কাসেম সোলাইমানি হত্যায় জড়িত গুপ্তচরের ফাঁসি কার্যকর করল ইরান

মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সোমবার ভোরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে বিচার বিভাগ জানিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মাহমুদ মুসাভি মাজদ যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ইসায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। এই গুপ্তচরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাগদাদে এই ড্রোন হামলা হয়।

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরের বরাত দিয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং কুদস ফোর্সের বিষয়ে সিআইএ ও মোসাদকে তথ্য দিয়েছিলেন মুসাভি। সোমবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইরান।

এর আগে, জুন মাসে সোলাইমানির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়ায় মুসাভিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ইরানের একটি আদালত।

গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন জেনারেল সোলাইমানি, ইরাকের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হাশদ আল-শাবির উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ আরও কয়েকজন।

এ হত্যাকাণ্ডের জেরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক তলানিতে নেমে আসে।

আরও সংবাদ

আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া কে এই নারী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক একটি মহাকাশযান জাপান থেকে উৎক্ষেপণের পর এখন মঙ্গল গ্রহের পথে।

বিবিসি জানায়, মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে পরীক্ষা করতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছে ‘মিশন হোপ’নামের এই মহাকাশযান।

আর এই মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরব আমিরাতে বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান সারাহ আল আমিরি, যিনি দেশটির অ্যাডভান্সড সায়েন্সবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

বিবিসি জানিয়েছে, জাপানের সবচেয়ে বড় রকেটবন্দর তানেগাশিমা থেকে উড্ডয়ন করে আমিরাতের স্যাটেলাইট ‘হোপ মিশন’। মহাকাশযানটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৌঁছাবে যা কাকতালীয়ভাবে আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী।

তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় এর আগে দুবার মহাকাশযানটির উৎক্ষেপণের সময় পেছাতে হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযান সফল হলে তাদের নাম যুক্ত হবে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায়। এ তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ আর ভারতের মতো গুটিকয়েক দেশ, যারা মঙ্গলগ্রহে সফল মহাকাশ অভিযান করতে পেরেছে।

মহাকাশযান ডিজাইন ও নির্মাণ করার ক্ষেত্রে আরব আমিরাতের অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। তবে দেশটির উচ্চাভিলাষ তাদেরকে চ্যালেঞ্জটি নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মঙ্গল থেকে কিভাবে বাতাস কমে গেলো কিংবা পানির বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে এগুলো সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তবে হোপ মিশন আসলে পরিণত হবে অনুপ্রেরণার বাহন হিসেবে যা আরব আমিরাতসহ পুরো আরব অঞ্চলের তরুণদের বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে আকৃষ্ট করবে।

দেশটির সরকার বলছে, এ মহাকাশযাত্রা তেমন কিছু প্রকল্পের অংশ যা দেশটিকে তেল গ্যাস নির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে নিয়ে যাবে।

তবে মঙ্গল অভিযানে আরব দেশের একজন নারীর নেতৃত্ব অবাক করার মতো ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

সারাহ আল-আমিরি ‘হোপ মিশনের’ বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান। একই সঙ্গে তিনি দেশটির অ্যাডভান্সড সায়েন্সবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

এই নবীন বিজ্ঞানী এরই মধ্যে আরব বিশ্বের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। ‘হোপ মিশন’ পৃথিবী ছেড়ে যখন রওনা হয়েছে মঙ্গল অভিমুখে, তখন একই সঙ্গে সবার নজর সারাহ আল-আমিরির দিকেও।

মহাকাশযানটির সফল উৎক্ষেপণের পর তার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সারাহ আল আমিরি।

তিনি বলেন, তার দেশের ওপর এর প্রভাব অনেকটাই ৫১ বছর আগে আমেরিকার চাঁদে পা রাখার মতো। সেটিও ২০ জুলাই তারিখেই হয়েছিল।

‘আজি আমি আনন্দিত যে আরব আমিরাতের শিশুরা ২০ জুলাই তারিখে ঘুম থেকে উঠে তাদের নিজস্ব অভিযানটি দেখতে পাবে, যা নতুন একটি বাস্তবতা। যা তাদের নতুন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

সারাহ আল আমিরি ১৯৮৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্ম গ্রহণ করেন। এখন বয়স মাত্র ৩২, কিন্তু মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন একেবারে ছোটবেলা থেকেই। সারাহ আল-আমিরি পড়াশোনা করেছেন কম্পিউটার সায়েন্সে, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব শারজাহতে। তার বরাবরই আগ্রহ ছিল এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোন মহাকাশ কর্মসূচিই ছিল না।

পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন এমিরেটস ইনস্টিটিউশন ফর এডভান্সড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি কাজ করেছেন দুবাইস্যাট-১ এবং দুবাইস্যাট-২ প্রকল্পে। ইউএই‌’র পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এরপর। ২০১৬ সালে তাকে এমিরেটস সায়েন্স কাউন্সিলের প্রধান করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের শুরু থেকে এর সঙ্গে জড়িত তিনি। এখন এই মিশনের বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান। ২০১৭ সালে তাকে একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডভান্সড সায়েন্স বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীও করা হয়।