কুরআন হাদিসের নিষেধাজ্ঞা স্বত্তেও মসজিদে নববী ও রাসূলের রওজায় ইসলাম বিদ্বেষী ইহুদী ব্লগার

উপরে-যে ছবির লোকটি দেখতে পাচ্ছেন তার নাম BenTzion সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী চরম একজন ইহুদি ব্লগার। এমনকি সে জেরুজালেম পোষ্ট এবং টাইমস অফ ইসরায়েল বিশিষ্ট লেখক, নাপাক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের অধিবাসী। ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ভেতরে অবস্থান করছে। নাউজুবিল্লাহ!!!

আজ মনে পড়ে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার সেই অমর ঈমানদীপ্ত বাণী “আমি বেঁচে থাকলে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদেরকে জাজিরাতুল আরব থেকে সমূলে বিতাড়িত করবো কেননা এটাই ছিল হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা/আদেশ মুবারক।”

সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ্ ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা মুবারক পূরণ করার জন্য হয়রত খলীফাতুল মুসলিমীন ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি উনার খেলাফতের সময় মদিনা শরীফের শেষ ইহুদী গোত্রকে মদিনা শরীফ ও জাজিরাতুল আরব থেকে বিতাড়িত করে শামেতে পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু আজ আলে সৌদ এর শয়তান বিন সালমান সেই ইহুদী জিঊকে মহাসম্মানিত পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ভিতরে প্রবেশ করে নাপাক করে দিয়েছে। নাউজুবিল্লাহ!!! এটাই হলো সৌদির ইন্টারফেইথ ডায়ালগ কর্মসুচীর একটি জগন্য অপচেষ্টা যা গিলে মুসলমানদের ঈমান আজ মৃতপ্রায়।

টাইমস অফ ইসরাইলের যে আরটিক্যাল থেকে এই সংবাদ পেয়েছি তার হুবুহু বাংলা অনুবাদ করে পাঠকের উদ্যেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করলামঃ একজন রাশিয়ান বংশোদ্ভূত ইস্রায়েলি ইহুদিঃ- ইরান, লেবানন, জর্দান এবং সৌদি আরবের মসজিদ সহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেছে।

(বেঁছে বেঁছে ঠিক রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিন, ইসনাইনিল আজিম শরীফ) সোমবার মদিনা শরীফের মসজিদে নববী শরীফের মসজিদ থেকে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বেন টিজিওন পোস্ট করেছে “ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম সাইটে ভ্রমন” এতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে তার এহেন দুঃসাহসের বিপরীতে ঝড়ের গতিতে মন্তব্য হতে থাকে, ফলে মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে মসজিদে নববী শরীফের ভিতর থেকে তার ছাড়া ভিডিও ৩০ হাজারেরও বেশি ভিউ হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার-টি মন্তব্য হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দ্য টাইমস অফ ইস্রায়েলের সাথে টেলিফোনে সাক্ষাত্কারে ৩১ বছর বয়সী জিজিয়ন তার ভ্রমণকে শখ হিসাবে বর্ণনা করে বলেছিল যে সে বন্ধু হিসাবে ইসলাম ও আরব বিশ্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গিয়েছে।

তার প্রধান বার্তা, সে তার সাক্ষাত্কারে পুনরাবৃত্তি করেছিল, ইসলামের এই অন্যান্য সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের প্রতি তার শ্রদ্ধা থেকেই এই ভ্রমন। সে তেহরান, কওম, বৈরুত বা রিয়াদে যাদের সাথে সাক্ষাত করেছিল তারা তার প্রতি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল, এমনকি সে ইস্রায়েলীয় ইহুদী বলেও জানতে পেরেছিল তারা। টিজিওন বলেছে, “আরব বিশ্বের কেউই আমার কাছে শত্রুতা নিয়ে আসেনি। “লোকেরা জানে যে আমি আলাদা, তারা দেখতে পায় আমি কিপ্পা বা অন্য আরব পোশাক পরে আছি।

তারা আমার কাছে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কোথা থেকে এসেছি। আমি তাদের বলি যে আমি ইস্রায়েলের জেরুসালেম থেকে এসেছি। এবং তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া সাধারণত: ‘বাহ! স্বাগতম’ তাঁর করা পোস্টের একটি ছবিতে দেখা গেছে যে, সে মদিনা শরীফের মসজিদে নববী শরীফের অভ্যন্তরে ঐতিহ্যবাহী আরব পোশাক পরেছিল এবং হিব্রু অক্ষরে লেখা তাঁর টিফিলিন (phylacteries) সম্বলিত একটি এম্ব্রয়েড করা ব্যাগে থাকা তার নামটির দিকে ইঙ্গিত করছিল।

