তুর্কি সেনাদের ওপর হামলার হুমকি দিলেন খলিফা হাফতার

লিবিয়ায় মোতায়েন তুর্কি সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার। জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে তুরস্ক। এর বিপরীতে ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরের মতো দেশ খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে।

জেনারেল হাফতার তুরস্ককে উপনিবেশবাদী শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, লিবিয়া থেকে শান্তিপূর্ণভাবে তুরস্কের সেনাদের চলে যেতে হবে, অন্যথায় তাদেরকে জোর করে বের করে দেয়া হবে।

সম্প্রতি তুরস্কের সংসদ লিবিয়ায় সেনা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুসারে আরো ১৮ মাসের জন্য তুরস্ক লিবিয়ায় সেনা মোতায়েন করে রাখবে।

এ প্রসঙ্গে হাফতার বলেন, লিবিয়া থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তুরস্কের সেনারা চলে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় জন্মভূমিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে না। চলতি বছরের প্রথম দিকে তুর্কি সেনাদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে লিবিয়ার নারী-পুরুষ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন হাফতার।

২০১১ সালে কথিত আরব-বসন্তের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোট লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করার পর দেশটিতে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এরপর ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় যা চূড়ান্তভাবে গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে

রামমন্দির নির্মাণে এবার প্রাকৃতিক বাধা!

রামমন্দির নির্মাণের কাজে ফের বাধা। এতদিন আইনি জটিলতায় রামমন্দির নির্মাণ বাধা পেয়েছে। কিন্তু গত বছর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের রামমন্দির নির্মাণের আর বাধা ছিল না। গত ৫ আগস্ট ঘটা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছেন। কিন্তু এবার নির্মাণগত বাধার সম্মুখীন রামমন্দির।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, মাটি পরীক্ষার পর দেখা গেছে, মন্দিরের ভর ধরে রাখার মতো ক্ষমতা নেই নির্মীয়মাণ কাঠামোর। যার জেরে সমস্যায় মন্দির নির্মাণের কাজ। ফলে বিকল্প উপায় খুঁজছে ট্রাস্ট।

আইআইটি, এনআইটি, সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (রুরকি), এবং লারসেন অ্যান্ড টিউব্রোর মতো সংস্থার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মন্দিরের প্রস্তাবিত গর্ভগৃহের পশ্চিম দিকে পানির তোড়ে বেলেমাটি ধসে যাওয়ার দরুন সমস্যার সম্মুখীন।

গোটা স্থাপত্যের যে নকশা লারসেন অ্যান্ড টিউব্রো জমা দিয়েছে, তাতে দেখা গেছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-৪০ মিটার গভীরে ১২০০ কংক্রিট পিলার বসানো হবে। ট্রাস্টের সচিব জানিয়েছেন,

বেশ কয়েকটি পিলার ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২৫ ফুট নিচে বসিয়ে তার ২৮ দিন পর পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই স্তম্ভগুলোর উপর ৭০০ টন ভর চাপিয়ে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু আশাতীত ফল পাওয়া যায়নি। মেশিনে যে রিডিং পাওয়া যায় সেটা আশা করা হয়নি।

বস্তুত, গর্ভগৃহের পশ্চিম দিকে সরযু নদী বয়ে চলেছে। যেখানে পিলারগুলো বসানো হয়েছে তার পাশেই নদীর পানি এবং বেলেমাটি রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, নরম বালি স্থাপত্যের ভর ধরে রাখতে পারবে না। তাই বিশেষজ্ঞরা চিন্তাভাবনা করছেন কীভাবে মন্দিরের গর্ভগৃহের কাছে নদীর পানিকে আটকে রাখা যায়। কীভাবে বালির উপর স্থাপত্য তৈরি করা যায় এবং কংক্রিট পিলারের আয়ু বাড়ানো যায়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বাংলাদেশে সমরাস্ত্র বিক্রিতে আগ্রহী তুরস্ক কী ধরণের অস্ত্র উৎপাদন করে?

সম্প্রতি ঢাকায় এসে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত শাভিসলু বলেছেন যে, তাদের অস্ত্র আমদানি কারকদের তালিকায় এখন বাংলাদেশকেও পেতে চাইছেন তারা। তিনি জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রতিরক্ষা পণ্যের গুনগত মান ভালো, দামে সুলভ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে কোন আগাম শর্ত তারা দেন না।

অথচ, মাত্র দু’দশক আগে ১৯৯৯ সালেও তুরস্ক ছিলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানীকারক দেশ, আর সেই দেশটিই ২০১৮ সালে এসে বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

তুরস্কের সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে তারা ছিলো বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। তবে রপ্তানি বিষয়ে তুরস্কের সরকারি সংস্থা টার্কিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসেম্বলির প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অগাস্ট সময়কালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে।

গত বছর একই সময়ের তুলনায় এবার এই সময়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে এটিও ঠিক যে একদিকে করোনাভাইরাস মহামারি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তুরস্কের মুদ্রার অবনমন হয়েছে, পাশাপাশি দেশটিতে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের হার।

এর আগের বছরগুলোতে অবশ্য ক্রমশই বাড়ছিল তুরস্কের প্রতিরক্ষাসামগ্রী রপ্তানি। গত বছরের অক্টোবরে সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর হামলার পর থেকে ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ড, স্পেন এবং জার্মানি-সহ অনেক দেশ তুরস্কের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো।

এর আগেই ২০১৮ সালে দেশটির সব রফতানি খাতের মধ্যে প্রতিরক্ষাসামগ্রীর রপ্তানির প্রবৃদ্ধিই ছিলো সবচেয়ে বেশি। ওই বছরই প্রথমবারের দেশটি ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষাসামগ্রী রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

এরপর তুরস্ক ২০১৯-২৩ সাল সময়ের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা করে, যাতে ২০২৩ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষাসামগ্রীর রপ্তানি ১,০০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়। একই সাথে, চাহিদার ৭৫ ভাগ দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ডিফেন্স নিউজ ম্যাগাজিন তাদের টপ গ্লোবাল ফার্মের তালিকায় স্থান দিয়েছিলো তুরস্কের সাতটি প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে। আবার সুইডেন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা সিপরির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে তুরস্ক গত বছর ব্যয় করেছে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাত নিয়ন্ত্রণ করে মূলত টার্কিশ আর্মড ফোর্সেস ফাউন্ডেশন, যার মূল কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্ট এরদোগানের হাতে।

সামরিক বিষয়ের একজন বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট ফর পিস অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান জানান যে, তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত।

তিনি বলেন, “সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর দরকার এমন সব কিছুই তারা এখন তৈরি করে। বাংলাদেশ আগেও সমরাস্ত্র আমদানি করেছে তাদের কাছ থেকে। তাদের প্রযুক্তিও আধুনিক।” তিনি আরও জানান, স্থল বাহিনীর জন্য ট্যাংক, কামান-সহ যুদ্ধাস্ত্র, আর্টিলারি ইকুইপমেন্ট, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা নজরদারিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে সব কিছু এবং নৌ বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে সব কিছুই এখন তুরস্ক তৈরি করছে।

কোন কোন ক্ষেত্রে কেবল অস্ত্র নয়, বরং অস্ত্র কেনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুদ্রাংশ সরবরাহ এবং ব্যাকআপ সার্ভিস দিতে পারে তুরস্ক। এছাড়া, সামরিক কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণের দরকার হলে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওদিকে প্রতিরক্ষা বিষয় বিভিন্ন জার্নাল কিংবা তুরস্কের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তাহলো দেশটি শটগান, রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, লাইট মেশিন গান, হেভি মেশিনগান, ল্যান্ডমাইন, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট, সেল্ফ প্রপেল্ড গ্রেনেড, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান-সহ নানা ধরণের অস্ত্র ও সেন্সর তৈরি করে।

আবার নিজেদের তৈরি করা ল্যান্ডমাইন ডিটেক্টর ব্যবহার করে সিরিয়ায় সাফল্য পাওয়ার দাবি করেন দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা। তাছাড়া তুরস্কের একটি কোম্পানি এন্টি ড্রোন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক গান তৈরি করেছে, যা কম উচ্চতায় থাকা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।

তবে যেটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেটি হলো তুরস্কে বানানো ড্রোন। দেশটির চারটি কোম্পানি ড্রোন উৎপাদন করে থাকে। এগুলোর মধ্যে মেশিনগান এবং গ্রেনেড বহনকারী ড্রোনও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে আজারবাইজান সাম্প্রতিক যুদ্ধে আরমেনিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য পায়।

