২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার ইসলামপন্থী নেতা ‘আবি আহমেদ আলি’

২০১৯ এ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। তিনি ১০০তম নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী ৮ম মুসলিম। ‘শান্তি অর্জন এবং আর্ন্তজাতিক সহযোগিতার’ প্রচেষ্টার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন নোবেলজয়ী প্রথম ইথিওপিয়ান নাগরিক।

প্রতি বছরের মতোই নোবেল পুরস্কারের এই ক্যাটেগরি নিয়ে সকলেরই বিশেষ আগ্রহ ছিল। ছিল কিশোরী পরিবেশ আন্দোলনকারী গ্রেটা থুনবার্গের দিকে বিশেষ নজরও। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে ঘোষিত হল ১০০তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম। নরওয়ের নোবেল কমিটি জানাল, সম্মানিত হচ্ছেন আবি আহমেদ।

এই বছরে নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩০১টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। যার মধ্যে ছিলেন ২২৩ জন ব্যক্তি এবং ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে সেই মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেননি নোবেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছিল। সবচেয়ে বেশি বার উঠে এসেছিল সুইডিশ কিশোরী গ্রেটার নাম। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন, ব্রাজিলের আদিবাসী নেতা ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী রাওনি মেতুকতিরের নামও শোনা যায়।

কিন্তু সকলকে হারিয়ে এই পুরস্কার জিতে নিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, ইথিওপিয়া এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার যুদ্ধ থামানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই মানুষটি। সেই যোগ্যতাতেই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতে নিলেন আবি আহমেদ। এতে ১‌৯৯৮-২০০০ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর গত ২০ বছরের অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে। ওই যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

আমেরিকার কিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, “আবি আহমেদ এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামানোয় তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। ৪৩ বছরের আবি সম্প্রতি ইথিওপিয়ার প্রতিবেশী দেশ সুদানের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিনিময়ের চুক্তিও করেছেন। সুদানে তিন দশক ধরে শাসন করা নেতা ওমর আল-বশিরের গ্রেফতারে রাজনৈতিক ভাবে উত্তাল ছিল দেশটি।

এমন পরিস্থিতিতেও এই চুক্তি স্থাপন তাঁর শুভ মানসিকতারই পরিচয় দেয়। তবে যে সংঘাত নিরসন করে আবি এই পুরস্কার পেলেন, সে সংঘাত সম্পূর্ণ থামাতে ইথিওপিয়ায় এখনও অনেক কাজ বাকি। কিন্তু আবি আহমেদের উপরে ভরসা রেখেছেন সে দেশের সাধারণ মানুষ। অশান্তি শেষে নতুন করে বাঁচার আলো দেখছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেন আবি আহমেদ। উঠিয়ে নেন মিডিয়া সেন্সরশিপ এবং বিরোধী দলের ওপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আবি আহমেদ। এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন মাদার টেরেজ়া, বারাক ওবামা, মহাত্মা গান্ধি, নেলসন মেন্ডেলা, মালআ ইউসুফজাই, কৈলাস সত্যার্থীর মতো ব্যক্তিত্ব। সেই তালিকায় জুড়ে গেল আবি আহমেদের নাম।

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে স্যার আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে এই নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় বিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তির বিষয়ে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ সালে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি