ভারতে ‘সেরা ছাত্রী’ পুরষ্কার পেলেন আলিগড় ইউনিভার্সিটির মুসলিম শিক্ষার্থী সামিয়া মাকসুদ

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী,

বি.এসসি (অনার্স) কৃষিবিদ্যার ছাত্রী সামিয়া মাকসুদ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতের মাইক্রোবায়োলজিস্ট সোসাইটি কর্তৃক ‘সেরা ছাত্র’ পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত হয়ে নজির সৃষ্টি করেছে।

আরো পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইয়াসির খানকে !

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর এ পদে নিয়োগ পেয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ ইয়াসির খান। ২০২১-২০২০ সালের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় ইমাম নিয়োগ দিয়েছেন স্পিকার অ্যান্থোনি রেনদন।

৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদ ইয়াসির খান এ পদে নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। খবরে প্রকাশ, এক বিবৃতিতে রেনদন বলেন, ইমাম ইয়াসির খান ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমি দেখেছি আমাদের জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ধর্মীয় ও সমাজের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছি।

ইয়াসির খানও ক্যালিফোর্নিয়ার আধ্যাত্মিক ও নাগরিক প্রাণশক্তিতে অবদান রাখার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে সেটি করেছেনও। ইয়াসির খান গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় কাউন্টিতে জেল, শেরিফ অফিস ও হাসপাতালগুলোতে কাজ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই একটি অলাভজনক সংস্থা আল-মিসবাহর প্রতিষ্ঠাতা।

ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ইয়াসির খান বলেন, আল্লাহ আমাকে এখানে এনেছেন এবং আমি এই ভূমিকায় নির্বাচিত হওয়ায় অত্যন্ত সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। আশা করি, এটি দেশের অন্য ইমাম ও ইসলামী নেতাদের পদপ্রাপ্তির একটি পদক্ষেপ হবে। রাজ্যসভায় ইমামের কাজ মূলত প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে দোয়া পাঠ করা।

তবে ইয়াসির খানের আশা, এটি মুসলিমদের অন্য সম্প্রদায়গুলোর আরো কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেবে।

আরো পড়ুন: মুসলমানদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় !

ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্ত দিলো ৩ জন মুসলিম-আমেরিকান যুবকের পক্ষে। নিজ ধর্মের লোকজনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় এই যুবকদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিমান ভ্রমণে নিষিদ্ধদের তালিকায় উঠিয়েছিল এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা।

এমনকি, তারা টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে গিয়েও বিমানে উঠতে সক্ষম হননি। এমন অপমানজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঐ যুবকেরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ন্যায়-বিচার প্রত্যাশায়। মামলায় এমন কান্ডের জন্যে এফবিআইয়ের ঐ অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার অনুমতি চান।

বিমানে বিপজ্জনক যাত্রী’ হিসেবে যে তালিকা রয়েছে সেখানে তাদের নাম থাকার কোনই কারণ নেই। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অথবা অভ্যন্তরীণভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সহযোগি নন এবং কোন ধরনের ক্রাইমেও কখনো লিপ্ত ছিলেন না।

১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাস্টিস এ্যামি কোনি ব্যারেটের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত বিস্তারিত শুনানী শেষে ৮-০ ভোটে তিন যুবকের পক্ষে রায় দিয়ে বলা হয় যে, তারা এফবিআইয়ের ঐ কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।

১৯৯৩ সালের ‘দ্য রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টুরেশন এ্যাক্ট’ (the Religious Freedom Restoration Act (RFRA) আইন অনুযায়ী ফেডারেল সরকারের কেউই ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়-এমন কোন কাজে লিপ্ত অথবা মদদদান করতে পারেন না।

সে অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজন সম্মিলিতভাবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তা/গণের নামোল্লেখ করে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলার অনুমতি পেলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোহাম্মদ তানভির, জামিল আলজিবাহ এবং নাভিদ শিনওয়ারিকে ফেডারেল সরকারের ‘নো ফ্লাই’ তালিকায় উঠানো হয়।

এ তালিকা শুরু হয়েছে ৯/১১ এ সন্ত্রাসী হামলার পর। সময়ে সময়ে সেখানে নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ এ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মুসলিম বিদ্বেষমূলক আরেকটি আচরণের নিন্দা-উচ্চারিত হলো।

আরো পড়ুন: মার্কিন চাপ সামলাতে তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব !

আঞ্চলিক বিষয়ে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সৌদি আরব এবং তুরস্ক স্বাভাবিক সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবশে করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে তা নির্ভর করছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রত্যাশিত পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন এবং সৌদি প্রশাসনে ওয়াশিংটনের প্রভাবের ওপর।

মিডল ইস্টার্ন স্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (ওআরএসএএম) প্রধান আহমেদ উসাল তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহকে বলেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন যদি প্রত্যাশিত নীতি গ্রহণ করে, সৌদি আরব যদি যৌক্তিকভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে তাহলে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন যুগ আমরা প্রত্যাশা করতে পারি।

‘আঞ্চলিক দুই শক্তির মধ্যে সংঘাতের কোনো প্রয়োজন নেই। সৌদি আরব তার অযৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে আসলে আঞ্চলিক অনেক বিষয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে।’ দু’দেশের ইচ্ছা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সবকিছুই নির্ভর করছে। তুরস্ক এ ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। বলেন উসাল।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক আলি বাকের বলেন, সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অনুমান এ মুহূর্তে কঠিন। তবে গেল দু’মাসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ইতিবাচিক ইঙ্গিত দেয়।

রিয়াদ-আঙ্কারা বিষয়ে বাইডেনের নীতি অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য চুক্তিসহ সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক আরও অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। উসাল বলেন, ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তবে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের শাসনামলে তুলনামূলকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নত হয়েছে। তারপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করেন।

যখন সৌদির শাসনভার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) হাতে ন্যস্ত করেন, আঞ্চলিক নতুন একটি ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরি হয়, তখন তুরস্ক থেকে আবারও সৌদি আরব দূরে সরে যায়। উলদাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান তাইয়ার আরি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে সৌদি প্রশাসনে কিছু উলটপালট হয়।

ট্রাম্পের সমর্থনে একক ক্ষমতার অধিপতি হয়ে ওঠেন এমবিএস। তখন একপাশে পড়ে যান বাদশাহ। তিনি বলেন, এমবিএস’র বিদেশ পরিকল্পনার সঙ্গে বাদশাহ সালমানের নীতির ব্যাপক