অবিশ্বাস্য ব্যাপার, তিন দিনে কুরআনের হাফেজ!

এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কুরআন শরিফের আগে আরো অনেক আসমানি কিতাব-সহিফা নাজিল হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কুরআন শরিফ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কোরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কুরআন শরিফের আগে আরো অনেক আসমানি কিতাব-সহিফা নাজিল হয়েছিল।

এ ক্ষেত্রে কোরআন শরিফ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। অতএব, কিয়ামত পর্যন্ত একে অবিকৃত ও সুসংরক্ষিত রাখা হবে। এতে কোনো ধরনের বিকৃতি ঘটবে না, এখানে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এটা এ কারণে নিশ্চিত হয়েছে যে কুরআন শরিফ সংরক্ষণের দায়িত্ব খোদ আল্লাহতায়ালা নিজের দায়িত্বে রেখে দিয়েছেন।

তিনি আমাদের মতো মানুষের মাধ্যমেই এর সংরক্ষণ করবেন এবং তা করছেনও। প্রতিদিন হাজার হাজার মাসুম বাচ্চা কোরআন শরিফের হাফেজ হচ্ছে। গোটা দুনিয়ার মুদ্রিত সব কোরআন একসঙ্গে আগুনে পুড়িয়ে দিলেও লাখো হাফেজের কণ্ঠ থেকে অবিকৃত কুরআন শরিফের সুরেলা আওয়াজে মুখরিত হবে তামাম দুনিয়া।

সত্যিই এটা এক বিরল বিষয়। এ ধরনের নজির অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যায় না। আল্লাহতায়ালা কর্তৃক কুুরআন সংরক্ষণের এ ব্যবস্থাপনার নজির বিশ্ববাসী প্রায়ই দেখে। তেমনি এক অনন্য উদাহরণহিশাম বিন কালবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দীন। তিনি একবার এমন এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে প্রায় সবাই ছিলো হাফেজ।

তাই প্রত্যেকের নাম ঘোষণার সময় ‘হাফেজ-আলেম’ উপাধিসহ ঘোষণা করা হলেও তার নাম ঘোষণার সময় বলা হয় ‘হিশাম বিন কালবি অনেক বড় আলেম হলেও হাফেজ নন। এতে তিনি খুব কষ্ট পান এবং হাফেজ হতে না পারার আক্ষেপে জর্জরিত হতে থাকেন। তিনি বলেন, এরপর আমি ভেতর থেকে হাফিজ হওয়ার আরও বেশি তাড়না অনুভব করতে লাগলাম। অবশেষে আমি হাফিজ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেল্লাম।

হিশাম বিন কালবি বলেন, সেই বৈঠকের তিন দিনের ভিতরেই আমি আল্লাহর রহমতে কুরআনুল কারিম মুখস্থ করে ফেললাম। এতে মানুষ খুব অবাক হয়। এবং আমাকে পরীক্ষা করতে চাইলে আমি সাগ্রহে পরীক্ষা দিতাম। (খুতবাতে জুলফিকার,কুরআন প্রেমিকদের অমর কাহিনী)

এবার জাতিসংঘ কাঁপালেন এরদোগান ও ইমরান খান

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে মুসলিম বিশ্বের দু’জন নেতার বক্তব্যে সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশেষভাবে মুসলিম বিশ্বের চলমান সঙ্কট নিয়ে তারা বক্তব্য রেখেছেন। নিজেদের সঙ্কট ও সমস্যার চাইতেও মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সঙ্কট ও তার সমাধানের ব্যাপারে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

মুসলিম বিশ্বের এই দুই নেতা হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিশ্ব নেতারা যখন জাতিসঙ্ঘ ফোরামে বিশেষভাবে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন তখন তারা বিশেষত নিজ দেশের শ্রোতাদের দিকে খেয়াল রেখে বক্তব্য রাখেন।

কিন্তু এ দুই নেতা বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশেই বক্তব্য রেখেছেন। রজব তাইয়েব এরদোগান পরিষদে এবারের অধিবেশনে মুসলিম বিশ্বের চলমান সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।

২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইসরাইলি সম্প্রসারণবাদ, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) ভোট দান পদ্ধতির সংস্কার, সিরিয়া সঙ্কটের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, মিসরে আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির স্বৈরশাসন ও মিয়ানমার, গাজা, কাশ্মির এবং আফগানিস্তানে মুসলমানদের দুর্দশা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এরদোগান সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ে অধিক সময় ধরে বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, তুরস্ক ইসলামিক স্টেট বা দায়েশের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে। তুরস্ক সিরিয়ায় অপারেশন ইউফ্রেইটস শিল্ড চালানোর পর দায়েশ সম্পূর্ণভাবে পরাজয় বরণ করে। এরদোগান বলেন, দায়েশ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত ও তাদের মূলোৎপাটনে তুরস্ক বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়েছে।

