অবশেষে ট্রাম্প স্বীকার করলেন তিনি হেরে যাচ্ছেন

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে যাচ্ছেন বলে স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিতে এ স্বীকারোক্তি দেন।

ফক্স নিউজের সঞ্চালক সিন হ্যানিটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার জবাব দেন।

ট্রাম্প বলেন, “সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আপনাদের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন কারণ কিছু মানুষ আমাকে ভালোবাসে না।”

ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর রিপাবলিকান দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে যে, ট্রাম্প সত্যিকার অর্থে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে চান কিনা।

ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার প্রচারের পর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্যাম নানবার্গ বলেন, আধুনিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে পরাজয় মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিএনবিসি টেলিভিশন চ্যানেল এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস গত সপ্তাহে এক জরিপে দেখিয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জো বাইডেনের বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগেরও কম ভোট পাবেন।

সূত্র: পার্সটুডে

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।