আমেরিকাকে মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ইরান!

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানজাদি। মার্কিন বাহিনীকে তিনি পারস্য উপসাগর ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে খানজাদি বলেন, এই অঞ্চলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় আঞ্চলিক প্রতিবেশি দেশগুলোর সহায়তার জন্য হাত প্রসারিত করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, খানজাদির এই আহ্বান স্পষ্টতই উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে জানানো হয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর ওয়াশিংটনের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বাড়ছে।

তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার বর্ষপূতির দিনে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে রোববার আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এরমধ্যে তাদের দুইটি তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে। দুইটি সৌদি ট্যাঙ্কারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনায় ইরানকে সন্দেহের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানবিরোধী হুমকির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তার ফলাফল তেহরানের জন্য ভালো হবে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমান শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। আমির আলি হাজী জাদেহ বলেছেন, অতীতে ৪০ থেকে ৫০টি বিমান ও ছয় হাজার সেনাসহ একটি যুদ্ধজাহাজ আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকি ছিল। কিন্তু এখন তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আর হুমকি সুযোগে পরিণত হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকানরা কোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা তাদের মাথা ভেঙে দেব। ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা থাকলেও যুদ্ধ হবে না: আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেশের উত্তেজনা আছে। তবে উত্তেজনা থাকলেও যুদ্ধ হবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধান, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

খবর তেহরান টাইমসের। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যে সংঘাত তা সামরিক পর্যায়ে যাবে না। আসলে এখানে যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনাই নেই। তিনি বলেন, আমেরিকা যদি কোনো ধরনের সংঘাতে যায়, তবে সেই সংঘাত মোকাবেলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে ‘আকাঙ্ক্ষার সংঘাত’ উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তবে এ উত্তেজনায় কোনো যুদ্ধের জন্য নয়।

আর যদি কোনো যুদ্ধ বাধেও তবে শেষ পর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা বিষপানের সমতুল্য।

তারা চায় আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ফেলি। আর এর পর তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা যাতে তাদের পাল্টা জবাব দিতে না পারি। কেউ বোকার স্বর্গে বাস করলে নিজের শক্তিমত্তার উৎস নিয়ে এমন আলোচনায় বসে, বলেন তিনি।