সম্পূর্ণ জাজিরাতুল আরবের পবিত্র স্থানগুলিতে অমুসলিমদের প্রবেশের অনুমতি নেই, ইহুদীদের তো নেই-ই যার কারনে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অনেকেই এমন মন্তব্যও করেছিলেন যে সৌদি আরব কাতারি মুসলমানদের দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করছে তবে ইস্রায়েলি ইহুদিদের সাথে তাদের কোন শত্রুতা নেই এমনকি যদিও তা রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ কে অপবিত্র করে থাকে।

টিজিওন, যিনি মাঝে মাঝে টাইমস অফ ইস্রায়েলে ব্লগ করে, সে বলেছিল যে সে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ মন্তব্য সম্পর্কে অবগত ছিল, তবে সে দৃঢ়ভাবে জোর দিয়ে বলেছিল যে তার দেখা আরবের সাধারণ মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই তাকে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করেছে। টিজিওন বলেছিল, “তারা আমার হাত নেড়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করছে আমি কেমন আছি?” “তারা আমাকে বলে যে তারা ইস্রায়েল এবং ইহুদি জনগণকে ভালবাসে।”

“সাধারণ আরবী লোকদের মধ্যে কোন ইহুদী বিদ্বেষ নেই। আমি দু-সপ্তাহ আগে বৈরুতে ছিলাম – কোনও ঘৃণা নেই, সেখানের মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ।” সে জেরুজালেমে সৌদি আরবে যে ঐতিহ্যবাহী আরবী পোশাকটি কিনেছিল সেটা সম্পর্কে বলেছিল “আমি শ্রদ্ধার সিফেই এটি করেছি, কারণ আমি জানতাম যে আমি মদিনায় রাসূলের মসজিদে যেতে চাই। অবশ্যই আমি সেখানে জিন্স(শারট-প্যান্ট) পরে যাব না, এটি হবে অসম্মানজনক।” টিজিওন যে সৌদিতে গেছে, যে তার ইহুদি পরিচয় গোপন করেনি এবং কাউকে অসন্তুষ্ট না করার জন্য প্রচুর চেষ্টাও যে করেছিল, সে বলেছে।

“যখন আমি কোনও পবিত্র স্থানে যাই, আমি সেখানে শ্রদ্ধার সাথে, লোকদের প্রতি সম্মান ও ভালবাসার নিয়ে সেখানে যাই। ঘৃণা বা উপহাসের সাথে বা কোনোভাবেই, বে-আদব, অসম্মানীত হওয়ার চেষ্টা করী না। আর এতাই আমার নিয়ত। আমি সেখানে যাই বন্ধু হিসাবে।” সে তার বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে, তবে বলেছে যে, সে কিছুদিন আগে সৌদি আরব ছেড়েছে এবং এখন এমন একটি দেশে রয়েছে যার ইস্রায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

টিজিওন, যে দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডনে জন্মগ্রহণ করেছে এবং সেখানেই বেড়ে ওঠে। (সে চুদনভস্কি পরিবার থেকে এসেছে, কিন্তু এই সংবাদের প্রতিবেদক-কে তার দেখানো ইসরাইলী আইডি কার্ডটিতে তার প্রথম নাম “বেন” নামে) এমনকি সে মদিনা শরীফে হিব্রু অক্ষর দ্বারা তার পরিচয় প্রকাশ করতে ভীত নয় বলেছিল। “কোন মসজিদের ভিতরে কেউ কখনও আমার কোন ক্ষতি করতে পারে না। কাউকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্যও আমার ছিল না।

আমি এই টিফিলিন আমার হাতে বহন করেছিলাম। আমি এটি বক্স থেকে লুকিয়েও নেই নি; আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করি তখনও এটি আমার হাতে ছিল। আমি যেখানেই যাই না কেন, এই ব্যাগটি আমার সাথে রাখি। আমার কাছে কোন মানিব্যাগ নেই, তাই আমি আমার কিছু জিনিস এই ব্যাগে নিয়ে যাই, “সে বলেছিল। “আমি কিছুই গোপন করিনাই। লোকেরা জানত যে আমি ইহুদি।