ইরানের ওপর থেকে উঠে গেল অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: তেহরানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

ইরানের ওপর থেকে আজ (রোববার) সকালে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিভাবে উঠে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আজ ভোর রাতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ (১৮ অক্টোবর) থেকে ইরান কোনো আইনগত বাধা ছাড়াই যেকোনো দেশের কাছ থেকে নিজের প্রয়োজনমতো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং যেকোনো দেশের কাছে বিক্রি করতে পারবে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ব সমাজের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজ ইরানের পরমাণু সমঝোতা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব রক্ষা করেছে।

ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাতিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ফাইল ছবি)
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর ইরানের ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয় ও নিশ্চিতভাবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ঘটা করে কোনো ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইরান-বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৫ সালে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ও নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী আজ (রোববার) তেহরান সময় ভোররাত সাড়ে ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়) ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কথিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মার্কিন প্রচেষ্টা আরেকবার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার মুখোমুখি হলো। পার্সটুডে

আমেরিকার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের ঘোষণা হামাসের

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের উপ-প্রধান সালেহ আল আরোরি বলেছেন, ইসরাইলি দখলদারিত্ব মোকাবেলার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ সংগ্রাম।

‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামের ফিলিস্তিনবিরোধী পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আমরা তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমেরিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই পরিকল্পনাকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি দল ও সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা।

রোববার (১৭ অক্টোবর) এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হামাসের এই নেতা বলেন, মার্কিন নেতৃত্বে আলোচনার যে রাজনৈতিক পন্থা তা এরিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা যতটুকু অর্জন করেছি তা প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমেই করেছি।

ফিলিস্তিনের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, হামাস ও ফাতাহ সহানুভূতি নিয়ে নির্বাচনে যোগ দেবে এবং ইসরাইলী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালাবে।

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কোনো আরব দেশের সম্পর্ক স্থাপন প্রসঙ্গে সালেহ আল আরোরি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করছে।

বিপুল জয়ে ফের নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন আরডার্ন

বিপুল সফলতায় দ্বিতীয় মেয়াদে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন জেসিন্ডা আরডার্ন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফলতা তাকে এনে দিয়েছে নির্বাচনী এ সফলতা ।

নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে আরডার্নের মধ্যম বামপন্থী লেবার পার্টি পেয়েছে ৪৮.৯ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের পর থেকে বর্তমান রাজনৈতিক সিস্টেমে আর কোনো দল এত বিপুল পরিমাণ জনসমর্থন পায়নি।

প্রধান বিরোধী দল মধ্য ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৭ শতাংশ ভোট। ২০০২ সালের পর এটি দলটির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। গত নির্বাচন থেকে তারা পেয়েছে ৪৪ শতাংশ কম ভোট।

স্থানীয় সময় শনিবার রাতে জয় পাওয়ার পর এক ভাষণে আরডার্ন বলেন, ‘আজ রাতে গত ৫০ বছরের মধ্যে লেবার পার্টিকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে নিউজিল্যান্ডবাসী।’এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা এমন একটি দল হব যারা প্রত্যেক নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্য সরকার হবে।’

উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক সিস্টেমে কোয়ালিশন একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ একক কোনো দল কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।ন্যাশনাল পার্টির নেতা জুডিথ কোলিনস পরাজয় মেনে নিয়ে আরডার্নকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।তবে ফলাফল এখনো গণনা চলছে। সূত্র: সিএনএন

নিষেধাজ্ঞা ও বলপ্রয়োগ নয় ইরানের সাথে গঠনমূলক আচরণ করতে হবে: পাকিস্তান

ইরানের ওপর আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞার আবারো বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেহরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালুর মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধী পাকিস্তান সরকার। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আচরণ করার জন্য পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইরানের আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতার প্রতি ইসলামাবাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও বলপ্রয়োগে কোনো ফল পাওয়া যায় না; এর পরিবর্তে বরং ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আচরণ করতে হবে।

২০১৫ সালে আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করলেও ২০১৮ সালের মে মাসে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তার দেশকে এই সমঝোতা থেকে বের করে নেন।

এরপর ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করে যা এখন পর্যন্ত চলছে। এরমধ্যে সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করার চেষ্টা করে ওয়াশিংটন।

ওই ম্যাকানিজম চালু করা সম্ভব হলে ইরানের ওপর জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে। কিন্তু আমেরিকার এই আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ। পার্সটুডে

