শক্তিশালী যুদ্ধবিমান তৈরি শুরু করল ইরান

সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান উৎপাদন শুরু করেছে ইরান। ইরানের বিমান বাহিনীর ডেপুটি কম্যান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদ ভাহেদি জানিয়েছেন, ইরানের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স এরই মধ্যে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

তিনি আরো জানান, এর আগে কাওসার যুদ্ধবিমান তৈরির সফলতাকে পুঁজি করে এবার শক্তিশালী যুদ্ধবিমান তৈরির পথে হাঁটা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুর্দান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে কাওসার যুদ্ধবিমান তৈরি শুরু করে ইরান। কাওসার যুদ্ধবিমানটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করে দেশটি। যুদ্ধবিমানটি তৈরির প্রথম প্রেজেন্টেশনে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধবিমানটির দু’টি ভার্সন রয়েছে; তার একটিতে ককপিট একটি এবং অন্যটিতে দু’টি। যেসব বিমানে দুটি ককপিট রয়েছে, সেগুলোতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

সোলাইমানি হত্যায় আরও কঠিন প্রতিশোধ নিতে চায় ইরান

জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠিন প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী শামখানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকারীদের জন্য আরও কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। ইরান ও ইরাকের জনগণ এই রক্তের বদলা অবশ্যই নেবে।

বুধবার (২২ জুলাই) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প[অর এর দায়িত্ব স্বীকার করে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি এর নিন্দাও জানান।

ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে শামখানি বলেন, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের হোতাদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের জনগণ শান্ত হবে না।

গত ৩ জানুয়ারি ইরাক সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশটি সফরে গেলে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন কমান্ডার জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে সন্ত্রাসী মার্কিন সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় হাশদ আশ-শা’বি বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দেশটির আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

পরবর্তীকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে বলেন, আমার সরাসরি নির্দেশে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: এ বিজয় সুস্পষ্ট বিজয় : আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম !

আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম মসজিদ থেকে ৮৬ বছর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর পূনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া বিখ্যাত আয়াসোফিয়ায় পূনরায় আদায় হওয়া জুমার নামাজের প্রথম রাকায়াতে ইমামের তেলাওয়াত ছিলো “ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম-মুবিনা”

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। (সূরা ফাতহ : আয়াত ১)। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে সাহাবায়ে কেরামসহ মক্কা মুকাররমা গিয়ে উমরাহ পালন করেন। সেখানে হুদায়বিয়ার এই সন্ধিকে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ফাতহুম মুবিন অর্থাৎ প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

নাজিল হয় সূরা ফাতহ। এই সূরার শুরুতেই ইরশাদ হয়েছে উপরোক্ত আয়াতটি। আয়াসোফিয়ায় প্রথম জুমায় এ আয়াতটিই তেলাওয়াত হয়েছে। বলা হচ্ছে – আয়াসোফিয়া জুমার নামাজ আদায়কে এমন বিজয় হিসেবে দেখছে মুসলিম বিশ্ব

আরো পড়ুন: কেউ আজান বন্ধ করতে পারবে না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ফেটো আর পিকেকের মতো স’ন্ত্রাসীগোষ্ঠী যতই অপতৎপরতা চালাক না কেন, তার দেশের পতাকা কেউ নামাতে পারবে না।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে আর তুরস্কে আজান দেয়া বন্ধ করতে পারবে না। তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চার বছরপূর্তিতে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন এরদোগান। খবর আনাদোলুর।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতের আঁধারে ফেতুল্লা টেরটিস্ট অর্গানাইজেশন (ফেটো) সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশটির স্বাধীন-চেতা জনগণ নিজের জীবন তুচ্ছ করে সেদিন তুরস্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।

এর পর থেকে ১৫ জুলাই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে তুরস্কে। যুক্তরাষ্ট্রপন্থী ফেতুল্লা গুলেনকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মনে করা হয়। ২০১৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানের ২৫১ বেসামরিক লোক নিহত হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ জন

আরো পড়ুন: কাবা শরীফের ইমাম হয়েছি মায়ের দোয়াতেই: ই’মাম আল কালবানি

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে লন্ডনের এক কনফারেন্সে পবিত্র কাবা শরীফের এক ই’মাম আল কালবানি এই কাহিনী বর্ণনা করেন।

এতে তিনি তার জীবনের একটি বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার উপর কোনো কারণে রেগে গিয়ে তার মা আল্লাহর কাছে যে দু‘আ করেছিলেন তাই তার জীবনে সত্যে পরিণত হয়েছে।

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে ছোটবেলায় ই’মাম কালবানি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন বলে জানালেন। দুষ্টুমি করে প্রায়শই তিনি মাকে রাগাতেন।

কিন্তু তার মা ছিলেন খুবই দ্বীনদার একজন মহিলা, তিনি জানতেন আল্লাহর কাছে দু‘আর কী’ শক্তি। তিনি দু‘আ করাটা তার অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন।

ছে’লের উপর যখনি রেগে যেতেন তখনি তিনি বলতেন, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে পথ দেখান! আর তিনি যেন তোমাকে কাবার ই’মাম বানান!’

ই’মাম আল কালবানি বললেন, ‘আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করেছেন এবং আমি আজ কাবার ই’মাম।’ কালো মানুষ শাইখ আদিল আল কালবানি পারস্য উপসাগরীয় এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে শাইখ কালবানি বলেছেন, ‘ম’সজিদুল হারামের নামাজের ই’মামতি করা অসাধারণ সম্মানের, আর এই কাজ শুধুমাত্র আরব ভূখণ্ডের আরবদের জন্যই নির্ধারিত।’

ই’মাম বলেন, যখন আপনার সন্তান খা’রাপ আচরণ করবে তখন তাকে গালমন্দ করবেন না। এতে বিপর্যয় ঘটতে পারে। আমি একজনকে জানি যিনি তার ছে’লেকে বলেছিলেন— ‘যাও ম’র’, অ’তঃপর তিনি সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, যখন সেই দিনই তার ছে’লে মা’রা যায়। সুবহানআল্লাহ!

প্রিয় সন্তানের পিতা ও মাতাগণ! আপনাদের ভাষা সংবরণ করুন। আপনার ছে’লে-মে’য়েদের জন্য ভাল দু‘আ করার অভ্যাস তৈরি করুন, এমনকি যখন আপনি অনেক রেগে যান তখনও তার জন্য দু‘আ করুন।

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনটি দু‘আ আল্লাহ কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না, ছে’লেমে’য়েদের জন্য তার পিতামাতার দু‘আ, রোজাদারের দু‘আ এবং মু’সাফিরের দু‘আ’।

(বায়হাকী’, তিরমিযী, হাদীসটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত)

আরো পড়ুন: মহানবী (সা.)-এর সময়ের পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি!

ব্রিটেনে প্রাচীনতম কোরআন শরিফের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায়ই সম্ভবত কোরআনের এই অংশ লেখা হয়েছিল। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপি প্রায় ১৩৭০ বছরের পুরনো।

প্রায় ১০০ বছর ধরে এই পাণ্ডুলিপি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডবেরি রিসার্চ লাইব্রেরিতে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু পাণ্ডুলিপির সঙ্গে ছিল এই পাণ্ডুলিপিও। এতে ধুলো জমে ছিল। নিতান্ত কৌতূহলবশেই পিএইচডি গবেষক আলবা ফেদেলি পাণ্ডুলিপিটি হাতে নেন।

পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর তাঁর মনে সন্দেহ হয়। এর পরেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিট’-এ পাণ্ডুলিপিটির পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, দুই পাতার পার্চমেন্টের ওপর লেখা পাণ্ডুলিপিটির বয়স প্রায় ১৩৭০ বছর। ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা পৃষ্ঠা দুটি স্পষ্ট পড়াও যাচ্ছে।

হিজাজি লিপি হলো, আরবি ভাষার পুরনো লেখ্য রূপ। মূলত ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ সময় পর্বে পশুর চামড়া বা পার্চমেন্টে লেখা হতো। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিটের পরীক্ষায় দেখা গেছে, পাওয়া যাওয়া পৃষ্ঠা দুটিতে ভেড়া কিংবা ছাগলের চামড়ায় কোরআনের বাণীগুলো হাতে লেখা হয়েছিল।

রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পাওয়া ফলাফল নির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন বছর পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে তা বলতে পারেনি। তবে এ ক্ষেত্রে ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই যে পাণ্ডুলিপিটির এই অংশ লেখা হয়েছে, তার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এডওয়ার্ড ক্যাডবেরির আর্থিক সাহায্যে পাদরি অ্যালফন্স মিনগানা ১৯২০ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্থানীয় নানা বিষয়ের প্রায় তিন হাজার পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলো বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন