ভারত মহাসাগরে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে যাচ্ছে ইরান!

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ভারত মহাসাগরে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরের ইরানের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে আজ সোমবার বন্দর আব্বাস থেকে আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি রেজা তাংসিরি জানান, সর্বোচ্চ নেতা আইআরজিসি-কে ইরানের পানিসীমা থেকে দূরবর্তী সাগর-মহাসাগরে উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

এরই অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরে একটি স্থায়ী ঘাঁটি করা হবে। ইরানের এ সেনা কমান্ডার জানান, ভারত মহাসাগরে ঘাঁটি গড়ার ক্ষেত্রে আইআরজিসি তার নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, আইআরজিসি তাদের স্থায়ী ঘাঁটি করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঘাঁটিটি চালু করা হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে চলতি ফার্সি বছর শেষ হবে। পার্সটুডে

ইরানের সঙ্গে অতি দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চাই: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতি দ্রুত ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান সংক্রান্ত নীতির ব্যর্থতার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন আমেরিকার ভেতরে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন তখন এ আগ্রহ প্রকাশ করলেন তিনি।

ট্রাম্প গতকাল আমেরিকার ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টুলসা শহরে এক নির্বাচনি সমাবেশে ব্ক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, তার সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন যাতে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন সে চেষ্টা করছে ইরান ও চীন। এরপর তিনি বলেন, “আমি ইরানের সঙ্গে অতি দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করলেন যখন তার প্রশাসনের ইরান বিদ্বেষী নীতি অব্যাহত রয়েছে। তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আইএইএ’তে ইরানবিরোধী প্রস্তাব পাস করেছ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান অ্যাকশন গ্রুপের প্রধান ব্রায়ান হুক ইউরোপীয় দেশগুলোর এ পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইরান বহুবার বলেছে, আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না। যে দেশটি একবার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে আরেকবার সমঝোতার জন্য তার ওপর আস্থা রাখা যায় না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের কলিবফ গতকালও বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না তেহরান। পার্সটুডে

লাদাখের পর এবার সিকিম সীমান্তেও ভারত-চীন সেনাদের মধ্য সংঘর্ষ ভিডিও প্রকাশ

লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সিকিমের পর্বতশৃঙ্গের সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তির একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, উভয় পক্ষ শক্তি প্রয়োগ করে একে অপরকে হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা ওই ভিডিও দৃশ্যটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি। ভিডিওতে ভারত ও চীন উভয় পক্ষের সেনাদের উচ্চস্বরে ‘ফিরে যাও’ (গো ব্যাক) এবং ‘লড়াই করো না’ (ডোন্ট ফাইট) শব্দগুলো বলতে শোনা যাচ্ছে।

সীমান্তে তুষার ঢাকা উপত্যকায় ঘটেছে এই ঘটনা। এনডিটিভি বলছে, বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই লড়াই চলার পর তা শেষ হয়। তবে ওই ভিডিওচিত্রটি কবে ধারণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। কিন্তু এই ভিডিওটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো যখন গালওয়ান উপত্যকার ওই সংঘাত নিয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠক করছেন।

গত ১৫ জুন রাতে লাদাখের ওই সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য দুই দেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের বৈঠক চলছে পূর্ব লাদাখের ভারতীয় অংশ মলডো এবং চীনা অংশের চুশুল সীমান্তে। গত ৬ জুনও এরকম বৈঠকে দুই দেশে সীমান্ত থেকে সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তা হয়নি শেষ পর্যন্ত।

উভয় পক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এমন ঘোষণা দেয়ার পর ১৫ জুন ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়, আহত হয় ৭৬ জন। ১৯৬৭ সালের পর দুই দেশের সীমান্তে এটাই চীন প্রথম হতাহত। এছাড়া প্রথমে কিছু না জানালেও চীন অবশেষে জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদেরও একজন কমান্ডিং অফিসার নিহত হয়েছেন।

তবে সীমান্ত উত্তেজনা এখন চরমে। সংঘর্ষের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী আগের নীতি থেকে সরে এসেছে। ভারতীয় ফিল্ড কমান্ডারদের ‘ব্যতিক্রমী’ পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।

উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে চীন কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে তার কড়া জবাব দেয়ার জন্য সব ধরনের স্বাধীনতা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। রাশিয়ায় যাওয়ার আগে চীন পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে এই নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

এরমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের কাজ বাড়িয়েছে চীন। চীনের সেনারা লাদাখের নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় ২০০টি ট্রাক এনেছে। এছাড়া চার চাকার আরও কিছু ভারী যান এবং বুলডোজার এনেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।