নয়া কৌশালে আমেরিকাকে চুরমার করতে প্রস্তুত ইরান

নয়া কৌশালে আমেরিকাকে চুরমার করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত বলে হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কৌশলগত পরিষদের প্রধান কামাল খাররাজি।ফ্রান্সের গণমাধ্যমে ‘ফ্রান্স২৪’ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন।

বুধবার এ খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদ মাধ্যম ইরনা। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর চাপ রাখা।কিন্তু ইরানকে চাপে রাখা সম্ভব নয়।বিগত ৪০ বছর ধরে আমেরিকা ইরানের বিরোধীতা করে আসছে কিন্ত কোন ভাবেই কোনঠাসা করতে পারছে না।ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন,ইরানে সমরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি হবে ভয়াবহ।এজন্য সবাইকে সাবধান হওয়া উচিত। কামাল খাররাজি বলেন, ইরানের প্রতি আমেরিকার বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়।কিন্তু আমেরিকা যদি ইরানের তেল বিক্রি বন্ধের পায়তারার করে তবে তাদের এ কথা জেনে রাখা উচিত ইরান জাতীয় স্বার্থ ও তেল রফতানির ওপর ভিত্তি করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে সক্ষম।

এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি বলেছেন,মার্কিন ও ইসরাইলি জোটকে পরাজিত করবে ইরান। তিনি বলেন, আমরা মার্কিন- ইসরাইলিদের পরাজিত করবো। যেকোনো ধরনের হুমকি ও অতিরিক্ত দাবির মোকাবেলায় ইরানের সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে।

আমেরিকাকে মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানজাদি। মার্কিন বাহিনীকে তিনি পারস্য উপসাগর ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে খানজাদি বলেন, এই অঞ্চলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় আঞ্চলিক প্রতিবেশি দেশগুলোর সহায়তার জন্য হাত প্রসারিত করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, খানজাদির এই আহ্বান স্পষ্টতই উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে জানানো হয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর ওয়াশিংটনের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বাড়ছে।

তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার বর্ষপূতির দিনে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে রোববার আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এরমধ্যে তাদের দুইটি তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে। দুইটি সৌদি ট্যাঙ্কারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনায় ইরানকে সন্দেহের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানবিরোধী হুমকির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তার ফলাফল তেহরানের জন্য ভালো হবে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমান শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। আমির আলি হাজী জাদেহ বলেছেন, অতীতে ৪০ থেকে ৫০টি বিমান ও ছয় হাজার সেনাসহ একটি যুদ্ধজাহাজ আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকি ছিল। কিন্তু এখন তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আর হুমকি সুযোগে পরিণত হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকানরা কোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা তাদের মাথা ভেঙে দেব। ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।