গভীর সমুদ্রে হুমকি প্রতিহত করতে প্রস্তুত ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌ শাখার ডেপুটি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হামজা আলী কাভিয়ানি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের উত্তর অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলের গভীর সমুদ্র পর্যন্ত শত্রুর যেকোন হুমকি প্রতিহত করতে তার বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে ৬৯তম নৌবহরের কয়টি জাহাজ আগমন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে কমান্ডার কাভিয়ানি এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমরা শত্রুদেরকে বলছি যে, আমাদের পানিসীমা এবং আমাদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হলে আমরা জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই ইরানের নৌবাহিনী গভীর সমুদ্রে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম এবং তারা এই লক্ষ্য নিয়ে গভীর সমুদ্রে তাদের শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

৭০ দিনের অভিযান শেষে ইরানের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডেস্ট্রয়ার শাহান্দ বন্দর আব্বাসে ফিরে আসে। কমান্ডার কাভিয়ানি আরো বলেন, যারা দাবি করেছিল যে, ইরান ডেস্ট্রয়ার তৈরি করতে সক্ষম নয় শাহান্দের এই অভিযান এবং সফলভাবে বন্দর আব্বাসে ফিরে আসা তাদের সেই দাবির চরম জবাব।

২০১৮ সালে ইরান অত্যাধুনিক এই ডেস্ট্রয়ার উদ্বোধন করে। এতে রয়েছে স্টিলথ প্রযুক্তি যার কারণে শাহান্দ শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। এ জাহাজ দ্বিতীয়বার জ্বালানি গ্রহণ ছাড়াই একটানা পাঁচমাস সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।

সূত্র: পার্সটুডে

আজারবাইজানে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১২ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

আজারবাইজান জানিয়েছে, শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জাতে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ছোড়া গোলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আঘাত হেনেছে।

আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের এক সহকারী হিকমত হাজিয়েভ টুইটারে জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে ২০টির বেশ বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

এই হামলার বিষয়ে আর্মেনিয়ার এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্যাঞ্জাতে শনিবার ভোরে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তৃতীয় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে কৌশলগত শহর মিঙ্গেসেভিরে। আজারবাইজান আর্মেনীয় বিদ্রোহীদের রাজধানী স্টেপানাকার্টে গোলা নিক্ষেপ করার কয়েক ঘণ্টা পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এএফপি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। কালো ব্যাগে মরদেহ নিয়ে যেতে দেখেছেন তারা। হামলায় কয়েকটি বাড়ি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তারা আরও জানান, হামলার পর মানুষ এলোপাতাড়ি ছুটছিল। কেউ কেউ নিজেদের ঘুমের পোশাক পরে দৌড়ে বের হন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিশু, দুই নারী ও চার পুরুষকে বের করতে দেখে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। শিশুরা টিভি দেখছিল। আমাদের আশেপাশের সব বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ রয়েছে। অনেকে মৃত, কয়েকজন আহত।

শনিবারের হামলার ৬ দিন আগে গ্যাঞ্জা শহরের আরেকটি এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ওই হামলায় ১০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। গত কয়েক দিনের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

রুশ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষ মস্কোতে অস্ত্রবিরতির আলোচনায় সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

বাররি মসজিদ ধ্বংসের পর আরেকটি মসজিদ উচ্ছেদের পথে ভারত!

বিতর্কিত বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর আরও একটি ভারতীয় মসজিদ উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে করছে বলে অভিযোগ। কৃষ্ণ জন্মভূমি পুনরুদ্ধারের নামে নতুন করে আরেকটি মুসলিম উপাসনালয় তুলে দেওয়া হতে পারে বলে সন্দেহ করছে ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলিমরা। এ সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে মথুরা আদালতে।

জানা গেছে, শুক্রবার এই মামলাটি গ্রহণ করেন মথুরার ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন জজ সাধন ঠাকুর। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে মসজিদ সরানোর দাবি জানিয়ে করা মামলাটি খারিজ করে দেন নিম্ন আদালত। এদিকে, এই মামলায় শাহী দরগা মসজিদ ট্রাস্ট ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-সহ সকল পক্ষকে নভেম্বরের ১৮ তারিখ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

মথুরার দেওয়ানি আদালতে এবার কৃষ্ণের হয়ে মথুরার কৃষ্ণ মন্দির চত্বর থেকে শাহী দরগা সরানোর দাবিতে কৃষ্ণের ‘বন্ধু’ হিসেবে মামলাটি দায়ের করেছেন উত্তরপ্রদেশে বাসিন্দা রঞ্জন অগ্নিহোত্রি। মামলায় মন্দির চত্বরের থাকা দরগার ১৩.৩৭ একর জমি খালি করানোর দাবি করা হয়েছে।

