ফিলিস্তিনের হেবরনে নতুনকরে বসতির পরিকল্পনা ইহুদীবাদী ইসরাইলের

ফিলিস্তিনের হেবরন শহরে মুসলমানদের বাড়িঘর গুঁ’ড়িয়ে দিয়ে নতুনকরে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ইহুদীবাদী স’ন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। এর আগে ফিলিস্তিনের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদেশটি পশ্চিমা দেশগুলোর মদদে অবৈধভাবে দখল করে ইহুদীবাদী ইসরাইল।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি ব্যানেট এরই মধ্যে ওই অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদনও দিয়েছেন। এবং হেবরন পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে তার নতুন করে ওই অবৈধ বসতি গড়ার অনুমোদনের কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে এই ইহুদীবাদী স’ন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল। হেবরনে এক লাখ ৬০ ফিলিস্তিনি মুসলমানের বসবাস। অন্যদিকে সেখানে গড়ে তোলা অবৈধ বসতিতে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাস করছে ৫০০ ইহুদি সেটেলার। সূত্র: আনাদোলুর।

এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ যার ভিত্তি স্থাপন করেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সা.) !

কুবা ম’সজিদ (আরবি:مسجد قباء) সৌদি আরবের ম’দিনায় অবস্থিত। এটি ইস’লামের প্রথম ম’সজিদ। হিজরতের পর মুহাম্ম’দ (সা.) এই ম’সজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন।

ম’সজিদটি ম’দিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব ম’সজিদে নববী থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। রাসুল (সঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম ম’সজিদ, এমনকি ইস’লামের এবং উম্মতে মোহাম্ম’দির প্রথম ম’সজিদ।

ম’সজিদে হারাম, ম’সজিদে নববী এবং ম’সজিদে আকসার পরই ম’সজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত। এ ম’সজিদের আলোচনা কোরআনে করা হয়েছে এবং ম’সজিদ সংলগ্ন অধিবাসীদের একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। ম’সজিদে কুবায় নামাজ আদায়ে অ’ত্যাধিক ফজিলত রয়েছে।

ম’সজিদে কুবায় নামাজের ফজিলতের কথা অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- হযরত ইবনে উম’র রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্বারোহণ করে কিংবা হেঁটে ম’সজিদে কুবায় আগমন করতেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। অন্য এক হাদিসে রয়েছে, প্রতি শনিবারে রাসুল সা. কুবায় আগমন করতেন। (বুখারি-মু’সলিম)।

আরেক হাদিসে বর্ণিত আছে, ম’সজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার সওয়াব একটি ওম’রাহর সমপরিমাণ। (তিরমিজি) রাসুল সা. আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালো’ভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নাত মোতাবেক অজু করে) ম’সজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওম’রাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইবনে মাজাহ)

তাই তো রাসুল সা. এর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার ম’সজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার জন্য গমন করা ম’দিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানেও তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে। হ’জরত মোহাম্ম’দ (সা.) পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন আল্লাহর নির্দেশে ম’ক্কা থেকে ম’দিনা অ’ভিমুখে হিজরত করেন।

আর এ হিজরতের মধ্য দিয়ে ম’দিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইস’লাম ও কোরআনের বাণী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাসূলের (সা.) হিজরতের পর সাহাবীরাও পর্যায়ক্রমে ম’দিনা গমন করেন। হ’জরত মোহাম্ম’দ (সা.) নিজ হাতে কুবা ম’সজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মূলত তারই তত্ত্বাবধানে ম’সজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হ’জরত মোহাম্ম’দ (সা.) বেশ কয়েকরাত এই ম’সজিদে অবস্থান করেন এবং কসর নামায আদায় করেন। ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়।

এই যোগসূত্রে ম’সজিদটির নামকরণ হয় ম’সজিদে কুবা। নবী করিম (সা.) ম’দিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ ম’সজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন।

ম’সজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করা হয়। নবীর আমলের পর ইস’লামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে ম’সজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই ম’সজিদের পুনর্নিমাণ ও সংস্কার করা হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে ম’সজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়।

এই ম’সজিদ নির্মাণে পুরো ম’সজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো ম’সজিদে সাধারণত দেখা যায় না। চারটি উঁচু মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অ’পেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব।

ম’সজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। ম’সজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ম’সজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর।

মূল ম’সজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কারপেট বিছানো মেঝেতে মু’সল্লিরা নামাজ আদায় করেন, রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা।