসারে নাগারনো-কারাবাখ ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান আজারবাইজানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’

নাগরোনো-কারাবাখ আজারবাইজানের একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা যেখানে প্রধানত জাতিগত আর্মেনীয়রা বসবাস করে। তাদের বেশিরভাগই ইয়েরেভানকে সমর্থণ করে। এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শনিবার আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা মধ্যরাত থেকে ‘মানবিক সমঝোতা’ ঘোষণা করবে। যুদ্ধরত দুই পক্ষের জন্য এটি যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা।

গত শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন এবং মস্কোতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘কঠোরভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তার’ কথা তুলে ধরেন। এর পরেই সমঝোতার ঘোষণা আসে।

এ বিষয়ে রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, ‘পাকিস্তান আরও মানবিক সংকট রোধে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সম্মত মানবিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক উন্নয়ন।

আমরা আশা করি যে, দুই পক্ষই এই চুক্তির প্রতি স্মআন জানাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে, দু’পক্ষের মধ্যে টেকসই শান্তি জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের রেজুলেশনগুলির সম্পূর্ণ ও ব্যাপক প্রয়োগ এবং আজারবাইজানীয় অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়ান বাহিনী প্রত্যাহারের উপর নির্ভর করবে।’

এর আগে, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনায়ন দাবি করেছিলেন যে, পাকিস্তানি বিশেষ বাহিনী আজারবাইজান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি লড়াই করছে। শনিবার পাকিস্তান এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও অযাচিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র দফতর আর্মেনিয়ার নেতৃত্বকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচার’ বন্ধ করতে এবং আজারবাইজানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সমর্থন দেয়ার কথা বলেছিল। সূত্র: ডন

কোয়ারেন্টাইনে পুরো কুরআন মুখস্ত করলেন ৬ বছরের হুনাইন

মাত্র ৬ বছরের কন্যা শিশু হুনাইন মুহাম্মাদ হাবিব। আলহামদুলিল্লাহ! এ ছোট্ট বয়সে পুরো কুরআনুল কারিম হেফজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিন বছর বয়স থেকে কুরআনুল কারিম পড়া শুরু করলেও মহামারি করোনার সময়ে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থেকেই সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেছেন হুনাইন।

কুরআন নাজিলের দেশ সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাসকারী কন্যা শিশু হুনাইন মুহাম্মাদ হাবিব। অল্প বয়সে কুরআন মুখস্ত করেছেন তিনি। মাত্র ৬ বছরেই সম্পন্ন করেছেন কুরআনুল কারিমের হেফজ।

তার কুরআন মুখস্ত সম্পর্কে তার মা জানান- ‘হুনাইন কুরআনুল কারিম হেফজ সম্পন্ন করবে, এটি ছিল তার একান্ত আশা। সে হিসেবেই তিন বছর বয়স থেকে হুনাইনকে কুরআন শেখানোর কাজ শুরুকরেন তিনি।’

প্রথমে দুই বছর বয়স থেকেই কুরআনুল কারিমের ছোট ছোট সুরা মুখাস্ত করাতে শুরু করি। যখন হুনাইনের বয়স তিন বছর হয় তখন থেকে তাকে নিয়মিত কুরআনুল কারিম মুখস্ত করার ক্ষেত্রে বাড়িতেই সময় দেয়া শুরু করেন বলেও জানান হুনাইনের মা।

بعمر 6 سنوات تروي قصة رحلتها مع ختم كتاب الله pic.twitter.com/32kKrpWIlE

— جمعية مكنون لتحفيظ القرآن بالرياض (@quraan_qk) October 12, 2020
তিনি আরও বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকতে হয়েছে। এই সময়টি হুনাইনের জন্য পুরো কুরআন মুখস্ত করতে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আর তাতে মাত্র ৬ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করে।

الطفلة حنين ذات الـ 6 سنوات تتمكن من حفظ القرآن الكريم كاملاً في إحدى المدارس التابعة لجمعية تحفيظ القرآن الكريم بالرياض.

– pic.twitter.com/GZ9kmdAVOF

— أخبار السعودية (@SaudiNews50) October 12, 2020
৬ বছরের হুনাইন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‌‘মাকনুন’ নামক একটি স্কুলে পড়া লেখা করে। স্কুলটির কুরআন হেফজ সেন্টারের নিয়মিত ছাত্রী ছিল হুনাইন। লকডাউনের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থেকে মায়ের সহযোগিতায় পুরো কুরআন মুখস্ত করেন হুনাইন।

৭ মাস পর নামাজের জন্যে খুলে গেল মসজিদুল হারামের দরজা

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর নিজ দেশের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের মসজিদুল হারামে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।

মহামারির কারণে মার্চ থেকে পবিত্র এ স্থানটিতে সীমিত আকারে নামাজ আদায় চললেও জামাত বন্ধ আছে। এতদিন সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করার অনুমতি ছিল না। শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের কর্মচারীরা সেখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন।

১৭ মার্চ এক ঘোষণায় সৌদি সরকার মক্কা ও মদিনার প্রধান দুই মসজিদ ছাড়া দেশটির বাকি সব মসজিদে জামাতে নামাজ স্থগিত করে নির্দেশ জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরে এ দুটি মসজিদেও জামাতে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়।

৪ অক্টোবর প্রথম ওমরাহ যাত্রীদের জন্য মসজিদুল হারামের দুয়ার খুলে দেয়া হয়।
সৌদি আরবে রোববার পর্যন্ত ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৪ জনের মধ্যে মহামারির সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ জনের।

বিশ্বের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক হয়ে গেল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে গোটা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

এ ঘটনাকে ইরানসহ আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে আজ সকালে এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে বিশ্ব আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

জারিফ তার টুইটার বার্তায় আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন; কারণ এই দিনে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব রক্ষা করেছে।”

এদিকে ভিয়েনায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ইরানের সমরাস্ত্র কেনাবেচার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। কাজেই এখন থেকে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে সমরাস্ত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার অজুহাত তুলতে পারবে না।

এর আগে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ব্যাপারে আজ ভোর রাতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ (১৮ অক্টোবর) থেকে ইরান কোনো আইনগত বাধা ছাড়াই যেকোনো দেশের কাছ থেকে নিজের প্রয়োজনমতো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং যেকোনো দেশের কাছে বিক্রি করতে পারবে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইরান-বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে