ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: ফ্রান্সের ফুটবলার প্যাট্রিস

ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, অথচ বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে -প্যাট্রিস এভরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার প্যাট্রিস এভরা। তিনি বলেন, ইসলাম সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর ধর্ম। এটি শান্তির বার্তা দেয়। এ ধর্ম একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতার কথা বলে।

১৯৮১ সালে সেনেগালের ডাকারে ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এভরা। পরে সপরিবারে ফ্রান্সে বসতি স্থাপন করেন। এখানে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে ফরাসি নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। ফ্রান্স জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর তার ফুটবল প্রতিভার খবর গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল দুনিয়ার প্রায় সব নামিদামি লিগে খেলেছেন এ রক্ষণসেনা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তিনি।

হঠাৎ ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড়। সেই কথা জানান বাবার কাছে। এতে চটে যান তার বাবা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ফরাসি এ ফুটবলার। এরই মধ্যে সেটি ভাইরাল হয়ে গেছে।

এভরা বলেন, ইসলাম থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। এখন বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের জন্য এ ধর্মকে দোষারোপ করা হচ্ছে। সেই ক্ষণে আমি বলতে চাই- ইসলাম শান্তির ধর্ম। তিনি বলেন, বাবার কাছে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করায় বকা খেয়েছি। একপর্যায়ে বাবা জানতে পারেন, আমি ইসলামের প্রশংসা করছি। পরিপ্রেক্ষিতে উনি আমার ওপর রেগে যান এবং আমাকে বকাঝকা করেন। কারণ একটাই- আমার বাবা একজন ক্যাথলিক।

তিনি বলেন- মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, ইসলাম আমার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। আমার বাবা-মা ও বন্ধু-বান্ধবদের আপত্তি উপেক্ষা করে এ বিশ্বাসে দৃঢ় থাকতে পারব বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, বর্ণবাদ বিদ্বেষের উত্থানের পেছনে ইসলামের কোনো ভূমিকা নেই। এ ধর্ম বর্ণবাদে বিশ্বাস করে না। যারা বর্ণবাদের কথা বলে, বিশ্বব্যাপী ঘৃণা ছড়ায়, আমিও ব্যক্তিতভাবে তাদের হেয় করি।

সশস্ত্র সংগ্রামই ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে লড়াইয়ের একমাত্র পথ: হামাস

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বলেছেন, তার সংগঠন বিশ্বাস করে যে, সশস্ত্র সংগ্রামই ইহুদিবাদী ইসরাইলকে মোকাবেলার একমাত্র পথ। সম্প্রতি কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তারও নিন্দা করেন হামাসের এ নেতা।

হামাস প্রতিষ্ঠার ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল (রোববার) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাসিম ইয়াসিন নামে হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এ নেতা এসব কথা বলেন। করোনভাইরাসের মহামারীর কারণে হামাস গতকালের মূল অনুষ্ঠান বাতিল করে। এসময় তিনি হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমাদ ইয়াসিনের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

২০০৪ সালের ২২ মার্চ হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইয়াসিন ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় শহীদ হন। ওইদিন ভোরে ৬৭ বছর বয়সী এ নেতা হুইল চেয়ারে করে গাজা শহরে তার বাড়ির কাছে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য বের হলে ইসরাইল বিমান হামলা চালায়।

হামাস নেতা নাসিম ইয়াসিন আরো বলেন, তার সংগঠন এমন সময় ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছে যখন ফিলিস্তিনি ইস্যু নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে সময় পার করছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মহামারি রয়েছে যা ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজাবাসীকে বাড়তি সংকটের মুখে ফেলেছে।

সূত্র: পার্সটুডে

সরকারি কর্মকর্তাদের জিন্স টিশার্ট পরতে মানা!

সরকারি কর্মকর্তাদের জিন্স টিশার্ট পরতে মানা!
সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ পোশাকের নীতিমালা চালু করল ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মচারীদের কী পরা যাবে এবং যাবে না তা নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক কোনও সরকারি কর্মচারীই জিন্স, টি শার্ট পরে অফিসে যেতে পারবেন না। মহারাষ্ট্র সরকার মনে করে, পোশাকের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। তা নাহলে কর্ম পরিবেশ থাকে না।

পুরুষদের জন্য বলা হয়েছে, শার্ট ও ফরমাল প্যান্ট পরতে হবে। পায়ে চটি পরা যাবে না। ঢাকা জুতো বা স্যু পরতে হবে। নারীরা শাড়ি, সালোয়ার বা প্যান্ট-শার্ট পরতে পারেন। সপ্তাহে একদিন শুক্রবার খাদির পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। দেশীয় পণ্যের বিপননের জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনও উগ্র ছাপা জামা পরে অফিসে যাওয়া যাবে না। রুচিশীল পোশাক পরে কর্মস্থলে যেতে হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া। সরকারি কর্মচারীদের কখনোই সরকার এই ধরনের বাধ্যবাধকতা দিতে পারে না।

আবার কেউ কেউ মনে করছেন, যে কোনও কর্পোরেট সেক্টরের নিয়ম হচ্ছে ফরমাল পোশাক পরা। তাতে কর্মীদের মধ্যেও একটা সৌন্দর্য থাকে।
সূত্র: দ্য ওয়াল, টাইমস অব ইন্ডিয়া

মরনোত্তর সামরিক পদক পেলেন ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী ফাখরিজাদে

সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদে’কে মরনোত্তর সামরিক পদকে ভূষিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

পার্সটুডের খবরে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি রোববার ফাখরিজাদে’র বাসভবনে গিয়ে তার পরিবারের কাছে সর্বোচ্চ নেতার স্বাক্ষরিত ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব নাসর (বিজয়)’ পদক হস্তান্তর করেন।

এ সময় জেনারেল বাকেরি বলেন, ইসলামি বিপ্লব এবং ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান করা হলো। পদক প্রদানের সময় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সামরিক কমান্ডার জেনারেল বাকেরিকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা এবং লজিস্টিক অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ পদক। ফাখরিজাদে শহীদ হওয়ার পর ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি তাকে উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

ফাখরিজাদে’র পরিবারের কাছে সামরিক পদক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেনারেল বাকেরি আরো বলেন, উপযুক্ত সময় ও স্থানে এই শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হবে। বড় শয়তান আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল যেন জেনে রাখে ইরান তার শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার প্রতিশোধ নেবেই।

উল্লেখ্য গতমাসের শেষদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে এক সন্ত্রাসী হামলায় ফাখরিজাদে নিহত হন। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলকে দায়ী করেছে তেহরান।

পাকিস্তানকে ১৫০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন

পাকিস্তানকে ঋণের জাল থেকে উদ্ধার করতে আবারও অবিলম্বে ১৫০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন। সউদী আরবের কাছে পাকিস্তানের ২০০ কোটি ডলারের ঋণ আছে।

এক্ষেত্রে চীন যে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সেখান থেকে ১০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হবে আগামীকাল সোমবার। বাকি ১০০ কোটি জানুয়ারিতে শোধ করার কথা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

খবরে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) সূত্রগুলো বলেছেন, সউদী আরবের ঋণ থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করতে গিয়ে উল্টো তাকে আবার আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে চীন।

সাধারণত স্টেট এডমিনিস্ট্রেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ (এসএএফই- বা সেফ নামেই বেশি পরিচিত) থেকে চীন এ জাতীয় ঋণ দিয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেখান থেকে পাকিস্তানকে তারা ঋণ দিচ্ছে না। আবার এ ঋণ বাণিজ্যিক ঋণও নয়।

এর পরিবর্তে দুই দেশ ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত কারেন্সি-সোয়াপ এগ্রিমেন্টের (সিএসএ) আকার আরও ১০০০ কোটি চায়না ইয়েন বা প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বাড়াতে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সূত্র।

এর ফলে এই বাণিজ্যিক চুক্তির অধীনে পাকিস্তানকে দেয়া চীনের মোট সুবিধার আকার বেড়ে দাঁড়াল ২০০০ কোটি ইয়েন বা ৪৫০ কোটি ডলার।

উল্লেখ্য, সিএসএ হলো চীনের একটি বাণিজ্যিক আর্থিক সহায়তা, যা পাকিস্তান ২০১১ সালের চুক্তির অধীনে ব্যবহার করে আসছে বিদেশি ঋণ শোধ করার জন্য। একই সঙ্গে তারা নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ একটি স্বস্তিজনক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

তবে বাড়তি যে ১৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ পাকিস্তান পাচ্ছে এটাকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ হিসেবে দেখা হবে না। একে বিদেশে পাকিস্তানের সরকারি ঋণ হিসেবেও দেখা হবে না। এসবিপি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় উভয় খাতের মুখপাত্ররা এ রিপোর্টের সত্যতা প্রত্যাখ্যান বা নিশ্চিত কোনটিই করেননি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এটাকে দ্বিপক্ষীয় গোপনীয় বিষয় বলে উল্লেখ করলেও প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে এসবিপি এবং পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় কারেন্সি সোয়াপ এগ্রিমেন্ট বা সিএসএ চুক্তি। এর উদ্দেশ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি আর্থিক বিনিয়োগ এবং স্বল্প মেয়াদে তারল্য সমর্থন। মূল চুক্তি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তিন বছর মেয়াদের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।

এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫০ কোটি ডলার। ২০১৮ সালের মে মাসে এর মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়ানো হয়। এ সময় ঋণের পরিমাণ ২০০০ কোটি ইয়েন বা ৩০০ কোটি ডলার করা হয়। আগামী বছর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চীনের কাছে আবার তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী থেকে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসবিপি ২০০০ কোটি ইয়েন বা ৪৭৫০০ কোটি রুপি ব্যবহার করেছে।

গত তিন অর্থ বছরে ৩০০ কোটি ডলার বাণিজ্যিক সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিপরীতে চীনকে পাকিস্তান সুদ দিয়েছে ২০৫০ কোটি রুপি। এমনটা বলা হয়েছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে।

কয়েক বছর ধরে চীনকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য যে ঋণ দিচ্ছে তা দিয়ে পাকিস্তান মূলত শোধ করছে বিদেশী ঋণ। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।