৪, ৯, ২, ০, ৪, ০ ,৮, ৪, ০, ৪, ১—ভারত ফেরাল ৯৬ বছরের পুরোনো লজ্জা

কোহলির অধীনে এ কেমন ভারত?
পৃথ্বী শ কাল যখন ৪ রান করে আউট হয়ে ফিরছিলেন, তখনো ভারতের কোনো সমর্থক দুঃস্বপ্নেও এমন কিছু কল্পনা করেছিলেন?

আজ ব্যাটিংয়ে কী কী করবেন, তেমন পরিকল্পনা নিয়েই হয়তো বিরাট কোহলি কিংবা চেতেশ্বর পূজারারা যখন গতকাল রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন, একবারও কি তাঁদের কল্পনায় এসেছিল এমন কিছু হতে পারে।

কল্পনার অতীত ব্যাপারটাই আজ ঘটে গেল অ্যাডিলেডে। ঠিক দশ উইকেটই পড়েনি ভারতের, শেষ ব্যাটসম্যান রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় ইনিংস গুটিয়ে গেছে আগেই। তবে ৩৬ রানেই ইনিংসটা গুটিয়ে গেছে ভারতের। টেস্ট ইতিহাসের না হলেও ভারতের নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড এটি। তাতে ভারতের বাড়তি লজ্জা, ইনিংসে একজন ব্যাটসম্যানও দুই অঙ্কের দেখা পাননি!

১১ ব্যাটসম্যানের সবাই দুই অঙ্কে পৌঁছানোর আগেই আউট হয়ে গেছেন, এমনটা এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দেখল টেস্ট ক্রিকেট। আগেরটি ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯২৪ সালে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ১১ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছিলেন এক অঙ্কে।

আগের দিন পৃথ্বী শ ৪ রান করে আউট হয়েছিলেন। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ৫ রান নিয়ে ও নাইটওয়াচম্যান যশপ্রীত বুমরা ০ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। কিন্তু আজ তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বল থেকে ভারতের মড়ক লাগা শুরু।

কাল ১ উইকেটে ৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল ভারত, আজ স্কোরবোর্ডে ৬ রান যোগ হতেই ফেরেন বুমরা। ব্যক্তিগত ২ রানে।

স্কোরবোর্ডে আর কোনো রান যোগ না হতেই এরপর ফেরেন চেতেশ্বর পূজারা (০), মায়াঙ্ক আগারওয়াল (৯) ও অজিঙ্কা রাহানে (০)। এক ধাক্কায় ১৫ রানে ৫ উইকেট নেই ভারতের।

ভরসা হবেন কোহলি—এমনটা যাঁরা ভেবেছিলেন, তাঁদের ভাবনার দুয়ারে বাস্তবতার কঠোর আঘাত এল কিছুক্ষণ পর। প্যাট কামিন্সের বলে আউট কোহলি, ভারতের রান তখন ১৯, কোহলি আউট হলেন ৪ রান করে।

তখন হিসাব চলছিল, ভারত না টেস্ট ইতিহাসেই সবচেয়ে কম রানে আউট হয়ে যায়! যে রেকর্ডটি নিউজিল্যান্ডের, ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ডের ইংল্যান্ডের হাতে নিউজিল্যান্ড আউট হয়েছিল ২৬ রান করে।

ভারতকে ২৬ রানেই রেখে একে একে ফেরেন ঋদ্ধিমান সাহা (৪) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন (০)। ২৬ রানে ৮ উইকেট নেই। আর দুই উইকেট পড়ে গেলেই লজ্জার রেকর্ডটাতে নাম লিখিয়ে ফেলে ভারতও—এ-ই তখন জল্পনাকল্পনা। কিন্তু হনুমা বিহারি তা হতে দিলেন না। ৮ রান করে তিনি যখন আউট হচ্ছেন, ভারতের রান ৯ উইকেটে ৩১।

এরপর তো দলকে ৩৬ রানে রেখে প্যাট কামিন্সের বলে কনুইয়ে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন মোহাম্মদ শামি (১)। অন্য পাশে উমেশ যাদব তখন ৪ রানে অপরাজিত।

শামি আর খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন না, এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই ‘টেলিফোন ডিজিট’ স্কোরকার্ডটা পেয়ে গেছে ভারত। টেস্ট ক্রিকেট যে রকম স্কোরকার্ড গত ৯৬ বছরে দেখেনি।

৩৬ রানে শেষ ভারতের টেস্ট ইনিংস,অস্ট্রেলিয়ার সামনে মুখ লুকানোর পরিস্থিতি ভারতীয় ক্রিকেটারদের

ঠিক ৯৪ মিনিট। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের লিড নেওয়ার পর তৃতীয় দিনের দুপুরে ঠিক এই সময়টুকু টিকল ভারতীয় ব্যাটিং। কোনওরকম প্রতিরোধ ছাড়াই লজ্জাজনকভাবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে আত্মসমর্পণ করল ভারত।

এক উইকেটে ন’রান নিয়ে খেলতে নেমে শনিবার অ্যাডিলেডে প্রথম সেশনও পার করতে পারেনি ভারত। প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। তারপর একে একে চেতেশ্বর পূজারা, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানেরা প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

শেষপর্যন্ত ন’রানে ৩৬ রান তুলতে পারে ভারত। কামিন্সের বাউন্সারে চোট লেগে মাঠের বাইরে বেরিয়ে যান শামি। তার জেরে অলআউট হতে হয়নি। কিন্তু টেস্টের ইতিহাসে ভারতের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জার নজির গড়েন বিরাটরা। একজন ব্যাটসম্যানও দু’অঙ্ক পেরোতে পারলেন না। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের স্কোর – ৪, ৯, ২, ০, ৪, ০, ৮, ৪, ০, ৪ এবং ১।

সেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের জেরে টুইটারে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভারতীয় সমর্থকরা। কটাক্ষও ছুড়ে দিয়েছেন। হতবাক হয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। টুইটারে বীরন্দ্র সেহওয়াগ লেখেন, ‘যে ওটিপি ভুলে যাওয়া উচিত – ৪৯২০৪০৮৪০৪১।’

রবি শাস্ত্রী একটা সময় ভারতের সেরা টেস্ট দল বলেছিলেন বিরাট বাহিনী। তা নিয়ে এক নেটিজেন লেখেন, দারুণ ব্যাটিংয়ের পরিস্থিতিতে ভালো পেস বোলিংয়ের স্পেল টিকে থাকতে পারে না। আর এই দলকে ২০০০ সালের দলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যে দল স্টিভ (ওয়াওয়ের) নেতৃত্বে গ্নেন ম্যাকগ্রাথ, ব্রেট লি, ওয়ার্নের শক্তিশলী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে থেলেছিল। ভেবে দেখার সময় এসেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।’