শত কোটি মুসলমানের মনে শক্ত করেই নাম লেখালেন গাম্বিয়ার আবুবকর!

মিয়ানমারের গণহ’ত্যা, ধ’র্ষণ ও নি’র্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহ’ত্যার অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া।

দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) শেষ দিন। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহ’ত্যা বা মানবতাবিরোধী অ’পরাধের মামলা করতে পারত অনেক দেশই। কিন্তু সবাই যখন আহা-উহু করে, নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি পার করে দিচ্ছিল, ঠিক তখনই গণহ’ত্যার মামলা করে সবাইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল গাম্বিয়া।

ওই মামলার মূল উদ্যোক্তা হলেন গাম্বিয়ার বিচারবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুবকর তামবাদু। আন্তর্জাতিক আদালতে রায় কী হবে, সেটা পরের বিষয়। কিন্তু গণহ’ত্যার মামলা হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন অন্তত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারকে গণহ’ত্যাকারী বলা যাবে।

আবুবকর প্রমাণ করে দিলেন, একজন ব্যক্তিই ইতিহাসে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। গাম্বিয়া পশ্চিম আফ্রিকার দরিদ্র এক দেশ। তিন দিকে সেনেগাল দিয়ে ঘেরা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গাম্বিয়ার কোনও প্রভাবের কথা তেমন শোনা যায় না। এমনকি ওআইসিতেও গাম্বিয়াকে বড় ধরনের শক্তি হিসেবে কেউ বিবেচনা করে না।

তবে গাম্বিয়া মানবিকতার দিক থেকে এখন শীর্ষেই থাকবে বলে মত বিশ্লেকদের। গত বছর ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ঢাকা বৈঠকে গাম্বিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে না পাঠিয়ে শেষ মুহূর্তে বিচারবিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদুকে পাঠায়। আবুবকর ওআইসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।

দেশে ফিরে গিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবুবকর জানান, রোহিঙ্গাদের প্রতিটি কথায় গণহ’ত্যার কাহিনি লেখা আছে। আমি এখানে রুয়ান্ডার গণহ’ত্যার সঙ্গে মিল খুঁজে পাই। রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জন্য আবুবকর ওইআইসিতে প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং এই বছর ওআইসিকে মামলায় সহযোগিতা করতে সম্মত করেন।

এভাবেই আবুবকর পশ্চিম আফ্রিকার এক ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়াকে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সামনে নিয়ে আসেন। যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে গত শতকের শেষ দিকে গাম্বিয়া ফিরে আইন পেশায় যোগ দেন আবুবকর। ২০০০ সালে একটি ঘটনা আবুবকরের চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই বছর ১৪ জন শিক্ষার্থীকে রাজপথে হ’ত্যা করে সরকারি বাহিনী। এরপরই আবুবকর মানবাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন।

২০০৩ সালে জাতিসংঘে যোগ দিয়ে তানজানিয়ায় রুয়ান্ডা গণহ’ত্যার বিচারে কৌঁসুলি হিসেবে অংশ নেন। বলা হয়ে থাকে, আবুবকরের কৌশলী ও দৃঢ় ভূমিকার কারণে সাবেক সেনাপ্রধান আউগুস্টিন বিজিমুনিগোর ৩০ বছরের কারাদ’ণ্ড হয়।

শেষ পর্যন্ত মামলার ফলাফল যা-ই হোক, ইতিহাস তাদের মনে রাখবে এই কারণে যে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা পরিচালনার আর্থিক সক্ষমতা না থাকার পরও রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আবুবকর নামের এক আইনজীবী তার দেশ গাম্বিয়াকে নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। কাজেই গাম্বিয়া ও আবুবকর তামবাদু উভয়েই ইতিহাসে পাতায় ঢুকে গেলেন।

মুসলিম শিক্ষার্থীদের নি’র্যাতনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে ভারতের ছাত্রসমাজ!

নাগরিত্ব আইনের বিরোধিতায় তুলকালাম চলছে ভারতজুড়ে। এর মাঝেই জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর আ’ক্রমণ চালিয়েছে পুলিশ। এর প্র’তিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সোমবার কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় মিছিল করেন।

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর শিক্ষার্থীদের মিছিলে ছিলেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাও। রবিবার জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি পী’ড়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যাদবপুর ও সল্টলেকের দুই ক্যাম্পাসেই প্র’তিবাদ মিছিল করেন।

মাঝরাতে নিউ টাউনের নারকেলবাগান মোড় প্রায় এক ঘণ্টা অ’বরোধ করে রাখেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে আলিয়া এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা আবার চিংড়িহাটা মোড়ের কাছে একত্রিত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষার্থীদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির বিদায়ী ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক অভীক দাস বলেন, ‘দিকে দিকে ছাত্রছাত্রীদের উপরে অ’ত্যাচার না-থামলে আমরা এই অবস্থান থেকে উঠব না।’

শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান রাত পর্যন্ত চলছিল। সন্ধ্যায় একই দাবিতে যাদবপুরের এসএফআই সমর্থকেরা আলাদা মিছিল বের করেন। বিকেলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষাকর্মীরা মিছিল করেন জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশি আক্রমণের প্র’তিবাদে।

দিনভর দফায় দফায় বি’ক্ষোভ মিছিল হয় কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সামনে ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। তাতে দুপুর থেকে বার বার অ’বরুদ্ধ হয়ে পড়ে কলেজ স্ট্রিট। বেলা ২টার দিকে প্রেসিডেন্সির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন।

কারমাইকেল হস্টেল থেকে বেরিয়ে এসে বি’ক্ষোভ দেখান আবাসিকেরা। সায়ন চক্রবর্তী নামে প্রেসিডেন্সির এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা চাই, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর বি’রুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করুন।’