‘প্রতিরোধ সংগ্রামের কারণে ফিলিস্তিনি জাতির মর্যাদা বেড়েছে’

অবৈধ ও দখলদার ইসরাইলের ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের মুক্তির প্রতি ইরানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়ার এক চিঠির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ সমর্থন জানান।

তিনি আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রশংসা করে বলেন, এই সংগ্রামের কারণে ফিলিস্তিনি জাতির সম্মান ও মর্যাদা বেড়েছে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর চিঠির বিষয়বস্তু আজ (সোমবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

এতে তিনি ইসমাইল হানিয়াকে আরো লিখেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রথমে অর্থনৈতিক চাপপ্রয়োগ ও গাজা উপত্যকাকে অবরুদ্ধ করে এবং এখন কথিত শান্তি পরিকল্পনার ছলে ফিলিস্তিনি জাতির অধিকার পদদলিত করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার চিঠিতে আরো বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ সংগঠনগুলো এখন পর্যন্ত শত্রুর হুমকি ও প্রলোভনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে গেছে যার ফলে তাদের সম্মান ও মর্যাদা বেড়েছে।

এখন থেকে সামনের দিকেও ফিলিস্তিন জনগণ সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে পরিচালিত হবেন বলে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেী আশা প্রকাশ করেন। তিনি ইহুদিবাদী শত্রুদের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তার দেশ অতীতের মতো ফিলিস্তিনি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি নিজের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এই সমর্থন ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে উৎসারিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুত্র: পার্সটুডে

জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় ফিলিস্তিন

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব অনুসারে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত ফিলিস্তিন। গতকাল রোববার ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএফএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক কোয়ার্টেটের এক আয়োজনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকে এ কথা বলেছেন।-এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডব্লিউএএফএ

জানা যায়, আব্বাস এবং অ্যাঞ্জেলা মার্কেল আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেন। বিশেষ করে অধিকৃত এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

ডব্লিউএএফএ ’ র প্রতিবেদনে বলা হয় , প্রেসিডেন্ট আব্বাস আলোচনার শুরুতেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য হওয়ার জন্য স্বাগত জানান জার্মানিকে। একইসঙ্গে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে , তার দেশ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায় – নীতিকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে যাবে।

তিনি বল প্রয়োগে অধিকৃত এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন করায় জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ।

মধ্যপ্রাচ্য কোয়ার্টেট প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। এতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র , রাশিয়া , ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ । চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব অবসান কল্পে হোয়াইট হাউসে বসে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন।

সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিভাজিত রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত, ভারতকে চমকে এখনও মসনদে অলি

বিতর্কিত ভূখণ্ড নেপালের মানচিত্রে অর্ন্তভূক্ত করার পর থেকেই ভারতের রোষানলে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। জাতীয়তার প্রশ্নে অলিকে সমর্থন দিতে বাধ্য হলেও এখন তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন তারই দলের ভারতভক্ত নেতারা।

তবে, ভারতকে চমকে দিয়ে এখনো ক্ষমতা ধরে রেখেছেন নেপালি এই নেতা। কারণ, তার পিছনে রয়েছে সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সমর্থণ।

বহুদিন ধরেই নেপালের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব স্পষ্ট। দেশটিতে ভারত বংশোদ্ভূতদের সতন্ত্র একটি দলও রয়েছে। যার ফলে, এতদিন ভারতের দাদাগিরি নিরবে মেনে নিয়েছে নেপাল।

তবে জাতীয়তাবাদি নেতা অলির নেতৃত্বে পরিস্থিতি এখন পাল্টে গিয়েছে। বিতর্কিত এলাকা নিয়ে অলির সাফল্যের পেছনে তিনটি কারণ আছে বলে মনে করা হয়। প্রথমত, লাদাখে সংঘাতের জেরে চীনকে মোকাবেলায় ভারতের অক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায়,

নেপালের ভারত ঘেষা নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন। অনেকেই চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। দ্বিতীয়ত, ভারতের প্রভাব মেনে নেয়ায় কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে নেপালের ক্ষতিই হয়েছে বেশি।

তৃতীয়ত, ২০১৮ সালে একীভূত হওয়ার পড়ে নেপালে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি। চীনেও কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। ফলে, ভারতকে মোকাবেলায় চীনকে পাশে পাবেন বলে মনে করেন অলি।

তবে, রাজনৈতিক সংকট থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্ত নন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাকে উৎখাতে ভারত যে ষড়যন্ত্র করছে তা তিনিই নিজেই বহুবার বলেছেন। তার কথা সত্যি প্রমাণিত করে তার দলে ভারতের বন্ধু বলে পরিচিত পুষ্প কামাল দাহাল,

মাধব কুমার নেপাল এবং ঝালা নাথ খানালের মতো নেতারা এখন তার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন। অলি পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় ও দল ভেঙ্গে দিতে পারেন বলে হুমকি দেয়ায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক তৃতীয় দফায় জুলাই মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় অলি হঠাৎ করেই তার সব মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীদের বালুওয়াটারে ডেকে পাঠান এবং প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের জন্য শীতল নিওয়াসে যান। এ বিষয়ে এক মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদিও স্পষ্ট করেননি যে, কোথা থেকে তিনি তথ্য পাচ্ছেন,

তবে তিনি বলেছেন যে, তাকে সরিয়ে দেয়ার এবং প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ আরেক মন্ত্রী বলেন, ‘তাকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে এবং তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে যে কিছু দলীয় নেতারাও প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’

প্রসঙ্গত, শাসকদলের অন্দরে চলা কলহের জেরেই সদ্য অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি হয়ে গেছে দেশটির বাজেট অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি মন্ত্রিসভার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, দ্য প্রিন্ট