তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকিদাতারা অচিরেই হতাশ হবে: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, যারা তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয় তারা অচিরেই হতাশ হবে। শনিবার একটি মহাসড়কের উদ্বোধনকালে এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক তার সার্বভৌম অধিকার ব্যবহার করতে কখনো সঙ্কোচ করবে না। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোগান আরো বলেন, ‘আন্তঃমহাদেশীয় বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠা তুরস্কের জন্য একটি বড় অর্জন, যা আমাদের ৮৩ মিলিয়ন মানুষকে উপকৃত করবে।’

তুরস্কে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা একটি বড় অগ্রগতি আশা করছি।’ গত সোমবার রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ব্যাপার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এই নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রেসিডেন্সি (এসএসবি) এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের এপ্রিলে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে তুরস্কের একটি দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে দেশটি রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা তুরস্কের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে শুরু করে। তাদের দাবি, তুরস্ক এটা কিনলে ন্যাটোর নিয়ম ভঙ হবে এবং তারা রাশিয়ার সম্ভাব্য ছলনায় তাদের এফ-৩৫ জেটগুলো উন্মুক্ত করে দিতে পারে।

তুরস্ক অবশ্য জোর দিয়ে বলেছিল, যে এস-৪০০ ন্যাটো ব্যবস্থায় একীভূত হবে না এবং জোট বা তার অস্ত্রশস্ত্রের জন্য কোনো হুমকির কারণ হবে না।

প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্যতা খতিয়ে দেখতে তুর্কি কর্মকর্তারা বারবার একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রস্তাব করেছে।

শনিবার তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব গাজিআনতেপ প্রদেশের একটি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যাক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এরদোগান নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

সানকো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিবৃতি থেকে জানা যায়, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উচ্চ-প্রবাহ অক্সিজেন থেরাপি মেশিনের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন মারা যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন তুর্কি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেত্তিন কোচা।

ঘটনাস্থল থেকে রোগীদের স্থানান্তরের চেষ্টা করতে গিয়ে চিকিৎসক, মেডিক্যাল স্টাফ ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ৫১ জন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন স্টাফ অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন বলে জানায় হাসপাতালটি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

বিপদে একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তান ও আজারবাইজানের

বিপদে একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান ও আজারবাইজান। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশ দুটি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে সংস্কৃতি সহযোগিতার বিষয়টিও প্রধান্য পায়।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, আজারবাইজান ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ড বৈঠকে উভয় দেশ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব সোহেল মাহমুদ এবং আজারবাইজানের পক্ষে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রমিজ হাসানভ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নাগোরনো-কারাবাখ ইস্যু নিয়ে ইসলামাবাদের নীতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এতে কারাবাখে আজারবাইজানের বিজয়কে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আজারবাইজানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসানভ ইসলামাবাদকে তার অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানান। অপরদিকে বিরোধপূর্ণ জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আজারবাইজানের অবস্থানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান।

বৈঠকে বিশ্ব ও আঞ্চলিক ফোরামে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থে একে অপরকে সমর্থন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।