নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার গোপন আলোচনায় নিজ দলের নেতারা!

ইহুদিবাদী ইসরাইলের যু’দ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তার দল লিকুদ পার্টির নেতারা গোপন আলোচনা করছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

তিন বছর তদন্তের পর ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল আভিচাই মান্দেলব্লিত (বৃহস্পতিবার) জানিয়েছেন যে, তিনটি ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ এবং ঘুষ গ্রহণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল তার ৬৩ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলেছেন, নেতানিয়াহু তার এক ধনকুবের বন্ধুর কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণ করেছেন এবং বিনিময়ে তিনি তার বন্ধুর স্বপক্ষে ইসরাইলি গণমাধ্যমে ইতিবাচক খবর প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন যাতে তিনি বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে পারেন।

ইজরাইলের চ্যানেল-১২ টেলিভিশন শুক্রবার জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের রিপোর্টের পর লিকুদ পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এ কথা বুঝতে পেরেছেন যে, নেতানিয়াহুর যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং তাকে এখন দলের প্রধান থেকে সরিয়ে দেয়া জরুরি। তারা মনে করেন, নেতানিয়াহুকে দলের প্রধান থেকে সরিয়ে দেয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে গোপন কোনো স্থানে বসে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়া।# সুত্র: পার্সটুডে

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো লাউডস্পিকারে আজান; শুনতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভিড়!

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে প্রথমবার মাইক বা লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ উপলক্ষে এই আজান দেয়া হয়। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ১৫ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে।

আমস্টারডামের ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদটিতে ৮ নভেম্বর প্রথম আজান প্রচার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্ত কিছু দুর্বৃত্তরা অডিও সিস্টেমের তার কেটে দেয়ায় তখন আজান প্রচার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মুসল্লিসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মত আজান শোনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অনেকেই আবেগময় এই মুহূর্তটি তাদের সেল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। আনাদোলু এজেন্সিকে মসজিদের মুখপাত্র নুরদীন ওয়াইল্ডম্যান জানান, এক সপ্তাহ আগের জুমায় এই আজান প্রচার করার কথা ছিল।

কিন্তু বাধা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের জুমায় লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সুখী এবং সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই বিষয়টির সমালোচনা করছে। তবে বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক।

উরসুলা ভ্যান স্পর্নসেন নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন জানান, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। আজান শোনার জন্যই প্রথমবার এই মসজিদে আসেন। এটি শুনতে অনেক ভালো লাগছিল। প্রসঙ্গত, নেদার‌ল্যান্ডজুড়ে শতকরা ৭ ভাগ মসজিদে বছরের পর বছর ধরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করা হয়।

রাজধানী আমস্টারডামে এই প্রথম আজান প্রচার করা হল। নেদার‌ল্যান্ডের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রণীত একটি আইনে সব ধর্মের মানুষকেই তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য আহ্বান জানানোর অনুমতি দেয়া হয়।

তবে আইন অনুযায়ী পৌরসভা আজানের শব্দের মাত্রা কমিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু কোনভাবেই আজান প্রচার বন্ধ করতে পারে না। নেদার‌ল্যান্ডে প্রায় ৫০০টির মত মসজিদ রয়েছে।