নির্যাতিত কাশ্মীরিদের পাশে আছি আমরা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কমলা হ্যারিস বলেছেন, আমরা কাশ্মীরিদের মনে করিয়ে দিতে চাই, তারা একা নন, আমরাও আছি তাদের সঙ্গে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ মার্কিন রাজনীতিক বলেন, আমরা এ সমস্যা সমাধানের একটি পথ খুঁজছি। প্রয়োজন পড়লে আমরা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপও করতে পারি। খবর দ্য ডনের।

এ নিয়ে তিন মার্কিন সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কাশ্মীরিদের পক্ষে কথা বললেন। কমলা হ্যারিসের আগে ডেমোক্র্যাট দলের অপর দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বার্নি স্যানডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেনও কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেছেন। বার্নি স্যানডার্স বলেছেন, ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত অন্যায় করেছে, এটি মেনে নেয়া যায় না।

তাদের জাতিসংঘের পরামর্শ মতে কাশ্মীরিদের মতামত নেয়া উচিত ছিল। এ ছাড়া সিনেটর ওয়ারেন বলেন, ভারতের উচিত কাশ্মীরের জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। একই সঙ্গে ইহুদি লবিংয়ের কারণে ভারতের পক্ষ নেয়ায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন।

ইসলামবিরোধী মিশনে যুক্ত হয়ে উল্টো ইসলামকেই ভালোবেসে ফেললেন: মার্কিন নারী

শরিফা কার্লোস। মার্কিন নাগরিক এই আইনজীবী কর্মজীবনের শুরুতে ইসলামবিরোধী গোপন দলের টার্গেটে পরিণত হন। তাদের প্ররোচনায় তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। ইসলামবিরোধী মিশনে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলামের অনুরাগী হয়ে ওঠেন।

২০০৭ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আমি পরিকল্পনা করেছিলাম, একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা। আর আল্লাহও একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম ইসলাম ধ্বংস করব। অন্যদিকে আল্লাহ চাইলেন আমি সত্যপ্রাপ্ত হই। আলহামদুলিল্লাহ! আজ আমি মুসলিম।

উঠতি বয়সে আমি একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হই এবং জঘন্য একটি পরিকল্পনা করি। সেটি ছিল একটি ভাসমান দল। যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে চাকরি করত, তবে তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলাম ধ্বংস করা। সম্ভবত তারা এখনো একই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত এটি সরকারের তৈরি কোনো দল নয়; তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজ নিজ পদ-পদবি ব্যবহার করে।

এই দলের একজন সদস্য আমাকে প্রলুব্ধ করেন। কারণ আমি ছিলাম একজন স্পষ্টবাদী, উৎসাহী ও নারীবিষয়ক আইনজীবী। তিনি আমাকে বলেন, যদি আমি মধ্যপ্রাচ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে লেখাপড়া করি, তবে তিনি মিসরের মার্কিন দূতাবাসে আমাকে চাকরি দেবেন। এ জন্য আমাকে আমেরিকার মুসলিম নারী সম্পর্কে কথা বলতে হবে এবং মুসলিম নারীদের ‘নারীবাদী আন্দোলন’-এ উৎসাহী করতে হবে।

আমি ভাবলাম, এটি একটি চমৎকার চিন্তা। আমি টেলিভিশনে মুসলিম নারীদের দেখেছি। আমার জানা মতে তারা ছিল দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ। আমি চাইতাম বিংশ শতাব্দীর নারী স্বাধীনতার আলোয় তারা আলোকিত হোক। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য কলেজে ভর্তি হলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে আরম্ভ করলাম।

আমার পড়ার ধরন ছিল এমন যেন আমি প্রাপ্ত তথ্যসমূহ নিজ এজেন্ডা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারি। আমি এটাই শিখছিলাম, কথাগুলো কিভাবে উপাদেয় করে ‘ইচ্ছা অনুযায়ী’ তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। কৌশলগুলো আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একসময় আমি উপলব্ধি করতে শুরু করি, আমি ইসলামের শিক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি। এটা আমার ভেতরে একটি চেতন তৈরি করছে।

