কাশ্মীর নিয়ে ভারত যুদ্ধের বীজবপন করছে: পাক সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। ছবি: সংগৃহীত কাশ্মীর নিয়ে ভারত যুদ্ধের বীজবপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লি গত মাসে কাশ্মীরের শায়ত্তশাসন বাতিল করার পরে বিরোধীয় কাশ্মীরে ভারতের ভূমিকা আঞ্চলিক শান্তি বিপন্ন করছে। খবর তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাকের। বুধবার টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কাশ্মীরের পরিস্থিতি একটি বড় বিপদে পরিণত হয়েছে…কাশ্মীর নিয়ে ভারত যুদ্ধের বীজ বুনছে। তিনি বলেন, আমরা দ্বন্দ্বকে সেই পর্যায়ে নিতে চাই না যেখানে আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি বিপন্ন হয়। ভারত ও পাকিস্তান, যারা উভয় অংশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট কাশ্মীর শাসন করছে। বিরোধীয় হিমালয় অঞ্চলটি নিয়ে প্রতিবেশী দেশদুটির মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে।

এশিয়া লাওসে দিন দিন বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা !

তোমরা বাংলাদেশীরা ভালো না। বাংলাদেশীরা সবাই লাওসে একটি করে বিয়ে করে। অন্যরা একাধিক বিয়ে করে এতে লাওসের মেয়েরা যেমন মুসলমান হচ্ছে তেমনি তাদের সন্তানরাও ইসলাম ধর্মের অনুসারী হচ্ছে। এতে বাড়ছে লাওসের মুসলমানের সংখ্যা।’ এক নিঃশ্বাসেই কথাগুলো বলে গেলেন শের খান।

এরপর যোগ করেন, ‘বাংলাদেশীরাও যদি লাওসে একাধিক বিয়ে করতেন তাহলে তাদের স্ত্রী আর ছেলেমেয়েদের মাধ্যমে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত।’ পাকিস্তানের পেশোয়ারে শের খানের পিতৃভূমি। তার বাবা লাওসে এসে বিয়ে করেছেন লাওসের এক মহিলাকে। সে সূত্র ধরেই শের খান এখন লাও মুসলিম।

দেশটির পাঁচ শতাধিক মুসলমানের একজন তিনি। লাওসের নাগরিকদের সংক্ষেপে লাও বলে। শের খানের সাথে প্রথমে দেখা ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদে। পরে মর্নিং মার্কেটে। এই মর্নিং মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসায় আছে শের খানের। প্রবাসী মুসলমানদের লাওসের মেয়ে বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই। ফলে প্রবাস মুসলমানরা লাও মেয়েদের বিয়ে করে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন।

মুসলমানদের একাধিক বিয়েতেও কোনো আইনি বাধা নেই। শের খানসহ অন্যদের একাধিক বিয়ে করার নেপথ্যে তা-ই। শের খানের তিন স্ত্রীর একজন পাকিস্তানি। বাকি দুইজন লাওসের মহিলা। তার তিন স্ত্রীর ঘরে ৯ সন্তান। তার দেয়া তথ্য, ‘অন্যদেরও তিন স্ত্রীর একজন পাকিস্তানি এবং বাকি দুইজন লাও।

লাওসের ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদটি কোথায় এ তথ্য জানতে গুগলের আশ্রয় নিতে হলো হোটেল সেংপাসানের দুই কর্মচারীকে। আর ভিয়েনতিয়েনের রাস্তায় বাংলাদেশের ইজি বাইকের অনুরূপ সস্তা বাহন টুকটুক চলে তার চালকরাও জানেন না এই মসজিদের অবস্থান। হোটেলের দুই কর্মচারী দুই দফা চেষ্টার পর গুগল ম্যাপ দেখে সন্ধান দিলেন এই মসজিদের।

তাদের অনুরোধ করায় তারা টুকটুক চালককে বুঝিয়ে দিলো মসজিদের অবস্থান। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের বুক চিড়ে বয়ে চলেছে মেকং নদী। এই নদীর তীর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদের। আরেকটু পরিষ্কার করে বললে ব্রুনেই দূতাবাসের পাশেই এই মসজিদ।

এবার বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা এই মসজিদেই ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। তাদের ৭ জুন জুমার নামাজের ভেনুও ছিল এই মসজিদ। আসিয়ান অঞ্চলের দেশ লাওস। দেশটির রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে মসজিদ মাত্র দুটি। একটি এই ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদ। যে স্থানে এই মসজিদের অবস্থান সে স্থানটির নাম বান সিং ওয়ান।

অপরটি চার মাইল দূরে পোন সা বাথ থাইয়ে মসজিদুল আজহা। পাকিস্তানি এবং ভারতীয় মুসলমানরা ভিয়েনতিয়েন জামে মসিজদটি নির্মাণ করেন ১৯৭০ সালে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রুনেইয়ের মুসলমানরা নির্মাণ করেছন মসজিদুল আজহা। এই ভিয়েততিয়েন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বাংলাদেশী। নাম হাফেজ হাসান মাহমুদ।

সাত মাস ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বে তিনি। এসেছেন জানুয়ারিতে। কিশোরগঞ্জের লোক তিনি। হাসানসহ ৫০ বাংলাদেশী চাকরি করেন লাওসে। বাংলাদেশী এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বাংলাদেশীদের প্রথম লাওস যাওয়া শুরু। ভিয়েনতিয়েনে থাকেন ৩০ বাংলাদেশী। বাকিরা পাকশে এবং কাশিতে থাকেন। ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদে উপমহাদেশের মুসলমানরাই নামাজ আদায় করতে যান।

মসজিদুল আজহাতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানদেরই উপস্থিতি বেশি। ভিয়েনতিয়েন মসজিদেই পরিচয় হয় প্রবাসী বাংলাদেশী তারেক এবং দ্বীন ইসলামের সাথে। তাদের মতো সব বাংলাদেশীই বৈধ কাগজ নিয়ে লাওস এসেছেন। আসিয়ান অঞ্চলের এই দেশটিতে কোনো অবৈধ বাংলাদেশী নেই। ৬ জুন ভিয়েনতিয়েনে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রাক বাছাই ম্যাচ শেষে ৭ জুন রাতে লাওস ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

দুপুরে তারা এই ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে। বাংলাদেশ দল ছিল পাঁচ তারকা হোটেল ল্যান্ডমার্কে। আমার হোটেল ছিল পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে। আমার হোটেলের দায়িত্বশীলরা টুকটুকের ড্রাইভারকে মসজিদের অবস্থান সম্পর্কে বলে দিলেও ড্রাইভার আমাকে মসজিদের বেশ দূরে নামিয়ে দিলো। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে মসজিদ খুঁজতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম টুপি পরা এক লোক। সাথে একটি ছেলে।

রাস্তায় তাদের হাঁটতে দেখে ধরেই নিয়েছিলাম জুমার নামাজ বোধ হয় শেষ। তারপরও তাকে দেখেই ‘মুসলিম ব্রাদার’ ‘মুসলিম ব্রাদার’ বলে ডাকতে থাকলাম দূর থেকে। কিন্তু তার কানে আমার ডাক পৌঁছালোই না। তিনি বেশ জোরেই হাঁটছিলেন। সালাম দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম জুমা শেষ কি না। আর মসজিদের অবস্থানটা কোথায়। আমি মুসলমান এটা জানার পর সে আমাকে তার ব্যাগে থাকা একটি টুপি দিলো।

আর সাথে থাকা আতর আমার হাতে লাগিয়ে দিয়ে বলল ‘এটা সুন্নত’। হাবিব নামের ওই মুসলিম বললেন, আমিও নামাজ পড়তে যাচ্ছি। এটি আমার ছেলে আলী। এরপর বললেন, ‘কথা কম, জোরে হাঁটো। নামাজ শেষ হওয়ার পথে।’ তার সাথে দ্রুত পা চালিয়ে মসজিদে পৌঁছার পর দেখলাম নামাজ শুরু হয়ে গেছে। এক রাকাত শেষ। বাংলাদেশী ফুটবলারদের সাথে আমিও পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে পেলাম চার-পাঁচজন বাংলাদেশীকে।

এগিয়ে এলেন বাংলাদেশী মুয়াজ্জিন হাসানসহ আরো কয়েকজন। এই মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ রফিক পাকিস্তানের নাগরিক। ভারতের কেরালা থেকে আসা মুসলমান মোহাম্মদ নাজিম মুসল্লিমদের দানের টাকা একটি খোলা বাটিতে করে এনে গুনছিলেন। উনি স্থানীয় মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ। সাথে ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদেরও।

দেয়া তথ্য, ‘লাওসে ৫০০ মুসলমান আছেন। ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই এবং বাংলাদেশীরই লাওসে বসবাসকারী মুসলমান। আর স্থানীয় মুসলমান মাত্র ২০ জন।’ নাজিমের সাথে কথা বলার সময়ই সেখানে এসে হাজির এক লাও নও মুসলিম। তিনি লাও ভাষায় কি যেন বলছিলেন নাজিমকে।

৪৮০ মিটারের দোতলা ভিয়েনতিয়েন জামে মসজিদে একত্রে দেড়শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ঈদের নামাজের সময় মসজিদে জায়গা হয় না তখন মসজিদসংলগ্ন রাস্তায় নামাজ আদায় করেন মুসলমানরা। তাতে স্থানীয় বৌদ্ধরা কোনো সমস্য।