আমেরিকার সঙ্গে দুই বছর আলোচনা করেছি; আর নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তার দেশের পরমাণু সমঝোতা যতখানি মেনে চলবে তেহরানও তা ততখানি বাস্তবায়ন করবে। মালয়েশিয়ার-

‘বারনামা’ বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জারিফ একথা বলেন, যা শুক্রবার প্রকাশিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইউরোপীয়দের আমেরিকার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়,

তবে সেটা একান্তই তাদের ব্যাপারে এবং এখানে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ২০১৫ সালে একটি ফলাফল অর্জন করেছি।

সে ফলাফল ছিল ১৫৯ পৃষ্ঠার পরমাণু সমঝোতা। ওই সমঝোতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি তেহরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

জারিফ বলেন, ইরান, চীন ও রাশিয়া এ সমঝোতা এখন পর্যন্ত মেনে চললেও ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পক্ষ থেকে তা মেনে চলার কোনো লক্ষণ নেই। এর অর্থ হচ্ছে, এ সমঝোতা বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিন ইউরোপীয় দেশের কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই।

মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যায়। এরপর ওয়াশিংটন তার সঙ্গে তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে।

কিন্তু আমেরিকা এখন পর্যন্ত ইরানকে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি করাতে পারেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সম্পর্কে তার সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যেসব চুক্তি সই করেছেন সেসব ভালো নাকি মন্দ তা বিবেচনা না করেই শুধুমাত্র ওবামা-বিদ্বেষ থেকে ট্রাম্প সেসব চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ড্যানিস রস মার্কিন সরকারের বর্তমান ইরান-বিদ্বেষী নীতি সম্পর্কে বলেছেন,

চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে কাবু করার যে আশা ট্রাম্প করেছিলেন তাতে তিনি চরম ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ড্যানিস রস লিখেছেন, ইতিহাস সাক্ষ‍্য দেয়, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এদিকে আমেরিকা ও কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশ এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, পাশ্চাত্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতায় দেয়া ১১টি প্রতিশ্রুতির একটিও পালন করেনি অথচ তারা ইরানের কাছ থেকে এ সমঝোতার বাইরে আরো কিছু মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, সে আহ্বানে সাড়া দেয়ার কথা বিবেচনা করবে না তেহরান বরং যতক্ষণ ইউরোপীয়রা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করবে ততদিন ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিমাণ কমাতে থাকবে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উঠছে কাশ্মীর ইস্যু; স্বাগত জানাল পাকিস্তান

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি। একে অনেক বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি মার্কিন প্রতিনিধি প্রতিনিধি পরিষদের উদ্যোগকে শনিবার স্বাগত জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপের সময় শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুটি আন্তর্জাতিকভাবে আবারো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের জন্য সারা বিশ্বের মানুষ এগিয়ে আসছেন। কাশ্মীরি জনগণের উপর ভারতীয় বাহিনীর নি’র্যাতন কাশ্মীরি জনগণের উপর-

ভারতীয় বাহিনীর নি’র্যাতনের ব্যাপারে সারাবিশ্বে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আমেরিকায় বসবাসরত পাকিস্তানি কমিউনিটি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার প্রশংসা করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি জনগণ কাশ্মীর ইস্যুটিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক সাব-কমিটি এশিয়ার সভাপতি ব্র্যাড শেরমান ঘোষণা করেন,

শিগগিরই এ সাব কমিটি কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি করবে। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাব কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরবে এবং এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে কাশ্মীর ইস্যু তোলা হয়েছে।