বিষয়টি ছিল আমার জন্য ভীতিকর। এই প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমি খ্রিস্ট ধর্মের ক্লাসে বসতে শুরু করি। এই ক্যাম্পাসের একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকের ক্লাসে বসতাম। তিনি এই বিষয়ে খ্যাতিমান ছিলেন। ধর্মতত্ত্বের ওপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ক্লাস শুরু করার পর বুঝতে পারলাম, তিনি ছিলেন একজন একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান।

তিনি ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করেন না। তার বিশ্বাস মতে, ঈসা (আ.) একজন নবী ছাড়া কিছু নন। তিনি বাইবেলের গ্রিক, হিব্রু ও অ্যামারাইক অনুলিপি দ্বারা তা প্রমাণ করেন এবং দেখান একেশ্বরবাদের বিশ্বাস কিভাবে পরিবর্তন হলো। একেশ্বরবাদের বিশ্বাস পরিবর্তিত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি তুলে ধরেন। তার কোর্স শেষ হওয়ার পর আমার ধর্মবিশ্বাস ধ্বংস হয়ে যায়। তবে আমি তখনো ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।

নিজেকে ও নিজের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ করার জন্য আমি লেখাপড়া অব্যাহত রাখলাম। এমনিভাবে তিন বছর কেটে গেল। এ সময় আমি মুসলিমদের তাদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে প্রশ্ন করি। একবার আমি মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) একজন সদস্যের কাছে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাই। আলহামদুলিল্লাহ! সে দ্বিনের ব্যাপারে আমার আগ্রহ বুঝতে পারে এবং আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানাতে ব্যক্তিগত সব উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বর্তমান বিশ্বের আলোকে ইসলামের সব দিক নিয়ে আলোচনা করে। একদিন সে আমাকে আমাদের শহর পরিদর্শনে আসা আগত একদল মুসলিম সম্পর্কে জানাল। সে তাদের সঙ্গে আমাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার আগ্রহ দেখাল। আমি তাদের সঙ্গে এশার নামাজে শরিক হতে সম্মত হলাম। সে রুমে ২০ জন মানুষ ছিলেন। তারা সবাই আমাকে বসার জায়গা করে দিলেন। আমি একজন বয়স্ক পাকিস্তানি ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে বসলাম।

মাশাআল্লাহ! তিনি খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। তার সঙ্গে আমার কোরআন ও বাইবেলের বিভিন্ন বাণী ও শিক্ষা নিয়ে ফজর পর্যন্ত কথা হয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কিত ক্লাসে আমি যা শিখেছিলাম তিনি তা-ই বলছেন। ভিন্ন কিছু বলছেন না। তিনি আমাকে মুসলিম হওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। তিন বছর ধরে আমি অনুসন্ধান ও গবেষণা করেছি, কিন্তু কেউ আমাকে আহ্বান জানায়নি।

এ সময় আমাকে শেখানো হয়েছে, আমার সঙ্গে তর্ক হয়েছে; এমনকি অপমান করা হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাকে আমন্ত্রণ জানায়নি। ফলে সে যখন আমাকে আহ্বান জানালেন, আমার ভেতরে নাড়া দিল। আমি বুঝলাম, এটিই প্রার্থিত সময়। আমি জানতাম, ইসলাম সত্য। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার হৃদয় উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি মুসলিম হতে চাই।

তখন সেই আলেম আমাকে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় কালেমা শাহাদাত পাঠ করালেন। ইসলাম গ্রহণের পর আমার অবাক অনুভূতি হলো। মনে হলো, আমার বুকের ওপর থেকে বিশাল ভার নেমে গেল। আমি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিই, যেন জীবনে প্রথম আমি নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। এখন আমার প্রার্থনা, অবশিষ্ট জীবন যেন মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করতে পারি এবং মুসলিম হিসেবেই মৃত্যুবরণ করি। সূত্র : সায়েন্স অ্যান্ড ফেইফ