মসজিদুল আকসা রক্ষায় বিশ্বের সব মুসলিম দেশকে ঐক্য হওয়ার আহব্বান

ইরানের রাজধানী তেহরানে ৩৩তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলন শেষ হয়েছে। শনিবার রাতে সম্মেলনের সমাপনী বিবৃতিতে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা মসজিদুল আকসা রক্ষার ওপর সর্বাত্মক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদুল আকসা গোটা বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র স্থান।

এই মসজিদে হা’মলা ও অবমাননার বিরু’দ্ধে সব মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মসজিদুল আকসায় হা’মলার ঘটনাটি মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর বিরু’দ্ধে বিপ’জ্জনক ষড়য’ন্ত্রে ল’রই অংশ। এ বিষয়ে এখনই সবাইকে সোচ্চার হতে হবে এবং দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হা’মলার নিন্দা জানানো হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি আ’গ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে। তারা গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারেরও জানিয়েছেন। সম্মেলেনের সমাপনী বিবৃতিতে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন,

মসজিদুল আকসা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রশংসা এবং ইরানের বিরু’দ্ধে মার্কিন নিষেধা’জ্ঞার নিন্দা জানানো হয়। ‘মসজিদুল আকসা রক্ষায় মুসলমানদের ঐক্য’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে তেহরানে গত শুক্রবার থেকে ইসলামি ঐক্য সম্মেলন শুরু হয়ে তা শনিবার রাত পর্যন্ত চলে। এতে বিশ্বের ৯০টি দেশের ৪০০ জন ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেম অংশ নেন।

হিন্দু হয়েও মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বাবরি মসজিদের জন্য লড়েছেন রাজীব ধাওয়ান!

নিজে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও নিজের ধর্মের মানুষদের বি’রুদ্ধে গিয়ে মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বাবরি মা’মলা য় ইনসাফ পাইয়ে দেয়ার জন্য লড়েছেন মুসলিম পক্ষের হয়ে প্রধান আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান। পেয়েছেন খু’নের হু’মকি।

আদালতে ও আদালতের বাইরেও ছিল প্রাণ যাওয়ার ভয়। কিন্তু দমে যাননি ৭৪ বছরের রাজীব ধাওয়ান। ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাবরি মসজিদের জায়গায় হবে রামমন্দির। মুসলিমদের জন্য অয্যোধ্যার অন্যত্র ৫ একর জমি দেয়া হবে।চার দশকের বেশি

সময় ধরে বাবরি মা’মলার সঙ্গে থাকা আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানিও মুগ্ধ ধাওয়ানের প্রতি। শুনানির শেষ দিন মুসলিম পক্ষের আইনজীবী ধাওয়ান অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানের একটি ম্যাপ ছিঁড়ে ফেলেন। এটা নিয়ে মিডিয়ায় বেশ হইচই হয়।

সাবেক আইপিএস অফিসার কিশোর কুনালের লেখা বই ‘অযোধ্যা রিভিজিটেড’- এ ছিল এই ম্যাপটি। এ নিয়ে জিলানি বলেন, আইনজীবী ধাওয়ান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর অনুমতি নিয়ে এটি ছিঁড়েছিলেন। চলমান মা’মলার শুনানির সঙ্গে এই ম্যাপের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

তাই হয়তো প্রধান বিচারপতি ছেঁড়ার নির্দেশ দেন। এক শ্রেণির মিডিয়া এটি নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করছে মন্দির নিয়ে মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় করার জন্য।রাজীব ধাওয়ান বরাবরই যুক্তি ও প্রমাণের সঙ্গে সওয়াল করে এসেছেন, বাবরি শরিয়া অনুযায়ী একটি মসজিদ।

ভেঙে ফেলেছে বলে ওটার মসজিদ চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় না। যেটা একবার মসজিদ, সেটা সবসময়ই মসজিদ। সেটা যদি পরি’ত্যক্ত হয়, কিছু দিন নামায বন্ধ থাকে তবুও সেটা অন্য কিছু হয়ে যায় না, মসজিদই থাকে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রামের জন্মস্থান নিয়ে বিপক্ষের দলিল সম্পর্কে। রামের জন্মস্থান যে ওই বিতর্কিত স্থানেই, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণের দাবি তুলেছিলেন ধাওয়ান। রায় নিয়ে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন।

ভেবেছিলেন, তিনিই জিতবেন। কিন্তু, তাকে হতা’শ হতে হয় রায়ে। নতুন সরকার আসে, আর ইতিহাস পাল্টানোর খেলা কেন শুরু হয়ে যায়, প্রশ্ন তুলেছিলেন এই লড়াকু আইনজীবী।রাজীব ধাওয়ান বেশ কিছু বইও লিখেছেন আইন নিয়ে।

এর মধ্যে Juristic Techniques in the Supreme Court of India 1950-1971 in Some SelectedAreas of Public and Personal Law, The Supreme Court of

India and parliamentary sovereignty: a critique of its approach to the recent constitutional crisis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সারা জীবন ইনসাফের জন্য লড়াই করেছেন।

কিন্তু শেষ পর্বে এসে হয়তো তাকে হতাশ হতে হয়েছে। তিনি হেরে গিয়েছেন। কিন্তু, ভারতের গৌরবময় সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারেনি। বাবরি মসজিদের জন্য লড়েছিলেন রাজীব ধাওয়ান নামের এক হিন্দু- ইতিহাস সেটা অবশ্যই মনে রাখবে।