এছাড়া, নিজস্ব স্যাটেলাইট এবং ভালো মানের রাডার আছে তুরস্কের। এখন তারা ক্রুজ মিসাইল তৈরির কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নৌ বাহিনীর জন্য তারা যেসব যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরি করছে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি শিপ মিসাইল, লাইটওয়েট টর্পেডো এবং সোনার সিস্টেম। তারা আন্ডারওয়াটার অ্যাটাক ড্রোন তৈরি নিয়েও কাজ করছে। একই সাথে যুদ্ধজাহাজের ইঞ্জিন তৈরি করা শুরু করেছে দু’বছর আগে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

বাঁশের কলম দিয়ে লিখলেন ৬১ কেজি ওজনের কোরআন শরীফ

ভারতে তামিলনাড়ুর প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ শিবগঙ্গাই জেলার কালাইয়ার কয়েলের কাছে এলানধাক্কারাইয়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে সিরিয় সোনার মুদ্রা।

ওই স্বর্ণমুদ্রায় আরবিতে খোদাই করা রয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)।

মুদ্রাটি ষষ্ঠ শতকের বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের এক কর্মী জেমিনি রমেশ বলেছেন, ‘এই মুদ্রা প্রমাণ করে মাদুরাই অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম অনেক আগে প্রসার লাভ করেছিল।’ শিক্ষাবিদরা এই এলাকাকে ভাইগাই উপত্যকা সভ্যতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

২৩০০ বছর আগের এই সভ্যতার হদিস মেলার পর ২০১৫ সালে এখানে খননকার্য শুরু হয়। মাদুরাইয়ের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইউসুফ নামের একজন আইনজীবী বলেছেন, ‘১৪ শতকে মালিক কাফুরের মাদুরাই জয়ের আগেই ইসলাম পৌঁছেছিল এখানে।

আরবের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল আর পান্ড্য রাজত্ব মুক্তার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।’ তার ধারণা, ইসলামের অস্তিত্ব যে এখানে বহু আগে থেকেই ছিল তা খনন চালিয়ে গেলে ক্রমশ প্রকাশিত হবে।

মাদুরাই শহরতলির অদূরে কিঝাড়ি ও শিবগঙ্গাই জেলার সীমান্তে খননকার্য শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি। লকডাউনের আগে এই খননকার্য উদ্বোধন করেছিলেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পালানিসামি। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ থাকলেও আবার তা চালু হয়েছে।

আরো পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইয়াসির খানকে !

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর এ পদে নিয়োগ পেয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ ইয়াসির খান। ২০২১-২০২০ সালের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় ইমাম নিয়োগ দিয়েছেন স্পিকার অ্যান্থোনি রেনদন।

৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদ ইয়াসির খান এ পদে নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। খবরে প্রকাশ, এক বিবৃতিতে রেনদন বলেন, ইমাম ইয়াসির খান ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমি দেখেছি আমাদের জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ধর্মীয় ও সমাজের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছি।

ইয়াসির খানও ক্যালিফোর্নিয়ার আধ্যাত্মিক ও নাগরিক প্রাণশক্তিতে অবদান রাখার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে সেটি করেছেনও। ইয়াসির খান গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় কাউন্টিতে জেল, শেরিফ অফিস ও হাসপাতালগুলোতে কাজ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই একটি অলাভজনক সংস্থা আল-মিসবাহর প্রতিষ্ঠাতা।

ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ইয়াসির খান বলেন, আল্লাহ আমাকে এখানে এনেছেন এবং আমি এই ভূমিকায় নির্বাচিত হওয়ায় অত্যন্ত সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। আশা করি, এটি দেশের অন্য ইমাম ও ইসলামী নেতাদের পদপ্রাপ্তির একটি পদক্ষেপ হবে। রাজ্যসভায় ইমামের কাজ মূলত প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে দোয়া পাঠ করা।

তবে ইয়াসির খানের আশা, এটি মুসলিমদের অন্য সম্প্রদায়গুলোর আরো কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেবে।

আরো পড়ুন: মুসলমানদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় !

ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্ত দিলো ৩ জন মুসলিম-আমেরিকান যুবকের পক্ষে। নিজ ধর্মের লোকজনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় এই যুবকদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিমান ভ্রমণে নিষিদ্ধদের তালিকায় উঠিয়েছিল এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা।

এমনকি, তারা টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে গিয়েও বিমানে উঠতে সক্ষম হননি। এমন অপমানজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঐ যুবকেরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ন্যায়-বিচার প্রত্যাশায়। মামলায় এমন কান্ডের জন্যে এফবিআইয়ের ঐ অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার অনুমতি চান।

বিমানে বিপজ্জনক যাত্রী’ হিসেবে যে তালিকা রয়েছে সেখানে তাদের নাম থাকার কোনই কারণ নেই। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অথবা অভ্যন্তরীণভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সহযোগি নন এবং কোন ধরনের ক্রাইমেও কখনো লিপ্ত ছিলেন না।

১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাস্টিস এ্যামি কোনি ব্যারেটের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত বিস্তারিত শুনানী শেষে ৮-০ ভোটে তিন যুবকের পক্ষে রায় দিয়ে বলা হয় যে, তারা এফবিআইয়ের ঐ কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।

১৯৯৩ সালের ‘দ্য রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টুরেশন এ্যাক্ট’ (the Religious Freedom Restoration Act (RFRA) আইন অনুযায়ী ফেডারেল সরকারের কেউই ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়-এমন কোন কাজে লিপ্ত অথবা মদদদান করতে পারেন না।

সে অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজন সম্মিলিতভাবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তা/গণের নামোল্লেখ করে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলার অনুমতি পেলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোহাম্মদ তানভির, জামিল আলজিবাহ এবং নাভিদ শিনওয়ারিকে ফেডারেল সরকারের ‘নো ফ্লাই’ তালিকায় উঠানো হয়।

এ তালিকা শুরু হয়েছে ৯/১১ এ সন্ত্রাসী হামলার পর। সময়ে সময়ে সেখানে নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ এ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মুসলিম বিদ্বেষমূলক আরেকটি আচরণের নিন্দা-উচ্চারিত হলো।

আরো পড়ুন: মার্কিন চাপ সামলাতে তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব !

আঞ্চলিক বিষয়ে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সৌদি আরব এবং তুরস্ক স্বাভাবিক সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবশে করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে তা নির্ভর করছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রত্যাশিত পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন এবং সৌদি প্রশাসনে ওয়াশিংটনের প্রভাবের ওপর।

মিডল ইস্টার্ন স্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (ওআরএসএএম) প্রধান আহমেদ উসাল তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহকে বলেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন যদি প্রত্যাশিত নীতি গ্রহণ করে, সৌদি আরব যদি যৌক্তিকভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে তাহলে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন যুগ আমরা প্রত্যাশা করতে পারি।

‘আঞ্চলিক দুই শক্তির মধ্যে সংঘাতের কোনো প্রয়োজন নেই। সৌদি আরব তার অযৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে আসলে আঞ্চলিক অনেক বিষয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে।’ দু’দেশের ইচ্ছা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সবকিছুই নির্ভর করছে। তুরস্ক এ ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। বলেন উসাল।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক আলি বাকের বলেন, সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অনুমান এ মুহূর্তে কঠিন। তবে গেল দু’মাসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ইতিবাচিক ইঙ্গিত দেয়।

রিয়াদ-আঙ্কারা বিষয়ে বাইডেনের নীতি অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য চুক্তিসহ সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক আরও অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। উসাল বলেন, ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তবে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের শাসনামলে তুলনামূলকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নত হয়েছে। তারপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করেন।

যখন সৌদির শাসনভার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) হাতে ন্যস্ত করেন, আঞ্চলিক নতুন একটি ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরি হয়, তখন তুরস্ক থেকে আবারও সৌদি আরব দূরে সরে যায়। উলদাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান তাইয়ার আরি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে সৌদি প্রশাসনে কিছু উলটপালট হয়।

ট্রাম্পের সমর্থনে একক ক্ষমতার অধিপতি হয়ে ওঠেন এমবিএস। তখন একপাশে পড়ে যান বাদশাহ। তিনি বলেন, এমবিএস’র বিদেশ পরিকল্পনার সঙ্গে বাদশাহ সালমানের নীতির ব্যাপক