দুর্গা অষ্টমীর দিনে মুসলিম বালিকার পূজা করার প্রস্তুতি

সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার সময়ে এক মুসলিম বালিকাকে কুমারী রূপে পূজা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার বাগুইআটির অর্জুনপুরের দত্তবাড়ি। পূজা করার জন্য চার বছর বয়সী বালিকা ফাতেমাকে মূর্তি সাজিয়ে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে তার পুজা করা হবে।

ফাতেমাকে ‘কালিকা’ রূপে সিংহাসনে বসিয়ে আরাধনা ও পূজার্চনা করবেন দত্তবাড়ির কুলবধূ মৌসুমী দত্ত। তার কথায়, ‘যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত করে, ঈশ্বরের অর্ঘ্য থেকে সে বঞ্চিত হয়। অষ্টমীর দিন তাই দুর্গা রূপে বরণ করে নেব ফাতেমাকে।’ পেশায় আইনজীবি মৌসুমী দেবী জানান, ‘প্রথম থেকেই দত্তবাড়িতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।

সে বছর এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে পূজা করি, তার পরের বছর অব্রাক্ষণ বাড়ির মেয়ে, ২০১৪ সালে ডোম পরিবারের এক শিশু কন্যা, গতবছর ফের এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়েকে কুমারী হিসাবে পূজা করি। বাড়ির সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এবার সিদ্ধান্ত হয় যে দুর্গাপূজায় কোনো জাতপাতের ভেদাভেদ রাখব না আমরা।

সেই মতে এবছর মুসলিম শিশু কন্যাকে পূজো করার সিদ্ধান্ত নেই।’ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে কামারহাটির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিনি তার ভাগ্নি- বয়স চার, নাম ফাতেমাকে দিতে রাজি হন।

ফাতেমা এখন মামাবাড়িতে ঘুরতে কলকাতায় এসেছে। তাকেই অষ্টমীর দিন বরণ করে নেবে দত্তবাড়ি। তারপর তাকে লাল টুকটুকে বেনারসি, চন্দন, ফুলের মালা দিয়ে দুর্গা প্রতিমার মতো করে সাজিয়ে কুমারী পূজা করা হবে। সে দিনটির দিকেই তাকিয়ে দুই পরিবার।

এবার চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক বিশ্ব সুন্দরী মার্কেটা খৃষ্ট ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ !

চেক প্রজাতন্ত্রো সাবেক বিশ্ব সুন্দরী মার্কেটা কোরিনকোভা খৃষ্ট ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজের নাম বদল করে রেখেছেন মরিয়ম। তিনি বলেন, এতদিন খৃষ্ট ধর্মের অনুসারী হিসেবে জীবন যাপনের জন্য আজ তিনি অনুতপ্ত। তিনি জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ও নিজ দেশ ছেড়ে তিনি দুবাইয়ে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে নারীকে দেয়া অধিকার ও মর্যাদা তাকে এই ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে তিন বছর ধরে চিন্তাভাবনা করছিলেন বলেও জানান তিনি। দুবাইয়ে এক প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা জানান।

লন্ডনে আরব জার্নাল ‘আল কুদস আল আরাবিয়ায়’ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী একজন আন্তর্জাতিক বিখ্যাত প্রোডকাশন ডিজাইনার, সুপার মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মার্কেটা কোরিনকোভার এই ঘোষণা তার ভক্ত-অনুরাগীদের বিস্মিত করেছে।

২০১২ সালে ইটালীতে অনুষ্ঠিত বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় তিনি মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হন এবং এরপর তিনি আন্তর্জাতিক লাইমলাইটে চলে আসেন। অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। অল্পসময় পরেই তিনি একজন সুপারমডেল হয়ে উঠেন। হলিডডের চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেন।

‘এমই লাভ’ ছবিতে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের ফিল্ম একাডেমির পরিচালক পদও লাভ করেন। ডিজাইনার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিও অর্জন করেন। দুবাইয়ের নামকরা কোম্পানি আলি অ্যান্ড সন্স গ্রুপ কোম্পানি তাকে তাদের সেলস ম্যানেজার হিসেবে তাকে নিয়োগ করে।

প্রাগের চালর্স ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজী সাহিত্যে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি লন্ডনের রয়েল কলেজ অব আর্ট’র ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যান্ড টিভি স্কুল থেকে প্রোডাকশন ডিজাইনের উপর এমএ করেন। তিনি কিছুদিন বিবিসিতেও কাজ করেছেন। মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব পাওয়ার পর তিনি বিরাট উচ্চতায় উঠে যান। তবে তিনি বলেন, সবকিছু পাওয়া সত্ত্বেও তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

মানসিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সবকিছুই পরীক্ষা করেছেন। তিনি মদ্যপানের আশ্রয় নেন, গান-বাজনার দিকে ঝুঁকে পড়েন, জুয়া খেলায় মেতে উঠেন কিন্তু কিছুই তার মনকে শান্ত করতে পারেনি। সে সময় তার এক বন্ধুর পরামর্শে তিন বছর তিনি বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন। জন্মগত খ্রিস্টান হিসেবে তিনি খৃষ্টধর্মে মানসিক সান্ত¦না খুঁজে পাননি।

খৃষ্ট ধর্মে ভীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং এতে তার চোখ খুলে যায়। ইসলাম ধর্ম নারীকে যে মর্যাদা দান করেছে তা জেনে তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং এই ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। সংযুক্ত আরব আমীরাতে কিছুদিন থাকার পর তিনি দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় তাকে বলা হয়েছিল, ইসলাম ধর্ম নারীদের কোন মর্যাদা দেয়না।

তিনি যখন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন তখন ইসলামের সত্য তার সামনে প্রতিভাত হয়ে উঠে। ইসলামই নারীকে সর্বোচ্চ সন্মান ও মর্যাদা দিয়েছে আর পশ্চিমা বিশ্ব স্বাধীনতার নামে মহিলাদের নিয়ে খেলা করছে। তিনি বলেন, তিনি দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে আরো বেশী ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।

তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন যে দীর্ঘদিন ধরে তার মনের মধ্যে একটি বোঝা অনুভব করছিলেন এবং কোন কারণ ছাড়াই তার মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। ইসলামের পবিত্র কালেমা পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে মনের সেই অস্থিরতা দূর হয়ে যায়। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি পশ্চিমা পোষাক ত্যাগ করে হিজাব পড়তে শুরু করেন। হিজাব পরিহিত ছবি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে পোস্ট করেন যা দেখে তার ভক্তরা অবাক হয়।

প্রথমে তারা মনে করেছিল কোন আরব ফ্যাশন শোতে অংশ নেয়ার ছবি তিনি পোস্ট করেছেন। তিনি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং নিজের নাম বদলের কথা ঘোষণা করেন তখন তাদের বিস্ময় আরো বৃদ্ধি পায়।