ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়ে পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করল ইরান

চুক্তির শর্ত পূরণ না করায় ফের পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করল ইরান। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইরানের পরমাণু রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের কর্মসূচিতে-

কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।
গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহানি জানিয়েছিলেন, শুক্রবার থেকে ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া আরও কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত করবে।

তৃতীয় পর্যায়ের এ পদক্ষেপ অনুসারে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা দ্রুতগতিতে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যে সমস্ত কাজ তা আবার শুরু করবে। প্রেসিডেন্ট রুহানি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের আওতায় ইরান নানা রকমের নতুন সেন্ট্রিফিউজ বসাবে এবং

দেশের জন্য যে মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন সেই মাত্রায় দ্রুতগতিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। তবে ইরানের কর্মসূচি আগের মতোই শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

এ বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিকে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেছেন, ইউরোপের তিন দেশ- ব্রিটেন,

জার্মানি এবং ফ্রান্স পরমাণু সমঝোতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় ইরান তৃতীয় ধাপে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত করছে। বিষয়টি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেছেন,

১৬ মাস আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অব্যাহতভাবে এ সমঝোতা যে লঙ্ঘন করে আসছে। তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পরমাণু রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের কাজ শুরু করল।

মুসলিম বিশ্বের ঘৃনা থেকে বাঁচতে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন দিতে চায় সৌদি-আমিরাত

এবার কাশ্মীর ইস্যুতে অবৈধ দখলদার ভারত এর একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্টি হওয়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়ার আকাংখা ব্যাক্ত করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আহমেদ আল যুবায়ের এবং সংযুক্তর আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল নাইয়ান কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। খবর ডনের। রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠকের সময় এ

আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় ও ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রশংসা করেছে। জেনারেল বাজওয়া বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিশেষ কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে গর্বিত।

এর আগে বুধবার দুই মন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী দফতরের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়,

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ও উপত্যকাটির সবশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে ইমরান খান সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। বিশেষত গত এক মাস

যাবৎ সেখানে কারফিউর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ উপত্যকাটিতে বসবাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।

ইমরান খান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরাতে ভারত নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি করবে বলেও আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দফতরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি ও

আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ দেশের অবস্থান ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে তারা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রতি জোর দেন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কাশ্মীরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি ও আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশ দু’টি সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও মতামত প্রদান করেন তারা।

তবে কাশ্মীরকান্ডের পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করে ইউনাইটেড আরব আমিরাত, এতে মুসলিম বিশ্ব ক্ষেপে যায় এবং নিন্দার ঝড় উঠতে শুরু করে আরব আমিরাত সহ সৌদির উপর।

এতে নাটকিয়ভাবে পিছু হটে দুই যুবরাজ। তারা বুঝতে পারে যে পাকিস্তানকে ভয় দেখানোর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদি ভারতীয় সরকার যে কাশ্মীরে বিজেপি ও আরএসএসের কুত্তাদের লেলিয়ে দিয়েছে সেখানে পাকিস্তানতো দুরের কথা উল্টো তাদের

নিজেদের মসনদ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যেতে পারে যে কোন মুহুর্তে, একারনেই মূলত মুসলিমদের কনভিন্স করতে এই সমর্থন নামক নাটকের অবতারণা হয়েছে বলে মনে করেন অনেক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।