মোদির রাষ্ট্রীয় সম্মাননা: আল্লামা তাকি উসমানির আক্ষেপভরা টুইট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত একটি আরব দেশের পক্ষ মুসলিম বিদ্বেষী ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ায় আক্ষেপ ও আফসোস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিখ্যাত আলেম, মুসলিম উম্মাহর দরদী অভিভাবক, মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। আজ এক টুইট বার্তায় এ আফসোস প্রকাশ করেন এই আলেম।

আল্লামা তাকি উসমানি আরবী ভাষায় লেখা তার টুইট বার্তায় বলেন, ‘হায় আফেসোস! লক্ষ লক্ষ মুসলমানের রক্তে লাল হল যার হাত, মুসলমানদের ভূখণ্ড ছিনিয়ে নিয়ে গোটা কাশ্মীরকে কারাগারে পরিণত করল যে ব্যক্তি, যার কারণে কাশ্মীরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় গণহত্যা ঘটতে যাচ্ছে, সেই ব্যক্তিই কিনা এক আরব মুসলিম দেশ থেকে পেল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদা! এর চেয়ে বড় লজ্জা আর অপমান কী আছে!’ প্রসঙ্গত, গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ বেসামরিক ‘অর্ডার অব জায়েদ’ পদক গ্রহণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার আবুধাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পদক তুলে দেন আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। এমন এক সময়ে এসে নরেন্দ্র মোদিকে এই পদক দিল আরব আমিরাত যখন ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একমাত্র প্রদেশ জম্মু কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিল করেছে মোদির সরকার। সেখানে কারফিউ চলছে দুই সপ্তাহ ধরে। এই নিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে বিতর্কের মধ্যেই মোদিকে সম্মানিত করল আরব আমিরাত সরকার।

কাশ্মীরে ঢুকতে পারলেন না রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল

জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে। আজ (শনিবার) তাঁরা শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁদেরকে আটকে দেয়া হয় এবং বাইরে বেরোতে দেয়া হয়নি।

এসময় বিমানবন্দরে তীব্র হইচই শুরু হয়। গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, রাহুল গান্ধীদের ভিআইপি লাউঞ্জে থামিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ তাঁদেরকে ঘেরাও করে রাখে। গণমাধ্যমের সঙ্গেও প্রতিনিধিদলকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছানো মাত্রই প্রতিনিধিদল ও গণমাধ্যম সদস্যদের পৃথক করে দেয়া হয়।

পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের কোনও প্রশ্ন করতে দেয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করারও অভিযোগ উঠেছে। এসময় এক টিভি চ্যানেলের নারী সাংবাদিক হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

অশোক গেহলোট এদিকে, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট বলেন, এই সরকারের নিজেদেরই উচিত ছিল যে, বিরোধী দলের নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বলা যে, আমরা যেসব দাবি গণমাধ্যমে করছি সেসব দাবির সত্যতা রয়েছে আপনারা সেখানে গিয়ে দেখে আসুন।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে বা এরকম পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় থাকা লোকেরা এরকম উদ্যোগ নেয় যেরকম বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিরোধীদলের অনেক নেতাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছিলেন।’

গেহেলট কাশ্মীর পরিস্থিতির উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রায় ২০ দিন হয়ে গেল, লোকেরা ঘরবন্দি হয়ে আছে। টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ। কোনও নাগরিককে এসব বন্ধ করে দেয়ার অধিকার সরকারের নেই। এটা আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকার।

এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যেন তারাই কেবল দেশভক্ত। আমরা যেন দেশভক্তই নই! সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওরা সফল হয়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে প্রকৃত সত্যি কী। তখন ওদের বাস্তবতা প্রকাশিত হবে।’ সবসময় সত্যের জয় হয় বলেও অশোক গেহলোট মন্তব্য করেন।

জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে শ্রীনগর বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতে দেয়া হয়নি এবং কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

গুলাম নবী আজাদ আজ শ্রীনগরে যাওয়ার আগে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, জম্মুর শিশুদের কাশ্মীরি বলে উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে কাশ্মীরে আমার বাড়ি, আমি রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, আমাকে কেন সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না?

যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে কেন ওমর আব্দুল্লাহকে বেরোতে দেয়া হচ্ছে না? মেহেবুবা মুফতি ও ফারুক আব্দুল্লাহকে কেন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে? এসবের অর্থ সরকার কিছু লুকোতে চাচ্ছে।’ সরকার কী লুকোতে চাচ্ছে আমাদের জানাক বলেও গুলাম নবী আজাদ মন্তব্য করেন।