উত্তেজনার মাঝে ভূমধ্যসাগরে নৌ মহড়া চালালো তুরস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নৌ মহড়া চালিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইটারে দেয়া বার্তার মাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, “আমাদের নৌ কমান্ড মহড়া চালিয়েছে।” পূর্ব ভূমধ্যসাগরের কোন জায়গায় মহড়া চালানো হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয় নি। তবে যে ছবি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে- একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে কামানের গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।

গত ১০ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে একমত হন। ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান করা নিয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে তুরস্কের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুর্কি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তুরস্ক নিষেধাজ্ঞাকে একপেশে ও অবৈধ বলে নিন্দা করে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা দু পক্ষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে।

গত অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় নেতারা তুরস্কের বিরুদ্ধে বড় রকমের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার যে হুমকি দিয়েছেন অবশ্য তা থেকে ইইউ সরে এসেছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন মঙ্গলবার

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং শক্তিশালী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে কথা বলতে পারেন।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সাথে বৈঠক করবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন।

সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে দুপুরে।

দুই মন্ত্রী যৌথভাবে একই দিনে ঢাকায় নবনির্মিত তুর্কি দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন।

ড. মোমেন চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক সফর করেন এবং আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির নজর রয়েছে তার দেশের। সেই সাথে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে চায় তারা।

‘আমরা এমন এক বাংলাদেশকে দেখি যার রয়েছে খুব উজ্জ্বল এক ভবিষ্যত। এ দেশের অর্থনীতি আমাদের দেশের মতো দ্রুত বাড়ছে। তুরস্কের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এ দেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা দিচ্ছে,’ তুরান বলেন ইউএনবিকে।

তুরস্কের একটি বিখ্যাত কোম্পানি চট্টগ্রামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।

তুরস্ক ও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মাঝে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের সাথে জনগণের সংযোগ সম্প্রসারণ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার এবং এ সংখ্যাটিকে বাড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে দুই দেশ।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫.৪ কোটি ডলার।

সূত্র : ইউএনবি