বিপুল সংখ্যক দায়েশ সন্ত্রাসী যারা সিরিয়ায় প্রবেশের জন্যে তুরস্ককে ব্যবহার করেছিল- এটা তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিণত ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, তুরস্ক এ পর্যন্ত সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। দেশটির শরণার্থীদের জন্য অন্য কোনো দেশ এত বেশি পরিমাণ অর্র্থ ব্যয় করেনি।

এরদোগান সিরীয় শিশু শরণার্থী এলানকুর্দির ছবিসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে একটি নৌকায় করে শরণার্থীরা গ্রিসে যাওয়ার সময় নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ওই শিশুটির লাশ ভেসে তুরস্কের নদী তীরে গিয়ে পৌঁছে। এরদোগান বলেন, ‘তার দেশ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জারাব্লুস শহরে তিন লাখ ৬৫ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে তাদের বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছে।

জারাব্লুস শহরটি তুরস্কের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তুর্কি কর্মকর্তারা সেটার দেখাশোনা করছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্কের ইচ্ছা অনুযায়ী তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠন করা হলে এবং সেটা দিয়ার এজর এবং রাক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত করা গেলে এরদোগান জানান, সেখানে আরো ৩০ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে পুনরায় পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।

তুরস্কের জন্য সিরীয় সঙ্কটের এটা হবে একটি আদর্শ সমাধান। কিন্তু এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ওই ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে তুরস্কের প্রবেশের বিরোধিতা করবে। ওয়াশংটন চায় ওই এলাকা সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে থাকুক। মনে রাখা প্রয়োজন তাদের মেরুদণ্ড হলো কুর্দিস পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি)।

দ্বিতীয়, এসব এলাকা বিশেষত ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব দিকে তুর্কি-সিরীয় সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এবং এখানে প্রধানত কুর্দিদের বসবাস। জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগের আগে এরদোগান বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো থেকে মুক্ত করে ওই অঞ্চলের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর ওই এলাকার প্রকৃত মালিক হচ্ছে আরবরা।

প্রধানত, কুর্দি বসবাসকারী ওই এলাকায় এই আইন বলবৎ করা হলে কুর্দিরা সম্ভবত তাদের এলাকায় নন কুর্দিদের বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করবে। তৃতীয়ত, ৩০ লাখ শরণার্থীর জন্য গৃহায়নের ব্যবস্থা করতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এত বিশাল পরিমাণ অর্থ সংস্থান করাও খুব সহজ হবে না। ইসরাইল সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরদোগান ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে কিভাবে ফিলিস্তিন এবং সিরিয়ার ভূখণ্ড দখল করে ইসরাইল তাদের দেশের সীমানা বৃদ্ধি করেছে তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এখন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের বিরাট অংশ দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মিসর নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরদোগান আদালত কক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যু এবং তার যথাযথ জানাজা অনুষ্ঠানে বাধা প্রদানের নিন্দা করেন। এরদোগান নিরাপত্তা পরিষদের ভোটদান পদ্ধতির বারবার বিরোধিতা করে বলেন, পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের চাইতে ‘বিশ্ব অনেক বড়’।

পারমাণবিক ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হয় সবার জন্য এটা নিষিদ্ধ করতে হবে অথবা সবার জন্য এর অনুমতি দিতে হবে।’ ২৭ অক্টোবর শুক্রবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইমরান খান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নিয়ে নজিরবিহীন অবরোধ কার্যকর করে নির্মম দমনাভিযান চালিয়ে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে কাশ্মিরে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে।

তা ছাড়া কাশ্মির নিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যেকোনো সময় যুদ্ধ বা সঙ্ঘাতের নেতিবাচক পরিণতি যে, বিশ্বকেও ভোগ করতে হবে- তাও ইমরান স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইমরান বলেন, অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে কাশ্মিরে রক্তগঙ্গা বইবে। তিনি কাশ্মিরে মোদির পদক্ষেপকে নির্মম ও বোকামি বলে উল্লেখ করেন। ইমরান বলেন, কাশ্মির ঘিরে নেয়া মোদির পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।