বাংলাদেশে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলুর দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোড়দারের পাশাপাশি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আনাদোলূ এজেন্সির কাছে এই আশা প্রকাশ করেন।

এই সফরকে দুই মুসলিম দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাড়ানোর দুর্দান্ত এক সুযোগ উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেছেন, আমরা আশা করি যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু’র এই সফর বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন এবং আশাব্যঞ্জক অধ্যায় উন্মুক্ত করবে।

তুরান আরো বলেন, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।

তুর্কি দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছে মেভলুত চাভুসোগলু বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।

এই সফরের তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে (১১ নম্বর নতুন) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবে। এছাড়া বুধবার তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সাথে বৈঠক করবেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রী গণমাধ্যমের সাথে কথা বলবেন।

বুধবার মেভলুত চাভুসোগলু ঢাকায় নবনির্মিত তুর্কি দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ওই সময় তার সাথে আবদুল মোমেন ও উপস্থিত থাকবেন।

নতুন দূতাবাস ভবনের কথা উল্লেখ করে তুরান বলেন, ‘আমাদের নবনির্মিত দূতাবাস প্রাঙ্গণটি আমাদের বন্ধুত্ব এবং সংহতির দৃঢ় সম্পর্কের প্রতীক হবে।’

তুরান আরো বলেন, দুই মন্ত্রীর বৈঠকের সময় ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যোগ দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তুর্কি দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সফররত তুরস্কের মন্ত্রী গণভবনে বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও সাক্ষাৎ করবেন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্বোধন করতে তুরস্ক সফর করেছিলেন এবং শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন।

সূত্র: আনাদোলূ

ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধান না হলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি নয়: পাকিস্তান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ইসরাইলের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং স্বীকৃতি দেবে না। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর শেষে পাকিস্তানে ফিরে মুলতানে সাংবাদিকদের কাছে কুরেশি নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বক্তব্য তিনি শুনেছেন।

সঙ্গে এ-ও বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্থায়ী ও পরিপূর্ণ সমাধান হওয়ার আগে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে না পাকিস্তান। শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, ‘ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে না। প্রধানমন্ত্রী এটি বলেছেন।

আমি বক্তব্যটি স্পষ্ট করলাম। এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই এবং ছিলও না।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের স্বার্থকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই এবং সে ক্ষেত্রে চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হয় না।

আমাদের একটি নীতি আছে এবং আমরা এতে অবিচল আছি।’ সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সময় ভারত প্রসঙ্গও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেছেন, আরব আমিরাত বা সউদী আরব—কোনো দেশই ভারতকে পাকিস্তানের বিকল্প বলে মনে করে না। যদি ভারত এ ধরনের প্রচেষ্টা চালায়, তবে তা তাদের ‘ভুল–বোঝাবুঝি’।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়। কিছুদিনের মধ্যে একই পথে হাঁটে বাহরাইনও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত সেপ্টেম্বরে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করে এই দুই দেশ। এরপর সুদান ও ভুটান ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিন। সূত্র: ডন