মামলাকারীর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও শাহী দরগার ম্যানেজমেন্ট ট্রাস্ট স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দার মদতে অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে রেখেছে।

শুধু তাই নয়, নিজের অভিযোগে মামলাকারী রঞ্জন অগ্নিহোত্রি বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থানের উপরই মুসলিম ধর্মস্থলটি রয়েছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান সেবা সংস্থান জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে শাহী দরগা ট্রাস্টের সঙ্গে অবৈধভাবে সমঝোতা করেছে।

উল্লেখ্য, মথুরাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির। হিন্দুদের বিশ্বাস, ওই জায়গাটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেই মন্দির চত্বরেই রয়েছে শাহি ইদগাহ মসজিদ। হিন্দুরা দাবি করে, প্রাচীন কেশবনাথ মন্দির ভেঙেই মসজিদটি তৈরি করেন সম্রাট আড়ঙ্গজেব।

১৯৩৫ সালে ওই মন্দির চত্বরের মালিকানা মথুরার রাজার হাতে সঁপে দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। পর্যায়ক্রমে সেই সত্ব বর্তায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ শ্রী কৃষ্ণভূমি ট্রাস্টের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় সংঘাত। অবশেষে ১৯৬৮ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে জমির মালিকানা হিন্দুদের হাতে থাকলেও মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পায় মুসলিম পক্ষ।

বাতাসে দূষণ বাড়াচ্ছে ভারত: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি রাশিয়া, ভারত ও চীনের মাধ্যমেই বাতাসে দূষণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তবে সেই তালিকায় একেবারে নিচের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে বলে দাবি তার।

নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, এই সমস্ত দেশে বায়ু দূষিত। শুধু তাই নয় ভারত চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে জন্য নিজেদের ভূমিকাও ঠিকভাবে পালন করে না বলেই দাবি ট্রাম্পের।

নর্থ ক্যারোলিনায় এক নির্বাচনী জনসভায় এই বক্তব্য রাখেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন জ্বালানি বাঁচানো থেকে শুরু করে পরিবেশ দূষণ রোধে একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া, ভারত ও চীনের কারণে দূষণ বাড়ছে। আমেরিকার পরিবেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত, রাশিয়া বা চীনের মত দেশগুলো জানেই যা যে পরিবেশ সংরক্ষণ কীভাবে করতে হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে এই দেশগুলোর প্রাথমিক ধারণা নেই বলেই মনে করেন তিনি। আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও শহরের নাম করতে চাই না। কিন্তু এমন কিছু কিছু শহর আছে যেগুলোতে গেলে নিশ্বাস পর্যন্ত নিতে কষ্ট হয়।

উল্লেখ্য, পরিবেশ রক্ষার জন্য প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্পের নেতৃত্বেই বেরিয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎকারে জানান প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে মিনিট পনেরো কথা হবে বলে ঠিক ছিল, কিন্তু শেষ মেশ প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা বলেন তারা। আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে তিনি যথেষ্ট ভাবিত বলেই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

তিনি বলেন, আমি তাকে জানিয়েছি বিভিন্ন রকম তথ্য বলছে আমেরিকার পরিবেশ পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় যথেষ্টই ভালো।

ক্লাসে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

ক্লাসরুমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে ফ্রান্সে এক শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হত্যাকারীকেও গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

শুক্রবার প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমে কনফ্লানস সেইন্তে-হনোরাইন এলাকার একটি রাস্তায় ঘটেছে এ হত্যাকাণ্ড।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর হাতে একটি ছুরি ও একটি এয়ারসফট গান ছিল। শিক্ষককে হত্যার স্থান থেকে ৬০০ মিটার দূরে ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে ইতিহাসের ওই শিক্ষক তার ক্লাসে মহানবী (স)-এর কিছু ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, যা মুসলিমদের কাছে খুবই আপত্তিকর। ওই ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের পর থেকেই হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি।

শুক্রবার নিজ কর্মস্থল মিডল স্কুলটির সামনের সড়কেই হামলার শিকার হন ওই শিক্ষক।

এদিকে, ফ্রান্সের বিচার বিভাগীয় একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক শিশুসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সম্প্রতি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর কোনও সন্তান স্কুলটিতে পড়ে না। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলী জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন তারা।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ জনসাধারণকে আপাতত ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এরাগনির মেয়র থিবল্ট হাম্বার্ট দ্রুততার সঙ্গে সন্দেহভাজন অপরাধীকে নিষ্ক্রিয় করায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, শুক্রবারের এ হামলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ক্রাইসিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা