সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাদের অবিলম্বে সিরিয়া ত্যাগ করতে হবে: ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, সিরিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো দর কষাকষি সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদেরকে অবিলম্বে সিরিয়া ত্যাগ করতে হবে এবং দেশটির সর্বত্র নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সিরিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

হাসান রুহানি বুধবার সন্ধ্যায় সিরিয়া বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় অনলাইন শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সিরিয়ায় দখলদার মার্কিন সেনাদের অবৈধ উপস্থিতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান কারণ। ইরানের প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার ওপর আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,

মার্কিন সরকার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসাবাদ চালাচ্ছে, সিরিয়ার জনগণের মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।

সিরিয়ার বৈধ সরকার ও জনগণের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ড. রুহানি বলেন, আমেরিকার অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতা নস্যাত করতে পারবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমেরিকা যেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে যে, তারা সামরিক হামলা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যা অর্জন করতে পারেনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। সুত্র: পার্সটুডে

৩ মাস বিরতির পর আবারও ইরান থেকে গ্যাস আমদানি শুরু করল তুরস্ক

ইরানের জাতীয় গ্যাস কোম্পানির মুখপাত্র মোহাম্মাদ আসকারি আজ (বুধবার) বলেছেন, তুরস্কে বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস পাইপ লাইন পুরোপুরি মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

গত ৩১ মার্চ ইরান-তুরস্ক গ্যাস পাইপলাইনে এক বিস্ফোরণের জের ধরে আঙ্কারা গ্যাস আমদানি বন্ধ রেখেছিল। ইরান থেকে গ্যাস আমদানির ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি থাকলেও পাইপ লাইন মেরামতে বিলম্বের কারণে এই প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী ইরান-তুরস্ক গ্যাস পাইপ লাইন দিয়ে আঙ্কারার কাছে বছরে এক হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানি করে তেহরান।

ইরানের জাতীয় গ্যাস কোম্পানির হাসান মোনতাজের তুরবাতি বলেছেন, ইরান বর্তমানে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নাখজাওয়ান এলাকায় গ্যাস রপ্তানি করছে। ইরানের জাতীয় গ্যাস কোম্পানির দৈনিক ৯০ কোটি গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে।

সুত্র: পার্সটুডে

নিজেদের শীর্ষ অটোমোবাইল কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় চীন!

চীনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন এক নম্বর গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাইক (সাংহাই অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি কো-অপারেশন লি.) মোটর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইছে।

একই সঙ্গে দেশটির আরেক কোম্পানি সিটিক কনস্ট্রাকশন কৃষি খাত ও অ্যাকোয়াটিক (জলজ) পণ্যেও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নীতির অংশ হিসেবে তাঁরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য বেছে নিয়েছে।

উল্লিখিত শিল্প খাতগুলোয় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ করবে। গত ১৭ জুন সিটিক কনস্ট্রাকশনের একজন নির্বাহী বাংলাদেশে এ তিন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেয়।

১৯ জুন চীনা কোম্পানির এ আগ্রহের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে দূতাবাস থেকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাইক মোটর সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি চীনের বৃহত্তম চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের একটি।

বিশ্বখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিনের ২০১৯ সালের জরিপে এ অটোমোবাইল কোম্পানিটি বিশ্বের সেরা ব্রান্ডগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ৩৯তম স্থান পেয়েছে। ইউরোপের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন ও মার্কিন কোম্পানি জেনারেল মোটরসের সঙ্গেও যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে এ কোম্পানিটির।

চীনের এ প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তারা স্থানীয় কোনো অংশীদার কোম্পানির মাধ্যমে এ দেশে তাদের গাড়ি সংযোজন, বিক্রয় ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে সংযোজিত গাড়িগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নীতির মাধ্যমে চারপাশের দেশগুলোয় রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বাংলাদেশের কৃষি, অ্যাকোয়াটিক ও অটোমোবাইল শিল্পে চাইনিজ কোম্পানির আগ্রহের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে।

এরই মধ্যে চাইনিজ কোম্পানির প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

সস্তা শ্রম, ভৌগোলিক অবস্থান ও ১৬ কোটি মানুষের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদার কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান বলে মনে করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিডা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। সুত্র: বিডি প্রতিদিন

ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে কখনো স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাজ্য: বরিস জনসন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইসরায়েলকে তার সার্বভৌম এলাকা জুডিয়া, সামেরিয়া এবং জর্ডান উপত্যকা পর্যন্ত না বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিট আহরনট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।

জনসন বলেন, “ইসরাইলকে রক্ষার জন্য যদিও তিনি আন্তরিকভাবে সচেষ্ট তবে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ সংযুক্তি করার পরিকল্পনা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

তিনি বলেন, “আমি উদ্বিগ্ন যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তি করার প্রস্তাব কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আসবে না।”

তিনি আরো বলেন, “আমি ভয় পাচ্ছি যে তেল আবিব সরকার এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে তাতে ইসরাইলের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে এবং এটা হবে ইসরাইলের দীর্ঘ মেয়াদী স্বার্থের পরিপন্থি।”

জনসন বলেন, “আমি জোর আশাবাদী যে পশ্চিম তীর সংযুক্তি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া আর সামনে এগুবে না। যদি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে ১৯৬৭ সালের সীমান্তে কোনো পরিবর্তনের প্রতি স্বীকৃতি দেবে না ব্রিটেন। তবে দুই পক্ষের সম্মতির ওপর হলে তা ভিন্ন কথা।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন তার নিবন্ধে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলের সংকট নিরসনের জন্য এমন একটি সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে দু্ই পক্ষের জন্য ন্যায় বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য পয়লা জুলাই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ৩০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাবেন বলে আগেই জানা গেছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই চাল সারা বিশ্বজুড়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে৷

ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকা আরব লীগও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলের এই অধিগ্রহণ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ধর্মীয় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। ইসায়েল এই অধিগ্রহণের পথে অনড় থাকলে ব্যাপক গণ্ডগোল বাধতে পারে৷

সুত্রঃ পার্সটুডে, জিউস নিউজ

পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণে ড্রোন নামাল ভারত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পঙ্গপাল হানা দেয়ায় এদের রুখতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরকার পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আর এ কারণেই ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে।

গত কয়েক দশকেও পঙ্গপালের এমন হানা দেখেনি দিল্লিবাসী। পঙ্গপাল এবার ভারতের রাজধানী দিল্লির মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পতঙ্গে ছেয়ে গেছে দিল্লির আকাশ।

ভারতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন সরকার পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। দেখা দেবে খাদ্য সংকট।
আর তাই দিল্লিতে পঙ্গপালের হানা মোকাবিলায় নেয়া হয়েছে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ।

ড্রোনের সাহায্যে ছিটানো হচ্ছে কীটনাশক। পঙ্গপাল যেন গ্রীষ্মকালীন ফসল গ্রাস করতে না পারে সেজন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এভাবে কীটনাশক ছিটানো হবে বলে জানিয়েছে ভারতের পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণকারী দল।

একজন বলেন, ‘আমরা ৬০ ভাগ পতঙ্গ মারতে পেরেছি। সরকার ৪টি ড্রোন দিয়েছে কীটনাশক ছিটানোর জন্য। এ পদ্ধতিতে আমরা যথেষ্ট সফল হচ্ছি।’

দিল্লি ছাড়াও গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশেও পঙ্গপালের উপদ্রব রয়েছে।

একসঙ্গে অগণিত পতঙ্গ খাদ্যের খোঁজে ছুটে চলে দিনরাত। সামনে পাওয়া ধান, গম, সবজি সব খেয়ে শেষ করে দিয়ে যায়। তাদের এ হানায় কৃষকের মাথায় হাত পড়ে, দেখা দেয় খাদ্য সংকট।

ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পঙ্গপালের হানায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

আরো পড়ুন: ৫০০ বছরের পুরনো কোরআন, রং ও উজ্জ্বলতা এখনো অক্ষুণ্ণ !

এক ধরনের চীনা কাগজে লিখিত কোরআনের দৃষ্টিনন্দন পান্ডুলিপি ‘তিমুরিদ কোরআন’। বিভিন্ন দৃশ্য সংবলিত অলংকৃত পাতায় রংতুলির আঁচড়ে লিখিত এ কোরআন দেখতে বেশ নান্দনিক। চমৎকার অলংকৃত কোরআনের এমন পান্ডুলিপি তৈরিতে সময়ও লাগে অনেক বেশি।

১৫০০ শতাব্দীতে মিং রাজবংশের সময়কার এ তিমুরিদ কোরআন। এটি বিশেষ ধরনের চাইনিজ পেপারে সোনার প্রলেপের ডিজাইনে লিখিত। এত বছর পরেও কোরআনের এ পান্ডুলিপিটি স্বচ্ছ ও নিখুঁত। এটির রং ও উজ্জ্বলতা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সিল্কি জমিনে নিখুঁত অলংকরণ এবং সোনার হরফে লেখাগুলো উজ্জ্বল-বিভাময়।

সুন্দর ও নিখুঁত এ সৃজনশীল কর্ম দেখলেই অন্যরকম ভাবাবেগ লাগে। চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন এ পান্ডুলিপিটি নিলামে বিক্রি হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ জুন লন্ডনে এর নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন একজন হবেন ১৫০০ শতাব্দীতে লিখিত দৃষ্টিনন্দন তিমুরিদ কোরআনের পান্ডুলিপির গর্বিত মালিক।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা ৮০০ ডলার থেকে এর বিট শুরু হবে, যা ১.২ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। জানা গেছে, তিমুরিদ কোরআনটির আকর্ষণীয় এ পান্ডুলিপির ইতিমধ্যে কয়েকজন বিটকারী যোগাযোগও করেছেন।

তবে তত্ত্বাবধায়করা চাচ্ছেন, নিলামেই এটির মূল্য নির্ধারণ করতে।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।