নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া ট্রাম্প- বাইডেন কারো সাথে আলোচনা করব না: ইরান

আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন যদি নির্বাচিত হন তাহলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর মার্কিন সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেগুলোও প্রত্যাহার করা হবে না।

ইরানের বেশিরভাগ জনগণের ধারণা এমনই। এ অবস্থায় তারা বলছেন, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ট্রাম্প কিংবা বাইডেন কারো সঙ্গে আলোচনা করা উচিত হবে না।

ইরানের জনগণ আরো মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা হয় তাহলে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা তেহরানের উচিত হবে না। এছাড়া, ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার কোনো ইস্যু হতে পারে না।

ইরানের বহুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও একই ধরনের মতামত। তারা বলছেন, বাইডেন এরইমধ্যে এক বক্তৃতায় বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আরো ‘স্মার্ট উপায়’ রয়েছে। তার এই বক্তব্যের মধ্যদিয়ে প্রমাণ হয় যে, বাইডেন নির্বাচিত হলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন না।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময় বলেছেন যে, যখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের ইস্যু আসবে তখন তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ছাড়া কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসবে না। সুত্র: পার্সটুডে

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি হবে না: মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। একইসঙ্গে গতকাল (মঙ্গলবার) হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তি করেছে তার কঠোর নিন্দা করেছেন তিনি।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, অধিকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে এবং আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলেই শুধুমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা মাহমুদ আব্বাসের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

গতকাল হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরাইল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করার কিছুক্ষণ পরই মাহমুদ আব্বাস এই বিবৃতি দেন।

হোয়াইট হাউসে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠান
মাহমুদ আব্বাস বলেন, চুক্তি সই করা দেশগুলোর সঙ্গে মূল সমস্যা জড়িত নয়, বরং মূল সমস্যা ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে জড়িত যারা কয়েক যুগ ধরে দুর্দশা মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, “আজকে হোয়াইট হাউসে চুক্তি সইয়ের নামে যা ঘটল তার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউসে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায়) চুক্তিতে সই করেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আলে নাহিয়ান এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যিয়ানি।

মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসার দখলদার ইসরাইলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন বর্ণবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পার্সটুডে