ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা জাপানের!

ইরানের সাথে ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে।বৃহস্পতিবার রাজধানী টোকিওতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সাথে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অ্যাবে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।তবে ইরানের সাথে ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক বজায় রাখবে জাপান। এদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।চলমান সংকট শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য দেশ দুটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ড. মুহাম্মাদ ফয়সাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “যুদ্ধ আমেরিকা বা ইরান কারো স্বার্থই রক্ষা করবে না।

কাজেই চলমান উত্তেজনায় সামান্য ভুল বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ফলে দু দেশেরই উচিত- সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালানো। অন্যদিকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত হায়দার মানসুর হাদি।

বুধবার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার কারণে ইরাক ধ্বংস হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ দেখতে চায় না ইরাক। ইরাক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ।

কাজেই ইরানে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেছেন,‘ইরান ও আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করে ইরাক দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।ইরাক সমাধানের অংশ হতে পারে, সংকটের নয়।’

সৌদি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল’

পারস্য উপকূলে সৌদি আরবের তেল ট্যাংকারে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টারি মুখপাত্র বাহরুজ নেমাতি।মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাহরুজ নেমাতি বলেন, আমিরাত উপকূলে সৌদি জাহাজে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার মূলে রয়েছে ইসরাইল।

সোমবার সৌদি আরব বলেছে, আরব আমিরাতের উপকূলে যে জাহাজে হামলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি তাদের। ইরানের সঙ্গে মার্কিন উত্তেজনার মধ্যে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের নিরাপত্তাকে খর্ব করার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে আরব আমিরাতের জলসীমার কাছে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ নাশকতামূলক হামলা হয়েছে। যার দুটির স্বত্বাধিকারী সৌদি আরব। আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে একশ ১৫ কিলোমিটার দূরে ফুজাইরার কাছে এই চারটি জাহাজে নাশকতা চালানো হয়েছে।

এসব বাণিজ্যিক জাহাজে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ছিলেন। আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করছে। আরব আমিরাত জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে নাশকতার লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং ক্রু সদস্যদের জীবন হুমকিতে পড়ার এই ঘটনা ভয়ঙ্কর।

এক্ষেত্রে এ ঘটনাকে সামুদ্রিক জলসীমায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে আরব আমিরাত। এদিকে ইরান এ হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তদন্তের দাবি করেছে।