আমরা যুদ্ধ চাই না তবে শুরু হলে ছাড় দেব না : জাতিসংঘে ইরানি দূত

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা কিংবা সংঘাত চায় না তার দেশ, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবেলায় নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে ইরান।

আমেরিকা যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে শুরু করেছে তখন তিনি একথা বললেন। আমেরিকার ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাভাঞ্চি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ইরান অথবা আমেরিকা কারো স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।

আমরা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের জন্য মোটেই আগ্রহী নই। কারণ একটুখানি ভুলের জন্য ইরান, আমেরিকা ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।” তার এ সাক্ষাৎকার গতকাল (বৃহস্পতিবার) সম্প্রচার হয়।

তাখতে রাভাঞ্চি বলেন, ইরান যুদ্ধকে কোনো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে না কিন্তু দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের মুখে তাকে প্রস্তুত থাকতে হয় এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তাখতে রাভাঞ্চি বলেন, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই ইরান এ সমঝোতার কিছু অংশ বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইরান এখনো আমেরিকার মতো পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে নি।

ফিলিস্তিনির গাজাবাসীকে ১৫ লাখ ডলার অনুদান দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

টবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো টবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজের ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ফিলিস্তিনির অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সংকটাপন্ন লোকজনকে ১৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। গাজাবাসীর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে এমন আশাতে রোনালদো এ অনুদান দেন।

ফুটবল জগতের খ্যাতিমান এ তারকা বেশ কয়েকবার ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ২০১২ সালে রোনালদো তার গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন এবং সেই অর্থ ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য দান করেছিলেন।

গাজার শিশুরা ২০১৩ সালে পর্তুগাল ও ইসরাইলের মধ্যকার এক ফুটবল ম্যাচ শেষে জার্সি বদলের জন্য ইসরাইলি খেলোয়াড়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন রোনালদো। ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকা ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবরোধের মধ্যে রয়েছে।

এর ফলে সেখানকার জনগণের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে নেমে গেছে। পাশাপাশি মারাত্মক রকমের বেকারত্ব ও সীমাহীন দারিদ্রতা দেখা দিয়েছে গাজা উপত্যকায়। পার্সটুডে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে হামলার জন্য আমেরিকার ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না!

রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত হায়দার মানসুর হাদি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য আমেরিকাকে তার দেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ইরাকি রাষ্ট্রদূত এ কথা বললেন।

গতকাল (বুধবার) মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকি রাষ্ট্রদূত বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ দেখতে চায় না ইরাক। ইরাক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। আমরা আমাদের ভূখণ্ড আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেব না।”

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদি এর আগে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদিও একই কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করে ইরাক দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরাক পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, আমরা সমাধানের অংশ হব, সংকটের অংশ হব না।”

আমেরিকা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। শুধু তাই নয় ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও কন্স্যুলেট ভবন থেকে জরুরি নয় -এমন লোকজনক দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে।