‘জঙ্গি’ আয়শা জান্নাত আসলে ভারতীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রজ্ঞা দেবনাথ

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার সদরঘাট এলাকায় থেকে গ্রেফতার হয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি-র অন্যতম সদস্য আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুত তাসনিম নামে ২৫ বছরের তরুণী।

বাংলাদেশ পুলিশ জানাচ্ছে ধৃত জান্নাত ধর্মান্তরিত মুসলিম, আদতে তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনেখালিতে। তার পূর্ব নাম প্রজ্ঞা দেবনাথ। ধৃত ‘জঙ্গি’র পিতা-মাতা জানে না জঙ্গি কিংবা জেএমবি কাকে বলে।

তবে তাঁদের মতে, অপরাধী হলে অবশ্যই তার শাস্তি হোক। মেয়ে যদি সত্যিই জঙ্গি হয়। দেশদ্রোহিতার অপরাধে জড়িত হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক। মেয়ের গ্রেফতারের খবর শুনে কাঁদতে কাঁদতে এমনটাই দাবি করলেন ধৃত জঙ্গির মা গীতা দেবনাথ ও বাবা প্রদীপ দেবনাথ।

ধনেখালির মেয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশে গ্রেফতারের খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

প্রজ্ঞার মা গীতা দেবী জানান, গত চার বছর মেয়ের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই। জেএমবি একটা জঙ্গি দল। সেসবের কিছুই জানেন না। আর ওই দলে নাম লেখানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

তবে মেয়ের গ্রেফতারের খবর শুনে প্রজ্ঞার মা-বাবা এক বাক্যে দাবি করেন,যদি সত্যিই তাই হয় তাহলে তার মেয়ের যথোপযুক্ত শাস্তি হোক।

প্রজ্ঞার মা-বাবা আরও জানান, কলকাতায় কাজ করতে যাচ্ছি বলে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রজ্ঞা বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর আর সে বাড়ি ফিরে আসেনি। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে চারিদিকে খোঁজখবর করে তার কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ একদিন প্রজ্ঞা তার মাকে ফোন করে। প্রজ্ঞা তার মাকে জানায় সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের ঢাকায় রয়েছে। মেয়েকে অনেক বুঝিয়েও বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়নি বলে জানান প্রজ্ঞার মাবাবা।

শনিবার সকালেই প্রতিবেশীরা সংবাদমাধ্যমের দ্বারা জানতে পারে ধনেখালির প্রজ্ঞা বাংলাদেশের সদরঘাট এলাকায় সেদেশে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। ওই খবর প্রতিবেশীদের কাছে শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রজ্ঞার মা গীতা দেবনাথ।

আরও জানা গেছে, প্রজ্ঞার দাদু দেবেন্দ্র দেবনাথ কনস্টেবলের চাকরি করতেন। ২০১০ সালে তিনি মারা যান। তারপর থেকেই তাদের সংসার অর্থ সংকটের কবলে পড়ে। সংসার চালাতে বাবা প্রদীপ দেবনাথ দিনমজুরির কাজ শুরু করেন।

মা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে জামা কাপড় বিক্রি করেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের লেখা পড়ার খরচ জোগাতে তাদের কালঘাম ছুটে যেত। তবুও তারা হাজারো কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে চেয়েছিলেন।

প্রজ্ঞা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। ধনেখালি কলেজে সংস্কৃত অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়। তৃতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ না করেই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজে পড়াশোনা করার সময়ই প্রজ্ঞা কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। তাদের পাড়াতে বেশকিছু বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হয়। প্রতিবেশীরা বাধা দিলে বহিরাগতদের আনাগোনা কমে যায়।

অনেক রাত পর্যন্ত প্রজ্ঞা বাড়ির বাইরে থেকে ফোনে কাদের সঙ্গে কথোপকথন করতেন। প্রজ্ঞা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার পর তার নাম হয় আয়েশা জান্নাত মোহনা। শুক্রবার তাকে বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে বাংলাদেশের পুলিশ কর্তারা নাকি জানতে পারেন আয়শা জান্নাত মোহনা জেএমবির নারী বাহিনীর সদস্য।

তিনি আসলে প্রজ্ঞা দেবনাথ ভারতীয় এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পশ্চিমবঙ্গে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ধনেখালিতে প্রজ্ঞার পাড়া প্রতিবেশীরা বুঝে উঠতে পারেনি প্রজ্ঞা কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

প্রসঙ্গত, ইদানীংকালে বেশকিছু হিন্দু তরুণ-তরুণীর মুসলিম জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে কাশ্মীরের এক হিন্দু যুবককে গ্রেফতার কার হয়, যে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া একজন শিখ পুলিশ অফিসারকে আটক করা হয়েছে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে। সূত্র: পূবের কলম

হাসপাতালে ভর্তি সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ

সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ মেডিকেল টেস্টের জন্য রিয়াদে কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার খুব ভোরে রয়েল কোর্ট এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা সউদী প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

এতে বলা হয়, গলব্লাডার বা পিত্তথলির প্রদাহের কারণে বাদশাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছুই বলা হয় নি। এ খবর দিযেছে অনলাইন আরব নিউজ।

গ্রিসে ১০ হাজার মসজিদকে বানানো হয়েছে নাইট ক্লাব, থিয়েটার ও বিনোদনকেন্দ্র

গ্রিসে এক সময় ছিলো মুসলিমদের ঐতিহ্য আর অহংকারের সব স্থাপনা। কিন্তু উসমানী শাসনামলের পতনের পর থেকে সেখানে অনেক মসজিদ হয়েছে নাইট ক্লাব থিয়েটার ও বিনোদনকেন্দ্র। এক কথায় বলা যায় গ্রিসে মুসলিমদের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো এখন অপমানজনক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নবায়নের নামে কিছু মসজিদ পরিণত করা হয়েছে চার্চে।

অনেক মসজিদ পরিণত করা হয়েছে নাইট ক্লাব, থিয়েটার এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনকেন্দ্রে।
গ্রিসে উসমানী শাসনামলের ১০ হাজারের বেশি ইসলামী স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। আয়া সোফিয়াকে নামাজের জন্য খুলে দেয়ায় গ্রিসের সমালোচনার জেরে অনেকেই দেশটিতে অবস্থিত উসমানী স্থাপনাগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

১৪৬৮ সালে গ্রিসের থেসেলোনোকিতে হামজা বে মসজিদটি শুধু নামাজের জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর পর মসজিদের মিনার ভেঙে ফেলা হয়েছে। মিনারের কারুকাজ এবং মূল্যবান পদার্থগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। ধ্বংস করে দেয়া হয় কাঠের মিম্বার।

১৯২৭ সালে গ্রিসের ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানায় আসার পর মসজিদটি বিক্রি করে দেয়া হয়। সেখানে বানানো হয় দোকান ও সিনেমা। ১৯৮০ পর্যন্ত মসজিদটি হল হিসেবে ব্যবহার হয়। লোননিনা প্রদেশের নাদরা অঞ্চলের ফায়েক পাশা মসজিদও গির্জায় পরিণত করা হয়। ১৯৭০ সালে মসজিদটিকে বানানো হয় বিনোদনকেন্দ্র। বর্তমানে মসজিদটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

একইভাবে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মসজিদগুলো পরিত্যক্ত। উসমানী শাসনের পরে রাজধানী এথেন্সের সবচেয়ে পুরনো মসজিদটি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। যার মধ্যে সেনাবহিনীর কারাগার এবং স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করার মতো ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

আরও সংবাদ

গোটা বিশ্বকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছে অতিক্ষুদ্র একটি ভাইরাস: জাতিসংঘ মহাসচিব

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। মৃত্যুপরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সুপার পাওয়ার রাষ্ট্র আমেরিকা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে ব্রিটেন, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিলের মতো রাষ্ট্রগুলোও। অতিক্ষুদ্র এই ভাইরাসের কাছে যেন মুখ থুবড়ে অসহায় হয় পড়েছে বিশ্ব, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব বাণিজ্য।

এমন অবস্থায় আরও অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের কথায়।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সমাজের ‘ভঙ্গুর কঙ্কালটিকে’ প্রকাশ করে দিয়েছে। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বের ১০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, একটি অতিক্ষুদ্র ভাইরাস আমাদেরকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছে। এই মহামারি আমাদের বিশ্বের ভঙ্গুরতা প্রদর্শন করেছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা সবচেয়ে দীর্ঘ বৈশ্বিক মন্দার মোকাবিলা করছি। এই ভাইরাসের কারণে ১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্রের মধ্যে পড়তে পারে। আমরা ঐতিহাসিক অনুপাতে দুর্ভিক্ষেরও সম্মুখীন হতে পারি।

বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসমতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে অসমতা শুরু হয়েছে। তাদের সংস্কারের মাধ্যমে অবশ্যই অসমতা দূর করত হবে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স