ভয়ংকর অস্ত্র তৈরীর জন্য বিশ্বসেরা তুরস্ক!

ভয়ংকর অস্ত্র তৈরীর জন্য তুরস্ক বিশ্বসেরা!
মাত্র দু’দশক আগে ১৯৯৯ সালেও তুরস্ক ছিলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানীকারক দেশ, আর সেই দেশটিই ২০১৮ সালে এসে বিশ্বের ১৪তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। সামরিক বিষয়ের একজন বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট ফর পিস অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর দরকার এমন সব কিছুই তারা এখন তৈরি করে। বাংলাদেশ আগেও সমরাস্ত্র আমদানি করেছে তাদের কাছ থেকে। তাদের প্রযুক্তিও আধুনিক।

কোন কোন ক্ষেত্রে কেবল অস্ত্র নয়, বরং অস্ত্র কেনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুদ্রাংশ সরবরাহ এবং ব্যাকআপ সার্ভিস দিতে পারে তুরস্ক। এছাড়া, সামরিক কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণের দরকার হলে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওদিকে প্রতিরক্ষা বিষয় বিভিন্ন জার্নাল কিংবা তুরস্কের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তাহলো দেশটি শটগান, রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, লাইট মেশিন গান, হেভি মেশিনগান, ল্যান্ডমাইন, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট, সেল্ফ প্রপেল্ড গ্রেনেড, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান-সহ নানা ধরণের অস্ত্র ও সেন্সর তৈরি করে। আবার নিজেদের তৈরি করা ল্যান্ডমাইন ডিটেক্টর ব্যবহার করে সিরিয়ায় সাফল্য পাওয়ার দাবি করেন দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া তুরস্কের একটি কোম্পানি এন্টি ড্রোন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক গান তৈরি করেছে, যা কম উচ্চতায় থাকা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।

তবে যেটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেটি হলো তুরস্কে বানানো ড্রোন। দেশটির চারটি কোম্পানি ড্রোন উৎপাদন করে থাকে। এগুলোর মধ্যে মেশিনগান এবং গ্রেনেড বহনকারী ড্রোনও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে আজারবাইজান সাম্প্রতিক যুদ্ধে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য পায়।

এছাড়া, নিজস্ব স্যাটেলাইট এবং ভালো মানের রাডার আছে তুরস্কের। এখন তারা ক্রুজ মিসাইল তৈরির কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি নৌ বাহিনীর জন্য তারা যেসব যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরি করছে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি শিপ মিসাইল, লাইটওয়েট টর্পেডো এবং সোলার সিস্টেম। তারা আন্ডারওয়াটার অ্যাটাক ড্রোন তৈরি নিয়েও কাজ করছে।
একই সাথে যুদ্ধজাহাজের ইঞ্জিন তৈরি করা শুরু করেছে দু’বছর আগে।

সুইডেন-ভিত্তিক সিপরির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনই তুরস্ক থেকে কিছু সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করছে। এর বাইরে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে, সেসব দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ইতালি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সার্বিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি।

তুর্কি সেনাদের ওপর হামলার হুমকি দিলেন খলিফা হাফতার

লিবিয়ায় মোতায়েন তুর্কি সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার। জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে তুরস্ক। এর বিপরীতে ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরের মতো দেশ খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে।

জেনারেল হাফতার তুরস্ককে উপনিবেশবাদী শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, লিবিয়া থেকে শান্তিপূর্ণভাবে তুরস্কের সেনাদের চলে যেতে হবে, অন্যথায় তাদেরকে জোর করে বের করে দেয়া হবে।

সম্প্রতি তুরস্কের সংসদ লিবিয়ায় সেনা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুসারে আরো ১৮ মাসের জন্য তুরস্ক লিবিয়ায় সেনা মোতায়েন করে রাখবে।

এ প্রসঙ্গে হাফতার বলেন, লিবিয়া থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তুরস্কের সেনারা চলে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় জন্মভূমিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে না। চলতি বছরের প্রথম দিকে তুর্কি সেনাদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে লিবিয়ার নারী-পুরুষ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন হাফতার।

২০১১ সালে কথিত আরব-বসন্তের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোট লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করার পর দেশটিতে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এরপর ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় যা চূড়ান্তভাবে গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে