জাতিসংঘ থেকে ফিরে কাশ্মীর ইস্যূৎ’তে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করলেন ইমরান খান

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেষণে বক্তব্য রাখার সময় কাশ্মীর নিয়ে আগুনঝরা বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে এবং তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইমরান খানের ওই হুঁশিয়ারির পর কাশ্মীর পুনরায় কারফিউ জারি করেছে ভারত।

সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়ে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরেছেন ইমরান খান। বিমানবন্দরে তাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমরান খান কাশ্মীর নিয়ে বলেন, কাশ্মীরিদের ওপর জুলুম চলছে।

এই মুহূর্তে কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোটা জিহাদ। আমরা কাশ্মীরিদের পাশে রয়েছি, কারণ আমরা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাই। তিনি বলেন, লড়াই চলাকালীন বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমাদের হতাশ হলে চলবে না। কাশ্মীরের মাজলুম জনগণ আমাদের দিকে চেয়ে রয়েছে, এ অবস্থায় তাদের জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনতার জন্য ৭০ বছরে এক লাখ কাশ্মীরি প্রা’ণ দিয়েছে : জাতিসংঘে জানালেন ইমরান খান

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভাষণে ইমরান খান পয়েন্ট আকারে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। পয়েন্টগুলো ছিল, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থ পাচার, ইসলামোফোবিয়া ও কাশ্মীর ইস্যু।

মূলত কাশ্মীর ইস্যুতেই তিনি বক্তব্যের বড় অংশটি কথা বলেন। ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুতে বিশ্বকে সতর্ক করে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র মুখোমুখি অবস্থানে আছে। যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কি ১২০ কোটির অর্থশালী ভারতের পাশে দাঁড়াবে, না মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র তার থেকে ৭ গুণ ছোট একটা রাষ্ট্রকে এই অবস্থায় নিয়ে যায় যে, হয়তো আত্মসমর্পণ কর, না হয় মৃত্যু পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ কর। তখন আপনারা কি করবেন? আমি প্রায় নিজেকে নিজেই এই প্রশ্ন করি। এবং আমি বিশ্বাস করি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আমরা লড়বো শেষ পর্যন্ত লড়বো।

যখন কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ শেষ অবধি লড়াই চালিয়ে যায় তখন এর পরিণাম মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের লড়াইয়ের প্রভাব তখন পুরো দুনিয়ার ওপর পড়বে। সমগ্র বিশ্বকে এর ফল ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন, আপনারা ওয়াদা করেছিলেন যে, কাশ্মীরিদের স্বাধীনতা এনে দেবেন। কিন্তু এখন তারা স্বাধীনতার বদলে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এখনই সময় পদক্ষেপ নেয়ার। আর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে কাশ্মীরে ৫৫ দিন ধরে ভারত যে অমানবিক কারফিউ জারি করে রেখেছে, তা বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি আপনাদের সতর্ক করতে। আপনাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের জন্য এটা একটা পরীক্ষা। ভারতকে সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে।

বিশেষ করে ১৩ হাজার কিশোরকে, যাদের তারা আটক করেছে, এবং যাদের বিষয়ে কোন তথ্যও তাদের পরিবার পাচ্ছেনা, তাদের মুক্তি দিতে হবে। ইমরান খান বলেন, মোদী অহংকারে অন্ধ হয়ে গেছেন। অহংকারের কারণে তিনি বুঝতে পারছেন না যে কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মোদী এটা ভাবছেন না যে, যখন কারফিউ শেষ হবে, তখন অবস্থা কি দাঁড়াবে। কাশ্মীরিরা কি চুপচাপ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে?

গত ৭০ বছরে এক লাখ কাশ্মীরি শহীদ হয়েছে স্বাধীনতার জন্য। যে স্বাধীনতা তাদের দেয়ার ওয়াদা করেছিল জাতিসংঘ। খোদ জাতিসংঘের দুইটি রিপোর্ট রয়েছে কাশ্মীরিদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে। কিন্তু তারপরেও দুনিয়া চুপ রয়েছে। কারণ ভারত ১২০ কোটি মানুষের বিশাল মার্কেট। তিনি বলেন, আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অর্থ মানুষের জীবনের চেয়েও দামী হয়ে গেছে। এর ফলাফল খুব খারাপ হবে।

আমি আপনাদের এটা জানিয়ে যাচ্ছি যে, যখন কাশ্মীরের কারফিউ উঠে যাবে, তখন রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। কাশ্মীরিরা রাস্তায় নেমে আসবে। কাশ্মীরে ভারতের ৯ লাখ সেনা রয়েছে। যখন কাশ্মীরিরা রাস্তায় নামবে, তখন এই সেনারা রক্তের স্রোত বইয়ে দেবে। তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের পশুর মত তাদের ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের বন্দী করা হয়েছে।

এবং কি ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৩ হাজার কাশ্মীরি কিশোরদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল্লাহ জানে তারা কোথায় আছে। এই অবস্থায় কারফিউ উঠে যাওয়ার পর কি হবে কাশ্মীরে! তারা রাস্তায় নেমে আসবে। আর ভারতীয় সেনারা তাদের গুলি করবে। ইতিপূর্বেও প্লেটগানের মাধ্যমে অনেককে অন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইমরান খান সতর্ক করে বলেন, এই অবস্থায় আরো একটি পালওয়ামা কাণ্ড ঘটতে পারে।

ইমরান খান বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর আজীবন সদস্য। আর আরএসএস হচ্ছে হিটলার ও মুসলিনীর আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, এই আরএসএসই ১৯৪৮ সালে ভারতের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল। মোদী ও আরএসএস ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গা লাগিয়ে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল। মোদী এক সময় আমেরিকায় নিষিদ্ধ ছিলেন।

সূত্র : জিয়ো নিউজ