মুসলিম বিশ্বের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ হলেন ইমরান খান

‘মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার-২০২০’ মনোনীত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জর্ডানভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় ইমরান খানকে এ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। জর্ডানের আম্মানভিত্তিক রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার ‘দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড’ নামে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এবছর তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মুফতি তাকি উসমানি।

সার্বিক তালিকায় ১৬ নম্বরে রয়েছেন ইমরান খান। ২০১৯ সালের মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার- মনোনীত হয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ। ‘দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড’ প্রকল্পের চীফ এডিটর প্রফেসর আবদুল্লা শেলিফার অর্থনৈতিক সংকটের শক্তিশালী মোকাবেলা ও কাশ্মীর ইস্যুতে অসামান্য ভূমিকার জন্য ইমরান খানকে ‘মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করেন।

তালিকায় মুসলিম উইমেন অব দ্য ইয়ার হয়েছেন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব। রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার জানিয়েছে, ‘বর্তমান বিশ্বে সাবেক ক্রিকেটার তারকা ইমরান খান, যিনি ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তার শীর্ষস্থানীয় অগ্রাধিকারগুলির একটি হল ভারতের সঙ্গে স্থায়ী শান্তির জন্য কাজ করা। তিনি বাণিজ্য ও কাশ্মীর বিরোধ সমাধানের মাধ্যমে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে চেয়েছেন। ’

দীর্ঘ ২২ বছর রাজনৈতিক ময়দানে আন্দোলন করার পর পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ইমরান খান। এর মধ্যেই বিশ্বে যথেষ্ট পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তার ফলশ্রুতিতে তালিকায় ১৬ তম অবস্থানে জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেটার থেকে প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া এ তারকা। ক্ষমতায় এসে গ্রহণ করা বিভিন্ন সংস্কার পদক্ষেপ তার সাহস ও যোগ্যতার পরিচয় দেয় মি. নিয়াজি।

তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই ক্রিকেটার ও মানবহিতৈষী হিসেবে বিশ্বব্যাপী ইমরানের পরিচিতি ছিল। পাকিস্তানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার জন্য অক্লান্তভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সূত্র: ডন ও ইয়েনি শাফাক

ইসলামবিরোধী মিশনে যুক্ত হয়ে উল্টো ইসলামকেই ভালোবেসে ফেললেন: মার্কিন নারী

শরিফা কার্লোস। মার্কিন নাগরিক এই আইনজীবী কর্মজীবনের শুরুতে ইসলামবিরোধী গোপন দলের টার্গেটে পরিণত হন। তাদের প্ররোচনায় তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। ইসলামবিরোধী মিশনে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলামের অনুরাগী হয়ে ওঠেন।

২০০৭ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আমি পরিকল্পনা করেছিলাম, একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা। আর আল্লাহও একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম ইসলাম ধ্বংস করব। অন্যদিকে আল্লাহ চাইলেন আমি সত্যপ্রাপ্ত হই। আলহামদুলিল্লাহ! আজ আমি মুসলিম।

উঠতি বয়সে আমি একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হই এবং জঘন্য একটি পরিকল্পনা করি। সেটি ছিল একটি ভাসমান দল। যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে চাকরি করত, তবে তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলাম ধ্বংস করা। সম্ভবত তারা এখনো একই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত এটি সরকারের তৈরি কোনো দল নয়; তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজ নিজ পদ-পদবি ব্যবহার করে।

এই দলের একজন সদস্য আমাকে প্রলুব্ধ করেন। কারণ আমি ছিলাম একজন স্পষ্টবাদী, উৎসাহী ও নারীবিষয়ক আইনজীবী। তিনি আমাকে বলেন, যদি আমি মধ্যপ্রাচ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে লেখাপড়া করি, তবে তিনি মিসরের মার্কিন দূতাবাসে আমাকে চাকরি দেবেন। এ জন্য আমাকে আমেরিকার মুসলিম নারী সম্পর্কে কথা বলতে হবে এবং মুসলিম নারীদের ‘নারীবাদী আন্দোলন’-এ উৎসাহী করতে হবে।

আমি ভাবলাম, এটি একটি চমৎকার চিন্তা। আমি টেলিভিশনে মুসলিম নারীদের দেখেছি। আমার জানা মতে তারা ছিল দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ। আমি চাইতাম বিংশ শতাব্দীর নারী স্বাধীনতার আলোয় তারা আলোকিত হোক। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য কলেজে ভর্তি হলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে আরম্ভ করলাম।

