পেটে গুলি করে ফিলিস্তিনি নারীকে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা

ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে পেটে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে আলী আইমান নাসর আবু আলিয়া নামের ওই কিশোরও অংশ নিয়েছিল। সেখানেই তাকে গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

ফিলিস্তিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত ওই কিশোর রামাল্লাহর এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।

এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিমতীরে বিক্ষুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের হাসতে হাসতে গুলি করছে ইসরাইলি সেনারা।

তুর্কি সংবাদসংস্থার ভিডিওতে দেখা গেছে, জোর করে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে তা গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে। পশ্চিমতীরের কাফর মালিক শহরে সম্প্রতি উচ্ছেদ করা অসহায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও গুলি করতে দেখা যায় ইসরাইলি সেনাদের। এ সময় নির্দয়ভাবে তাদের হাসতে দেখা গেছে।

ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের বাড়িঘর জবর-দখলের প্রতিবাদ করছিল, তখন ইসরাইলি সেনারা তাদের গুলি করে উল্লাসে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিমতীরে দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছে।

চলে গেলেন কাবা ঘরের দরজার নকশাকার

চলে গেলেন কাবা ঘরের দরজার নকশাকার
পবিত্র কাবা ঘরে স্থাপিত দরজার নকশাকার প্রকৌশলী মুনির আল জুনদি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) জার্মানির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

গলফ টুডের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালে সৌদির তৎকালীন বাদশাহ খালেদ বিন আবদুল আজিজ সোনা দিয়ে পবিত্র কাবা ঘরের একটি দরজা নির্মাণের নির্দেশ দেন। সেই দরজার নকশা করার জন্য নির্বাচন করা হয় প্রকৌশলী মুনির আল জুনদিকে।

সৌদির ইতিহাস বিশেষজ্ঞ মানসুর আল আসসাফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ পবিত্র কাবা ঘরের দরজা নির্মাণের দায়িত্ব মক্কার আলে বদর পরিবারের ওপর অর্পণ করেন। প্রায় দেড় বছরের মধ্যে দরজার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, এরপর ১৩৯৮ হিজরিতে (১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ) বাদশাহ খালেদ বিন আবদুল আজিজ আহমদ বিন বদরকে খাঁটি সোনা দিয়ে পুনরায় দরজা নির্মাণ করতে বলেন। তখন প্রকৌশলী মুনির আল জুনদি নকশাটি করেন। দরজাটির দৈর্ঘ তিন মিটার ও প্রস্থ দুই মিটার। এর পুরুত্ব প্রায় অর্ধ মিটার। থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ম্যাকা কাঠ দিয়ে দরজাটি তৈরি করা হয়। এই কাঠ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কাঠ বলে স্বীকৃত।

প্রকৌশলী মুনির আল জুনদির জন্ম সিরিয়ার হেমস শহরে। নকশাকার হিসেবে পবিত্র কাবার দরজার ওপর তার নাম লেখা আছে। সিদ্ধান্ত মতে দরজার নকশাটি প্রস্তুত করা হয় জার্মানিতে। তবে সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, নকশার কাজ অবশ্যই কোনো মুসলিম প্রকৌশলীকে করতে হবে, যেন তার নাম দরজায় লিখে রাখা যায়। অবশেষে মুনির আল জুনদি এই দায়িত্ব পান।

আমাদের গোটা জাতি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে: ইমরান খান

পাকিস্তানের ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের গোটা জাতি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে। যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, ততক্ষণ আমরা কিছুতেই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেব না। শুক্রবার পাকিস্তানের সামা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর আরব নিউজের।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা সম্প্রতি ইসরাইল সফর করেছেন বলে ইসরাইলের গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেন ইমরান খান। তিনি এ প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ইসরাইলকে যেহেতু ইসলামাবাদ স্বীকৃতিই দেয় না, তা হলে কেন পাকিস্তানের মন্ত্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তেলআবিব সফর করবেন? এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রতিবেদন।

একই দিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেহমুদ কোরেশি ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তেলআবিবে ইসরাইল ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কোনো বৈঠক হয়নি। আবুধাবিতে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার ইসরাইলের কয়েকটি পত্রপত্রিকা খবর দিয়েছে যে, ইমরান খানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা গত মাসে গোপনে ইসরাইল সফর করেছেন। প্রচারণামূলক ওই খবরে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল যে, ইমরান খানের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা বহন করে নিয়ে গেছেন ওই উপদেষ্টা।

ইসরাইলি গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে যে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ নিয়ে ইমরান খান তার উপদেষ্টাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। ইসরাইলের প্রভাবশালী পত্রিকা জেরুজালেম পোস্টও এ খবর প্রকাশ করেছিল; কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

জাতিসংঘে এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াল কানাডা

জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াল কানাডা।

ফিলিস্তিনিদের জমিদখল করে অবৈধভাবে ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে গত বুধবার একটি প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবটি ১৬৮-৫ ভোটে পাস হয়। খবর জেরুজালেম পোস্টের।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের অধীবেশনে একই বিষয় নিয়ে ভোটাভুটি হলে এটি ১৬৭-৫ ভোটে পাস হয়েছিল। কারণ গত বছর কানাডা ভোটদানে বিরত ছিল।

গত বছর কানাডা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কিরিবাতি, পালাও, দক্ষিণ সুদান, টোগো ও টঙ্গো- এই ১০ দেশ ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল।

এ বছরও ওই ১০ দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবটির বিপক্ষে আর ইসরাইলি বর্বরতার পক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, মার্সাল আইল্যান্ড, নাওরু ও মাইক্রোনেশিয়া।

জাতিসংঘে কানাডা বরাবরই ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করলেও এবার ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘে।