শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধ; মেনে নেওয়ার আহ্বান সৌদির

সিরিজ বোমা হামলার কারণে ২৯ এপ্রিল শ্রীলংকান সরকার বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখে এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে। এ প্রেক্ষিতে শ্রীলংকায় অবস্থানরত সৌদি নাগরিক ও ভ্রমণকারীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

শ্রীলংকায় মুসলিম নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে সম্মান জানাতে দেশটিতে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

কলম্বোর সৌদি দূতাবাস এক সতর্কবার্তায় দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে।

ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বন্ধুপ্রতীম দেশ শ্রীলংকায় সম্প্রতি যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা আমাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার জন্য লংকান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রোববার বিশেষ ক্ষমতা বলে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছেন।

এদিকে জরুরি আইনের মধ্যেই নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মুসলমানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,অপরাধীদের খুঁজে বের করাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তাদেরই বিচার করা উচিত।

নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না। তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন। সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলিম নারীদের শাস্তির মুখে ফেলে দেয়া উচিত হবে না। যদি কেউ তাদের ধর্মচর্চা কিংবা বোরকা পরতে চান, তবে এ ঘটনায় তাদের নিজেদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে হবে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগ্রসর আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোশুয়া টি হোয়াইট বলেন, বোরকা নিষিদ্ধের এই বার্তা এটাই বলছে- লংকান মুসলমানরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এতে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংশয় তলানিতে চলে যাবে।

তথ্য সুত্র: আল-আরাবিয়্যাহ

আরো পড়ুন: আরেকটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা থেকে শ্রীলঙ্কাকে বাঁচাল মুসলিম যুবক

শ্রীলঙ্কায় আরেকটি সন্ত্রাসবাদী হামলা সম্পর্কে প্রথমে সতর্ক করেছিল এক মুসলিম যুবক। তার জের ধরেই গত শুক্রবার ১৫ জন সন্ত্রাসবাদীকে গুলি করে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী।

এই সংবাদ প্রকাশ করেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। গত শুক্রবার লোহার পুলের পাশে একটি বাড়ির ভেতর রাইফেল হাতে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়েছিল শ্রীলঙ্কাবাসী এক মুসলিম যুবকের।

বন্ধুদের সেই কথা জানালে সকলে মিলে সেই বাড়ির সামনে গিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয়পত্র চায়। স্থানীয় তরুণদের জেরার মুখে সে কোণঠাসা হয়ে পড়তেই বাড়ির ভিতর থেকে আর একজন গুলি ছোড়ে।

বিপদ বুঝে কাছাকাছি মসজিদ সমিতিকে বিষয়টি খুলে বলেন তরুণরা। এবার আরো বেশ কয়েকজন মিলে বাড়িটির সামনে পৌঁছে চেঁচামেচি শুরু করে। আচমকা বাড়ির জানলা থেকে ভিড় লক্ষ্য করে শুরু হয় নোটবৃষ্টি।

কাণ্ড দেখে এবার পুলিশকে গিয়ে সব জানানো হয়। এরপর পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ওই বাড়ি ঘিরে ফেলার পরে আত্মগোপনকারী সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, ইস্টার হামলার পরে শ্রীলঙ্কায় ফের সন্ত্রাসবাদী হানার ছক সাজিয়েছিল জঙ্গি নেতা জাহরান হাশিম। সংঘর্ষে মারা যায় তার বাবা ও ভাই।

সুত্র: এই সময়