ইউরোপীয় দেশগুলোকে এরদোগানের কঠোর হু’মকি

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে ইউরোপীয় দেশগুলো সমর্থন না দিলে সেসব দেশের দিকে লাখ লাখ শরণার্থী ঠেলে দেওয়ার হু’মকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান। শনিবার (২৬ অক্টোবর) ইস্তানবুলে এক বক্তৃতায় তিনি এ হু’মকি দেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা তুরস্ক করছে তার প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলো সমর্থন দিক। তারা এ কাজে সমর্থন না দিলে ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক শরণার্থীদের জন্য নিজের সীমান্ত খুলে দেবে আঙ্কারা।’

এরদোয়ান দাবি করেন, তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়ার ভেতর থেকে তুরস্কে সশ’স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হা’মলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের চেষ্টা করছে ও ইউরোপীয়দের এ প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানাতে হবে। ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রো’হীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক।

পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর যু’দ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা। পরে তুরস্ক ও রাশিয়া সিরীয় কুর্দিদের বি’রুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার এক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক বৈঠক শেষে ওই চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তিতে সেখানে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মত হয় তারা।

তুর্কি-সিরিয় সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর ওই এলাকাগুলোয় তুরস্ক ও রাশিয়ার সেনারা অবস্থান করছে। তবে এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে ইউরোপের কিছু দেশ। বক্তব্যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার সোচিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠক।

উত্তর সিরিয়ার নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে কুর্দি গেরি’লাদের সরে যাওয়ার ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। এরদোগান নির্ধারিত ওই অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য কুর্দি গেরি’লাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা তা না করলে আবারও অভিযান শুরু করবে তুর্কি সেনাবাহিনী।