তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাল ইরান; পাশে থাকার আশ্বাস

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আজ (মঙ্গলবার) এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসক্তির বিষয়টি আবারো স্পষ্ট হয়েছে। এ সময় তিনি তার টুইটার পোস্টে ‘প্রতিবেশীরাই অগ্রাধিকারী’ বাক্যটি হ্যাশট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা তুরস্কের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানাই এবং আমরা দেশটির জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি।”

রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল (সোমবার) ঘোষণা করেছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের লজিস্টিক ও সমরাস্ত্র খাতকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল।

মার্কিন সরকার সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরো তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুরস্কের খাতগুলোর জন্য আমেরিকা থেকে কোনোকিছু আমদানি করা যাবে না এবং আমেরিকায় থাকা এসব খাতের সম্পদ জব্দ করা হবে। পার্সটুডে

নিষেধাজ্ঞায় কিছুই যায় আসে না: আমেরিকাকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি

মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা।

রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের জেরে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানাগেছে।

এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত অকতাই বলেছেন, মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিছুই যায় আসবে না; বরং প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগানের নেতৃত্বে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

এক টুইটবার্তায় তুর্কি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, কারও নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করে না তুরস্ক। আমরা মার্কিন এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আশা করি মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং তুরস্কের ওপর আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার মুস্তফা সেনতপ ও এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিনও পৃথক টুইটবার্তায় এর নিন্দা জানিয়েছেন।

মূলত আমেরিকার হুমকি উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘটনায় তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্ক আড়াইশো কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি করে। এই চুক্তির আওতায় তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কথা নিশ্চিত করে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে জঙ্গিবিমান, ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সহজে ধ্বংস করা যায়।

এছাড়া, ভূমিতে স্থাপিত যেকোনো স্থাপনার বিরুদ্ধেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরী।

গত বছরের জুলাই মাসে রাশিয়া তুরস্কের কাছে এস-ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কয়েকটি চালান সরবরাহ করে।

তুরস্কের উপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা

বিরোধ চলছিল প্রায় এক বছর ধরে। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেনার পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। আমেরিকা বলছে, এ কাজ ন্যাটোর নীতি বিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের কাছে বিপদের কারণ।

ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শাসনের একেবারে শেষ সময় এসে তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। তবে এ নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের সামরিক সাজ-সরঞ্জাম কেনার জন্য দায়িত্ব পাওয়া এজেন্সি ও তার সাথে যুক্ত অফিসারদের উপর লাগু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা তুরস্কের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে একাধিকবার জানিয়েছে, তারা যদি এস ৪০০ সিস্টেম কেনেন, তা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ও প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষেত্রে রাশিয়া ঢুকে যাবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের হাতে প্রচুর অর্থ চলে আসবে। এ সবই আমেরিকার চিন্তার কারণ।’

পম্পেও বলেন, ‘তুরস্কের সামনে বিকল্প সিস্টেমও ছিল। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ওই সিস্টেমই ব্যবহার করে। তুরস্ক হলো আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু দেশ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকার শরিক দেশ। আমেরিকা চায়, তুরস্কের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় থাক, সামরিক সহযোগিতা বজায় থাক। কিন্তু সেটা করতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এস ৪০০-এর বাধা দূর করতে হবে।’

জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (তুরস্ক) আমেরিকার এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা খারিজ করছেন ও এই সিদ্ধান্তের নিন্দাকরছেন।’

তুরস্কের মিলিটারি প্রকিওরমেন্ট এজেন্সি এসএসবির প্রধান ইসমাইল ডেমির জানিয়েছেন, ‘এর ফলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি হবে না। তুরস্ক নিজের দেশে সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলবেই।’

আঙ্কারা আগে জানিয়েছিলেন, ‘তুরস্ক প্রথমে মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা তা বিক্রি করতে রাজি হয়নি। তখন তারা রাশিয়ার সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া গ্রিসও রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপনাস্ত্র কিনেছে। আমেরিকা তাদের কিছু বলেনি। অথচ তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এটা দ্বিমুখী নীতি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার মাস খানেক আগে এ সিদ্ধান্ত নিলেন।
অবশ্য এ ক্ষেত্রে বাইডেনও মনে করেন, তুরস্ক রাশিয়ার মিসাইল সিস্টেম কিনে ভুল কাজ করেছে। অক্টোবরে তুরস্ক প্রথমবার রাশিয়ার মিসাইল পরীক্ষা করে দেখে। তখনই আমেরিকা তাদের সাবধান করে দিয়েছিল।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে