বাংলাদেশ সীমান্তে বোমা নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে মিয়ানমার!

বাংলাদেশ সীমান্তে ব্যাপক সমরসজ্জা করে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে মিয়ানমার। রাখাইন রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখাই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্তের এক কিলোমিটারের মধ্যে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করছে মিয়ানমার। এর মধ্যে দু’টি ফ্রিগেড, একটি কর্ভেড ও একটি সাবমেরিন রাখাইন পানিসীমায় নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম ও এন্টি এয়ারক্রাফট সিস্টেমও আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। হেলিকপ্টারে করে মিয়ানমার বাহিনী অবৈধ ফসফরাস বোমা নিয়ে এসেছে রাখাইনে।
মিয়ানমারের সমরসজ্জার খবর এমন এক সময় পাওয়া যাচ্ছে,

যখন খোদ জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে রাখাইনে নতুন করে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। চলমান সেনা সমাবেশের সময়েই রাখাইনে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। তবে মিয়ানমার দাবি করছে এমন রিপোর্ট দেয়ার আগে জাতিসঙ্ঘের উচিত যাচাই করে নেয়া।

অবশ্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের সাথে সেখানকার অবস্থার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। দি ইরাবতী পত্রিকায় ৪ সেপ্টেম্বর রাখাইনে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসি এ ব্যাপারে ভিডিওর একটি ক্লিপ প্রচার করেছে।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রাখাইনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির সাথে সৃষ্ট উত্তেজনার দোহাই দিয়ে মিয়ানমারের যে সামরিক প্রস্তুতি তা অনেকটাই কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলার মতো। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটি এখন আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।

এর সাথে ঢাকা যাতে একাত্ম না হয় তার জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বাংলাদেশ সীমান্তের ১ কিলোমিটারের মধ্যে সেনা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যাচ্ছে মিয়ানমারকে।

এ ছাড়া রাখাইনে তিনটি সেনা ডিভিশনের বাইরে ওয়েস্টার্ন কমান্ডের অধীনে আরেকটি অনানুষ্ঠানিক ডিভিশন নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। এই কমান্ডের অধীনে ৫৪০, ৫৩৮, ৩১৭, ৫৩৮, ৩৬৬, ৫৪ ও ৫৫ ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

১১ ও ৩৩ ডিভিশনের শক্তিও আরো বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষভাবে মংডু, বুচিডং, মংডু টাউনশিপ, ফকিরাবাজার, রাসিডং এলাকায় সেনাশক্তি বাড়ানো হয়েছে। এখানকার ইনফেন্ট্রি ও আর্টিলারি ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি ৩৪ স্পেশাল ম্যাকানাইজড ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে এই সমরসজ্জায় সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত সীমান্তের এপারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের যেসব স্বজন এখনো ওপারের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবির ও বাড়িঘরে রয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। সুত: সময় টিভি

আফগানিস্তানে বিমান হামলা; ৪০ তালেবান নিহত

আফগানিস্তানে বিমান হামলায় তালেবানের ৪০ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বরের অভিযানে কোন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুন্দুজ প্রদেশের তালেবান ঘাঁটিতে হামলায় ১১ বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানায় প্রাদেশিক সরকার।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে তালেবানের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ বেসামরিক নাগরিক। তবে নিজেদের কোন সদস্য হতাহত হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে উল্লেখ করেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

কুন্দুজ প্রদেশের সামরিক অভিযানে হতাহতের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে খান আবাদ জেলার সেনা সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করে তালেবানের হামলা চালানোর জবাবেই এ বিমান হামলা চালানো হয়।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর সাধারণ মানুষের সুরক্ষার্থে মানবিক যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডন্ট আশরাফ ঘানি।
এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনটি প্রদেশে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ তালেবান ও ১৯ নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।

আফগানিস্তানের দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধে অবসানে সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের সঙ্গে যখন শান্তি চালিয়ে যাচ্ছে তখনই হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে আবারো হুমকিতে পড়েছে শান্তি আলোচনা।

খোদ ভারতীয়রাই তথ্য পাচার করছে চীনে, নয়া উদ্বেগে দিল্লী

চারদিকে আক্রমণাত্মক ঢঙ্গে চীন। এর চেয়েও মহা-অসুখে পড়েছে ভারত। নিজেদের মধ্যেই রয়েছে চীনের অসংখ্য গুপ্তচর, যারা টাকার বিনিময়ে তথ্য পাচার করছে। দিল্লী থেকে চীনা গুপ্তচর সংস্থাকে তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ফ্রিলান্স সাংবাদিককে। তার সঙ্গে এক চীনা মহিলা এবং তার নেপালি সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ভারতীয় পুলিশের স্পেশাল সেল জানতে পেরেছে মোটা টাকার বিনিময়ে ওই সাংবাদিকের কাছে ভারতের গোপন তথ্য জানছিল এই চিনা মহিলা। ধৃতদের কাছ থেকে অনেকগুলি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, একাধিক গোপন তথ্যের কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে।

লাদাখ পরিস্থিতির পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে গিয়েছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দেশের গোপন তথ্য টাকার বিনিময়ে চীনের গুপ্তচর সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছিলেন এক সাংবাদিক। পুলিশের সন্দেহ এ সংখ্যা আরও বড় হতে পারে।

রাজীব শর্মা নামে ওই ফ্রিলান্স সাংবাদিকের উপর কয়েকদিন ধরেই নজর রেখেছিল পুলিশের স্পেশাল সেল। তারপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, দুই দেশের বৈরিতা সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলছে। লাদাখের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড, অরুণাচল সীমান্তেও নতুন করে নির্মাণ শুরু করেছে চীন। সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই নিয়ে উত্তাপ চড়ছে দুই দেশের মধ্যে।