আমার পড়ার ধরন ছিল এমন যেন আমি প্রাপ্ত তথ্যসমূহ নিজ এজেন্ডা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারি। আমি এটাই শিখছিলাম, কথাগুলো কিভাবে উপাদেয় করে ‘ইচ্ছা অনুযায়ী’ তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। কৌশলগুলো আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একসময় আমি উপলব্ধি করতে শুরু করি, আমি ইসলামের শিক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি। এটা আমার ভেতরে একটি চেতন তৈরি করছে।

বিষয়টি ছিল আমার জন্য ভীতিকর। এই প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমি খ্রিস্ট ধর্মের ক্লাসে বসতে শুরু করি। এই ক্যাম্পাসের একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকের ক্লাসে বসতাম। তিনি এই বিষয়ে খ্যাতিমান ছিলেন। ধর্মতত্ত্বের ওপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্লাস শুরু করার পর বুঝতে পারলাম, তিনি ছিলেন একজন একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান।

তিনি ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করেন না। তার বিশ্বাস মতে, ঈসা (আ.) একজন নবী ছাড়া কিছু নন। তিনি বাইবেলের গ্রিক, হিব্রু ও অ্যামারাইক অনুলিপি দ্বারা তা প্রমাণ করেন এবং দেখান একেশ্বরবাদের বিশ্বাস কিভাবে পরিবর্তন হলো। একেশ্বরবাদের বিশ্বাস পরিবর্তিত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি তুলে ধরেন। তার কোর্স শেষ হওয়ার পর আমার ধর্মবিশ্বাস ধ্বংস হয়ে যায়। তবে আমি তখনো ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।

নিজেকে ও নিজের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ করার জন্য আমি লেখাপড়া অব্যাহত রাখলাম। এমনিভাবে তিন বছর কেটে গেল। এ সময় আমি মুসলিমদের তাদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে প্রশ্ন করি। একবার আমি মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) একজন সদস্যের কাছে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ! সে দ্বিনের ব্যাপারে আমার আগ্রহ বুঝতে পারে এবং আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানাতে ব্যক্তিগত সব উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বর্তমান বিশ্বের আলোকে ইসলামের সব দিক নিয়ে আলোচনা করে। একদিন সে আমাকে আমাদের শহর পরিদর্শনে আসা আগত একদল মুসলিম সম্পর্কে জানাল। সে তাদের সঙ্গে আমাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার আগ্রহ দেখাল। আমি তাদের সঙ্গে এশার নামাজে শরিক হতে সম্মত হলাম। সে রুমে ২০ জন মানুষ ছিলেন। তারা সবাই আমাকে বসার জায়গা করে দিলেন। আমি একজন বয়স্ক পাকিস্তানি ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে বসলাম।

মাশাআল্লাহ! তিনি খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। তার সঙ্গে আমার কোরআন ও বাইবেলের বিভিন্ন বাণী ও শিক্ষা নিয়ে ফজর পর্যন্ত কথা হয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কিত ক্লাসে আমি যা শিখেছিলাম তিনি তা-ই বলছেন। ভিন্ন কিছু বলছেন না। তিনি আমাকে মুসলিম হওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। তিন বছর ধরে আমি অনুসন্ধান ও গবেষণা করেছি, কিন্তু কেউ আমাকে আহ্বান জানায়নি।

এ সময় আমাকে শেখানো হয়েছে, আমার সঙ্গে তর্ক হয়েছে; এমনকি অপমান করা হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাকে আমন্ত্রণ জানায়নি। ফলে সে যখন আমাকে আহ্বান জানালেন, আমার ভেতরে নাড়া দিল। আমি বুঝলাম, এটিই প্রার্থিত সময়। আমি জানতাম, ইসলাম সত্য। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার হৃদয় উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি মুসলিম হতে চাই।

তখন সেই আলেম আমাকে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় কালেমা শাহাদাত পাঠ করালেন। ইসলাম গ্রহণের পর আমার অবাক অনুভূতি হলো। মনে হলো, আমার বুকের ওপর থেকে বিশাল ভার নেমে গেল। আমি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিই, যেন জীবনে প্রথম আমি নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। এখন আমার প্রার্থনা, অবশিষ্ট জীবন যেন মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করতে পারি এবং মুসলিম হিসেবেই মৃত্যুবরণ করি। সূত্র : সায়েন্স অ্যান্ড ফেইফ