যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যে চীন-রাশিয়ার পাশে ইরান

ছবি: এএফপি

চার বছর আগে বিশ্বের ছয় শক্তির সঙ্গে সই করা পরমাণু চুক্তি রক্ষায় চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।-খবর এএফপির

ইরানের কাছ থেকে আসা হুমকির মোকাবেলায় গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার বেইজিং সফরে জারিফ বলেন, আজকে আমাদের অঞ্চলের চলমান বিভিন্ন বিপজ্জনক ইস্যু ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত জলপথের একটি পারস্য উপসাগরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ছোট ছোট নৌকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের একটি ছবির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বুধবার ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে অগুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরান-সংশ্লিষ্ট শিয়া মিলিশিয়াদের কাছ থেকে হুমকির আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে দেশটি বলেছে, তারা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই জয়েন্ট কমপ্রেহেনসিভ প্ল্যান ফর অ্যাকশন(জেসিপিওএ) নামে পরিচিত পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন জাভেদ জারিফ। ২০১৫ সালে চীন, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি সই করে ইরান। এতে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু বছরখানেক আগে চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে ইরানের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাভেদ জারিফের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অধিকাংশ সময় বিবৃতি দেয়া ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জেসিপিওএ’র সদস্য দেশগুলো, চীন-রাশিয়ার মতো আমাদের বন্ধুরা যদি এই অর্জন ধরে রাখতে চায়, তবে এই চুক্তি থেকে ইরানি লোকজন লাভবান হচ্ছে বলে নিশ্চিত করতে হবে তাদের।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে হামলার জন্য আমেরিকার ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না!

রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত হায়দার মানসুর হাদি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য আমেরিকাকে তার দেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ইরাকি রাষ্ট্রদূত এ কথা বললেন।

গতকাল (বুধবার) মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকি রাষ্ট্রদূত বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ দেখতে চায় না ইরাক। ইরাক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। আমরা আমাদের ভূখণ্ড আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেব না।”

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদি এর আগে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদিও একই কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করে ইরাক দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরাক পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, আমরা সমাধানের অংশ হব, সংকটের অংশ হব না।”

আমেরিকা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। শুধু তাই নয় ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও কন্স্যুলেট ভবন থেকে জরুরি নয় -এমন লোকজনক দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে।