গৃহহীনদের ঘর তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে তুরস্ক

ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য দুই শতাংশ জমিসহ দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণে বাংলাদেশের সরকারের নেওয়া কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করবে তুরস্ক। বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরানের নেতৃত্বে তুরস্কের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এ কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে তুরস্কের এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তারা দুর্যোগ সহনীয় এই গৃহনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশকে আর্থিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ওই বৈঠকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়নে তুরস্কের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরির ক্ষেত্রে সরকারকে এ সহযোগিতা আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করতে তুরস্কের সরকার টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা)-র মাধ্যমে এ অর্থ অনুদান হিসাবে দেবে।

এনামুর রহমান বলেন, কত সংখ্যক গৃহনির্মাণে তারা আর্থিক সহায়তা দেবে কিংবা এ প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ তুরস্ক সরকার সহায়তা দেবে তা পরবর্তীতে বাংলাদেশকে জানাবে।
তুরস্ক ছাড়াও আরো অনেক দেশ এ প্রকল্পে সহায়তায় অর্থায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং যেকোনো দুর্যোগে তুরস্ককে পাশে পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণে তুরস্কের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এ দেশের প্রতিটি গৃহহীন পরিবার যাতে দুর্যোগ সহনীয় ঘর পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রত্যেক ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমি দিয়ে সেখানে দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

প্রতিটি ঘরের নির্মাণ খরচ প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমান অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১৭ হাজার পাঁচটি ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। সারা দেশে প্রায় নয় লাখ গৃহহীন পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাদের পর্যাক্রমে সরকার দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেবে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন উপস্থিত ছিলেন।

পেটে গুলি করে কিশোরকে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা

ফিলিস্তিনের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে পেটে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে আলী আইমান নাসর আবু আলিয়া নামের ওই কিশোরও অংশ নিয়েছিল। সেখানেই তাকে গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

ফিলিস্তিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত ওই কিশোর রামাল্লাহর এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।

এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিমতীরে বিক্ষুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের হাসতে হাসতে গুলি করছে ইসরাইলি সেনারা।

তুর্কি সংবাদসংস্থার ভিডিওতে দেখা গেছে, জোর করে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে তা গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে। পশ্চিমতীরের কাফর মালিক শহরে সম্প্রতি উচ্ছেদ করা অসহায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও গুলি করতে দেখা যায় ইসরাইলি সেনাদের। এ সময় নির্দয়ভাবে তাদের হাসতে দেখা গেছে।

ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের বাড়িঘর জবর-দখলের প্রতিবাদ করছিল, তখন ইসরাইলি সেনারা তাদের গুলি করে উল্লাসে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিমতীরে দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছে।