ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মুহাম্মদ (সা:) এর অবমাননাকর সেই ছবি নির্মাতা!

ইসলাম গ্রহণ করলেন মুহাম্মদ (সা) কে অবমাননা করে ছবি নির্মাতা !!
মুসলমানদের প্রানের চেয়েও প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর অবমাননা করে ছবি নির্মাতা হল্যান্ডের অধিবাসী আরনুডো ফাওয়ান্ডার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

আরনুডো ফাওয়ান্ডার বলেছেন, ইসরাইল ও আমেরিকান লবি আমাকে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করে ফিল্ম নির্মাণের জন্য প্ররোচিত করেছিলো। আজ আমি সে কাজের জন্য খুবই লজ্জিত।

আরনুডো ফাওয়ান্ডার কুয়েতের ‘আর রায়’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমি সেই অপরাধটি করার পর নিজের ভুল বুঝতে পারি। কিছুটা বিচলিত হয়ে যাই। ফলে এক পর্যায়ে আমার ইসলাম গ্রহণের সুযোগ হয়।

তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সংগঠন থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। এখন একটি ইসলামি সংগঠন করার কথা ভাবছি। আমি মনে করি, হল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় আইন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন করতে বাধা দেয় না। বরং পূর্ণ অনুমোদন দিয়ে থাকে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, আমি যখন ওই ফিল্ম তৈরি করি তখন আমার ধারণা ছিলো ইউরোপের জন্য ইসলাম হুমকিস্বরুপ এবং ইসলামের কারনে এখানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কিন্তু পরবর্তীতে আমার এ ভুল ভাঙ্গে। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় আমি এমনটি মনে করতাম। এটা ছিলো আমার মুর্খতার ফল।

তিনি আরো বলেন, ফিল্ম তৈরির মাধ্যমে আমরা মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে সতর্ক করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি তার জন্য লজ্জিত। সুত্রঃ ঈমান২৪

৬১০ মাদরাসা বন্ধ করে দিচ্ছে ভারত

৬১০ মাদরাসা বন্ধ করে দিচ্ছে ভারত
সরকার পরিচালিত সব মাদরাসা ও টোল (সংস্কৃত স্কুল) বন্ধ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ভারতের আসাম রাজ্যের সরকার। বিলুপ্ত করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা বোর্ড।

বিষয়টি এরইমধ্যে রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামের বিজেপি সরকারের মুখপাত্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোওয়ারি। আসামের বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন বসতে যাচ্ছে ২৮ ডিসেম্বর থেকে। এই অধিবেশনে এ বিষয়ে একটি বিল পেশ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমকে মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোওয়ারি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকার পরিচালিত সব মাদরাসা ও সংস্কৃত স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আসামের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে মোট ৬১০টি সরকার পরিচালিত মাদরাসা রয়েছে। এছাড়া ১০০টি সংস্কৃত টোল রয়েছে। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরে ২৬০ কোটি রুপি ব্যয় করে। এসব মাদরাসা উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হবে এবং শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন করে ভর্তি করানো হবে।

এছাড়া সংস্কৃত স্কুলগুলোকে ভারতীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জাতীয়তাবাদ শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে।
সূত্র: ন্যাশনাল হেরাল্ড ইন্ডিয়া

এবার সমুদ্রে মানববিহীন নৌযান নিয়ে আসছে তুরস্ক!

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যাপক উন্নতি করেছে তুরস্ক। তাদের টিবি-২ ড্রোনের বিজয়গাঁথা এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে সমরবীদদের আলোচনার কেন্দ্রে। এবার সমুদ্রে মানুষবিহীন নৌযান নিয়ে আসছে তারা।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো এমন নৌযানের একটি মডেল প্রদর্শন করেছে দেশটি। আঙ্কারাভিত্তিক মেটেকসান ডিফেন্সের সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে আরেস শিপইয়ার্ড। এর নাম দেওয়া হয়েছে সিডা (SIDA)।

আরেস শিপইয়ার্ডের সিইও উটকু আলেঞ্চ জানিয়েছেন, এ মাসের শেষ দিকে এটি পানিতে নামানো হবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, আগামী মার্চে এই নৌযান থেকে গাইডেড মিসাইলের ফায়ারিং টেস্ট করা হবে। মিসাইলগুলো তৈরি করবে তুরস্কেরই রকেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রোকেটসান।

সিডা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার (৪০ মাইল) গতিতে ছুটতে পারবে। এর রেঞ্জও হবে ব্যাপক, ৪০০ কিলোমিটার (২৪৯ মাইল)। দিন এবং রাতে সমানভাবে কার্যকরী হবে এটি।

আলেঞ্চ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি এজিয়ান এবং ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের জন্য জিডাইন করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্যও এটি দারুণ কার্যকরী হবে বলে জানান তিনি।

বিরাট ভুলের মধ্যে আছেন, সময় থাকতে দ্রুত ফিরে আসুন: আমেরিকাকে তুরস্ক

রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার জন্য তুরস্কের ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার জবাব দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তুর্কি সরকার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আংকারা ‘বিরাট ভুল’ বলেও অভিহিত করেছে।

মার্কিন সরকার সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরো তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুরস্কের খাতগুলোর জন্য আমেরিকা থেকে কোনোকিছু আমদানি করা যাবে না এবং আমেরিকায় থাকা এসব খাতের সম্পদ জব্দ করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মাইক পম্পেও বলেন, বহুবার আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তুরস্ককে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনা হলে তাতে আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তি ও সেনাদের নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়বে। পাশাপাশি এস-৪০০ কিনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে তহবিল যোগান দেয়া হলো।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ফোর্ড সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বলেন, ওয়াশিংটন সমস্যার সমাধান চেয়েছিল কিন্তু তুরস্ক তার সবই প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ‘হঠাৎ করে কিংবা হাল্কা’ কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি।

এসব বক্তব্যের জবাবে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা নেই। আংকারা বহুবার সমস্যা সমাধানের জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে কিন্তু সে প্রস্তাবকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয় নি। তুর্কি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এ বিরাট ভুল থেকে আমরা ওয়াশিংটনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসার আহ্বান জানাই।”

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আমাদের দেশের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখব।”

সূত্র: পার্সটুডে

তুরস্কে মার্কিন ছোবল: এরদোয়ানের পাশে থাকার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপে তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির পাশে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) নিজের টুইটারে বিষয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।

একই টুইটে জাভেদ জানান, নিষেধাজ্ঞার আসক্তি থেকেই আন্তর্জাতিক আইন-এর প্রতি অবজ্ঞা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনা, ন্যাটোভুক্ত দেশ হয়েও ন্যাটোভুক্ত দেশ নয় এমন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র চুক্তি করার দায়ে (১৪ ডিসেম্বর) তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্কের এস-৪০০ সংগ্রহ করার ঘটনা ন্যাটো জোটের নীতির পরিপন্থি এবং এই জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ঘোষণা করে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের লজিস্টিক ও সমরাস্ত্র খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান সরবরাহের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল।

মার্কিন সরকার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজারবাইজানে তুর্কি ড্রোনের কাছে আর্মেনিয়ার শোচনীয় পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কের উপর নাখোশ মনোভাব আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আঙ্কারার সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবেন তার উপরই নির্ভর করছে দু’দেশের অবস্থান।

‘তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প তার উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের (এসএসবি) প্রধান ইসমাইল দেমির।

রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশ কেনার কারণে ওয়াশিংটনের দেয়া অবরোধের প্রেক্ষিতে ইসমাইল দেমির বলেন, ‘দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে এবং তা আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে। বরং এ পদক্ষেপটি জ্বলে উঠা ও সতর্কতা হিসেবে প্রতিফলিত হবে।

পার্লামেন্টে দেয়া বাজেট বক্তৃতার পর সাংবাদিকদের দেমির আরো বলেন, ‘আমরা আশা করবো, এতে আমাদের সম্পর্কে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত সোমবার রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের উপর অবরোধ আরোপ করে।

দিমির ও অপর তিনজন কর্মকর্তাসহ এসএসবিকে লক্ষ করে কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্টের (সিএএটিএসএ) আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ন্যাটো সদস্যপদের কথা উল্লেখ করে দেমির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আঙ্কারার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে। উভয় পক্ষই এ সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালের এপ্রিলে তুরস্ক এস-৪০০ কেনার জন্যে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন এই বলে যে, এটা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে মানানসই না। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের এফ-৩৫ জেটের অনেক কিছু রাশিয়ার কাছে চলে যাবে।

তবে তুরস্ক বলছে, এস-৪০০ ন্যাটো ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত হবে না, এবং এটা ওই জোট ও তার অস্ত্রশস্ত্রের জন্য কোনো হুমকি হবে না।

সূত্র: ইয়েনি সাফাক