ওবামা-ট্রাম্প-বাইডেন একে অন্যের চেয়ে ভয়ংকর: সোলাইমানির মেয়ে

ওবামা-ট্রাম্প-বাইডেন একে অন্যের চেয়ে ভয়ংকর: সোলাইমানির মেয়ে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়; নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণে ইরানের প্রতি মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। রুশ গণমাধ্যম আরটি’কে দেয়া সাক্ষাতকারে এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন ড্রোন হামলায় ‍নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মেয়ে জয়নাব সোলাইমানি।

‘বাইডেন এবং ট্রাম্পের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা একইরকম। তারা একইনীতি অনুসরণ করে। তাদের মধ্যে কোনো অমিল নেই। ট্রাম্প আমার বাবাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। বাইডেন ওই নির্দেশকে সমর্থন করেছে। সুতরাং কোনো পার্থক্য নেই।’

বুধবার প্রচার হতে যাওয়া আরটি’র আফশিন রতানসীর গোয়িং আন্ডারগ্রাউন্ড অনুষ্ঠানে জয়নাব এ কথা বলেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত।

আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত জয়েন্ট কমপ্রেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জয়নাব সোলাইমানি বলেন, অতীত ইতিহাসের কারণে বাইডেনকে নিয়ে এখনও সন্দেহের অনেক কারণ রয়েছে।

বারাক ওবামা প্রশাসন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস যা আনুষ্ঠানিক নাম আইসিস) তৈরি করেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ে ফেলে দিয়েছে। বাইডেন তাতে সমর্থন দিয়েছে। গেলো কয়েক দশক ধরে ইরানের প্রতি মার্কিননীতি একই রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সত্যি এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সমস্যা তাদের নীতি, যা পরিবর্তন হবে না। তারা একইরকম ব্যক্তি। একই তাদের মানসিকতা। তাদের কার্যক্রমও এক। এবং তারা একজন থেকে আরেকজন আরও ভয়ংকর।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনাকে হুমকিতে ফেলেছিলেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। এতে ওয়াশিংন ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই ট্রাম্প সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। বলেন জয়নাব।

চলতি বছরের শুরুতে ইরাকের বাগদাদ ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন কাসেম সোলাইমানি। এসময় তার গাড়িবহরে ইরাকের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন। কাসেম সোলাইমানি হত্যায় ইরানজুড়ে নজিরবিহীন শোক পালন করা হয়। শোক নেমে আসে ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও।

সোলাইমানিকে দানব হিসেবে অবিহিত করতো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জন্য সত্যিকার অর্থেই তিনি তাই ছিলেন। জয়নাব বলেন, তার বাবা দেশের এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কাজ করেছেন।

আমার বাবা নিজেরে কাজগুলো খুব ভালো কাজে করেছেন। তাই তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে। আপনি দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তারা যতগুলো পরিকল্পনা করেছে সবগুলো ভেস্তে গেছে। যেখানে তারা অনুপ্রবেশ করতে চেয়েছে, আঘাত করতে চেয়েছে, ইরান তা ব্যর্থ করে দিয়েছে। অবশ্যই আমার বাবা তাদের জন্য অনেক বড় দৈত্য। কিন্তু বাস্তবে আমরা বাবা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেছেন।

সোলাইমানিকে হত্যা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় নয়। এ হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিয়েছে। ইরানসহ এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড অনেক সাধারণ মানুষকে সোলাইমানির পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় অনুপ্রাণিত করেছে; হুঁশিয়ার করেন জয়নাব।

‘আমার বাবাকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তারা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মেরে ফেলেছে। তারা ভুল। ভুল তাদের চিন্তা। জেনারেল সোলাইমানি শেষ হয়ে যায়নি; বরং সোলাইমানির অনুসারীদের যুগের শুরু হয়েছে।’ বলেন জয়নাব।

ইরানের প্রতি সবশেষ নৃশংসতা সম্পর্কেও সাক্ষাতকারে কথা বলেন জয়নাব। নভেম্বরের শেষ দিকে ইরানের শীর্ষ পরামণু বিজ্ঞানী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। রাজধানী তেহরানের কাছে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কোনো মানুষ অংশ নেয়নি। স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে খুন করা হয়। জয়নাব বলেন, শুধুমাত্র দেশের কাজ করায় তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

‘তারা খুব সহজে, তার দেশে, তার স্ত্রীর সামনে তাকে খুন করেছে। কিভাবে তাদের সাহস হয়, আমাদের দেশে এসে, আমাদের মানুষকে রাস্তায় ফেলে, এতো সহজে হত্যা করে যায়?’

ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ইসরাইলের তাণ্ডব

ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ইসরাইলের তাণ্ডব
এবার জেরুজালেমে একটি মুসলিম কবরস্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ওই কবরস্থানে সোমবার (১৪ অক্টোবর) অবৈধভাবে অভিযান পরিচালনা করে তারা।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, জেরুজালেম পৌরসভার ইহুদি কর্মকর্তা এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীসহ বুলডোজার দিয়ে জেরুজালেমের আল-ইউসুফিয়ে কবরস্থানের দেয়াল এবং উত্তর পাশের সিঁড়ি ভেঙে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা মুসলিম কবরস্থানে ভাঙচুর চালাতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করলেও কর্ণপাত করেনি তারা। কেন ভাঙচুর চালানো হল, এ বিষয়ে তেল-আবিবের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর ১০ দিন আগেও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ একই স্থানে ভাঙচুর চালাতে আসলে ফিলিস্তিনিদের তোপের মুখে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। প্রতিবাদ জানালে কার্যক্রম স্থগিত রাখে।
ইসরাইলি বাহিনী বিভিন্ন সময় পশ্চিম উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বসতি নির্মাণ করে আসছে। এতে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলো

তুরস্কে মার্কিন ছোবল: এরদোয়ানের পাশে থাকার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপে তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির পাশে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) নিজের টুইটারে বিষয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।

একই টুইটে জাভেদ জানান, নিষেধাজ্ঞার আসক্তি থেকেই আন্তর্জাতিক আইন-এর প্রতি অবজ্ঞা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনা, ন্যাটোভুক্ত দেশ হয়েও ন্যাটোভুক্ত দেশ নয় এমন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র চুক্তি করার দায়ে (১৪ ডিসেম্বর) তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্কের এস-৪০০ সংগ্রহ করার ঘটনা ন্যাটো জোটের নীতির পরিপন্থি এবং এই জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ঘোষণা করে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের লজিস্টিক ও সমরাস্ত্র খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান সরবরাহের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল।

মার্কিন সরকার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজারবাইজানে তুর্কি ড্রোনের কাছে আর্মেনিয়ার শোচনীয় পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কের উপর নাখোশ মনোভাব আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আঙ্কারার সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবেন তার উপরই নির্ভর করছে দু’দেশের অবস্থান।

‘তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প তার উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের (এসএসবি) প্রধান ইসমাইল দেমির।

রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশ কেনার কারণে ওয়াশিংটনের দেয়া অবরোধের প্রেক্ষিতে ইসমাইল দেমির বলেন, ‘দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে এবং তা আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে। বরং এ পদক্ষেপটি জ্বলে উঠা ও সতর্কতা হিসেবে প্রতিফলিত হবে।

পার্লামেন্টে দেয়া বাজেট বক্তৃতার পর সাংবাদিকদের দেমির আরো বলেন, ‘আমরা আশা করবো, এতে আমাদের সম্পর্কে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত সোমবার রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের উপর অবরোধ আরোপ করে।

দিমির ও অপর তিনজন কর্মকর্তাসহ এসএসবিকে লক্ষ করে কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্টের (সিএএটিএসএ) আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ন্যাটো সদস্যপদের কথা উল্লেখ করে দেমির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আঙ্কারার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে। উভয় পক্ষই এ সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালের এপ্রিলে তুরস্ক এস-৪০০ কেনার জন্যে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন এই বলে যে, এটা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে মানানসই না। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের এফ-৩৫ জেটের অনেক কিছু রাশিয়ার কাছে চলে যাবে।

তবে তুরস্ক বলছে, এস-৪০০ ন্যাটো ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত হবে না, এবং এটা ওই জোট ও তার অস্ত্রশস্ত্রের জন্য কোনো হুমকি হবে না।

সূত্র: ইয়েনি সাফাক