ফ্রান্সে ৭৩টি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো “ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদ” বিরোধী লড়াইয়ের ঘোষণার পরে ফ্রান্স জুড়ে অভিযান চলছে। তিনি সম্প্রতি ইসলাম সম্পর্কে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে চলেছেন। একের পর এক তার প্রদক্ষেপে ফ্রান্সের মুসলিম মারাত্মক বিপদে পড়েছেন।

এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো “ইসলাম সংকটে” রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে “উগ্র ইসলামের” বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ফ্রান্সে ৭৩টি মসজিদ এবং ইসলামিক স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে হেরাল্ট অঞ্চলে একটি ‘সংস্থার’ মসজিদ ও স্কুলসহ এ অঞ্চলের নয়টি দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ফ্রান্স থেকে কয়েকশ বিদেশী নাগরিককে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফান্সে বসবাসরত ২৩১ বিদেশিকে বহিষ্কার করা হবে যাদের মধ্যে ১৮০ কারাবন্দী রয়েছেন।

ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায় ও দেশটির সরকারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে।

ম্যাক্রো আরো বলেন, মসজিদগুলোর বৈদেশিক তহবিল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার দেশটির বিভিন্ন স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

ফ্রান্সের মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন তৈরির বিষয়টিও নিশ্চিত করেছিলেন ম্যাক্রো। সূত্র: ডেইলি সাবাহ ও দ্য ইসলামিক

আসামে মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন নামছে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’

বিজেপিশাসিত অসমে সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন নামছে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’। ওই ইস্যুতে সংগঠনটি আগামী ২০ অক্টোবর কলকাতার ‘অসম ভবন’ ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

শনিবার ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান ‘পুবের কলম’কে বলেন, ‘মাদ্রাসাকে আবার বিতর্কের মুখে নিয়ে এসেছে বিজেপিশাসিত অসম সরকার। তারা ঘোষণা করেছেন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলোকে বন্ধ করে দেবেন। বিজেপির এ ধরণের সাম্প্রদায়িক খেলা একের পর এক চলছে।

তাদের জানা দরকার যে, আমাদের দেশের সংবিধানের ৩০ ধারায় যেকোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং যারা ভাষাগত সংখ্যালঘু তাদেরও নিজেস্ব সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য সংবিধান নিজেদের পছন্দমত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার স্বাধীনতা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে স্পষ্ট বলা আছে যে, সরকার কোনোভাবেই বেসরকারি বা সংখ্যালঘুদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে পারবে না। তারপরেও বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে মুসলিম বিদ্বেষকে আরও বিস্তার ঘটানোর জন্য একেরপর এক তারা এভাবে সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করার জন্য বঞ্চিত করার জন্য, অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব জঘন্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা লড়াইয়ের ডাক দিয়েছি। এই লড়াই সংগ্রাম ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত বিজেপি বা যেকোনো রাজনৈতিকদল তারা সংবিধান মোতাবেক দেশের সংখ্যালঘু মানুষের স্বাধীনতা সুরক্ষিত ও সুনিশ্চিত না করবে। ওই দাবিতেই আমরা আগামী ২০ অক্টোবর কোলকাতায় যে ‘অসম ভবন’ আছে, সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন সেই ‘অসম ভবন’ ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে। আমরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

সারা দেশের সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই অধিকারকে আমরা সুরক্ষিত করব- এটাই আমাদের প্রচেষ্টা। আসলে উন্নয়নের কোনও এজেন্ডা না থাকার কারণে বিজেপি বর্তমানে একের পর এক সাম্প্রদায়িক ইস্যু সামনে আনতে চাচ্ছে। ফলে দেশবাসী বিজেপিকে উপেক্ষা করছে। সেজন্য নতুন কোনও ইস্যু না খুঁজে পেয়ে এবার তারা মাদ্রাসা বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস, নিশ্চয় তারা ওই বিষয়ে সফল হবে না।’

সম্প্রতি অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদাসা বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার উজান অসমের শিবসাগরে একই কথার পুনরাবৃত্তি করে মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, যে যাই বলুক, নভেম্বর থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি মাদ্রাসার দরজা বন্ধ হচ্ছে।

মাদ্রাসগুলোকে সরকারি সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অসম সরকারের মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এরইমধ্যে দেশের অনেক সংখ্যালঘু নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পৃুবের কলম

আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি: ড্যানিয়েলে লোডুকা

আমি কখনোই আল্লাহকে খোঁজার গরজ অনুভব করিনি। যখন কিছুই করার থাকত না, তখন কোনো পুরনো বই বা ভবন দেখে সময় কাটাতাম। কখনো কল্পনাও করিনি আমি মুসলমান হব। আমি খ্রিস্টানও হতে চাইনি।

যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতিই আমার তীব্র বিতৃষ্ণা ছিল। প্রাচীন কোনো গ্রন্থ আমার জীবনযাপনের পথ-নির্দেশ করবে, তা নিয়ে ভাবিইনি।
এমনকি কেউ যদি আমাকে কয়েক কোটি ডলার দিয়েও কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে বলত, আমি সরাসরি অস্বীকার করতাম।
আমার প্রিয় লেখকদের অন্যতম ছিলেন বার্টান্ড রাসেল। তার মতে, ধর্ম হলো কুসংস্কারের চেয়ে একটু ভালো, সাধারণভাবে লোকজনের জন্য ক্ষতিকর, যদিও এর ইতিবাচক কিছু বিষয়ও আছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্ম ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানের পথ বন্ধ করে দেয়, ভীতি আর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া আমাদের বিশ্বের যুদ্ধ, নির্যাতন আর দুর্দশার জন্য অনেকাংশে দায়ী ধর্ম।

আমার মনে হতো, ধর্ম ছাড়াই তো ভালো আছি। আমি প্রমাণ করতে চাইতাম, ধর্ম আসলে একটা জোচ্চুরি। ধর্মকে হেয় করতে আমি পরিকল্পিত কাজ করার কথা ভাবতাম।
হ্যাঁ, সেই আমিই এখন মুসলমান।

আমি ঘোষণা দিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর সেটা না করে উপায়ও ছিল না। আমি অনুগত হয়েছি, ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।
মজার ব্যাপার হলো, যখন ধর্মাবলম্বনকারীদের সাথে বিশেষ করে মুসলমান হিসেবে পরিচয়দানকারীদের সাথে কথা বলতাম, আমি প্রায়ই লক্ষ করতাম, তারা বিশ্বাস করার আকাক্সক্ষা পোষণ করে। তাদের ধর্মগ্রন্থে যতই সাংঘর্ষিক বিষয় থাকুক, ভুল থাকুক, তারা সবকিছু এড়িয়ে দ্বিধাহীনভাবে ধর্মকে আঁকড়ে ধরে। তারা জানে, তারা কী বিশ্বাস করে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো আল্লাহকে খুঁজকে চাইনি, সেই ইচ্ছাও আমার কখনো হয়নি। একদিন আমার এক বন্ধু ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে বোঝাতে চাইল, আমি ক্ষুব্ধ হলাম।
কোনো মানুষ যখন কিছু বিশ্বাস করতে চায়, তখন তার মধ্যে অনেক সময়ই এমন একটা বোধ সৃষ্টি হয়, যার ফলে সেটা গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহ তার মধ্যে তৈরি হয়। ধর্মের ব্যাপারেও আমার মধ্যে তেমন একটা ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ধর্মকে স্রেফ একটা বাজে জিনিস হিসেবে বিশ্বাস করতে চাইতাম।

এমন বিশ্বাস কিন্তু কোনো দৃঢ় প্রমাণের ভিত্তিতে হয়, এমন নয়। স্রেফ অনুমানের ওপর গড়ে ওঠে এ ধরনের বিশ্বাস। আমি যখন কোনো ধর্মীয় বই পড়তাম, তখন সেগুলোর প্রতি আমার কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকত না, তবে আমার উদ্দেশ্য থাকত তা থেকে ভুল-ত্রুটি বের করা। এর ফলে আমি আমার উদ্দেশ্যের প্রতি অটল থাকতে পারতাম।
আমার কোরআনের পেপারব্যাক অনুবাদটি পেয়েছিলাম বিনা মূল্যে। একদিন দেখলাম, এমবিএ’র কিছু ছেলে কোরআন বিলি করছে। আমি জানতে চাইলাম, এগুলো কি ফ্রি? তারা হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে আমি একটা নিয়ে রওনা দিলাম। এসব বইয়ের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। কেবল ফ্রি পেয়েছিলাম বলে নিয়েছিলাম। তবে আমার উদ্দেশ্য ছিল, বইটা পড়ে আরো কিছু খুঁত যদি পাওয়া যায়, তবে ধর্মটির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।

আমি যে কপিটা পেয়েছিলাম, সেটির পাতাগুলো মলিন হয়ে গিয়েছিল, অনেক পুরনো ছিল সেটি। কিন্তু আমি যতই পড়তে থাকলাম, ততই বশীভূত হতে লাগলাম। আমি আগে যেসব ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েছি, তা থেকে এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি অর্থ সহজেই বুঝতে পারছিলাম। সবকিছুই ছিল স্পষ্ট।

আমার মনে পড়ল, আমার এক বন্ধু যখন আমাকে ইসলামে আল্লাহ কেমন তা বোঝাচ্ছিল, আমি রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু এবার পাতার পর পাতা উল্টে অনেক জায়গায় দেখতে পেলাম তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।’
মনে হলো, পবিত্র কোরআন সরাসরি আমার সাথে কথা বলছে, আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। এটা একটা ‘পুরনো গ্রন্থ’ কিন্তু পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক। এর কাব্যিকতা, কল্পনাশক্তি এবং যেভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়, তা আমাকে অন্তর থেকে নাড়া দিল। এর অভূতপূর্ব সৌন্দর্য আমি আগে কখনো টের পাইনি। মরুভূমির দমকা হাওয়া যেন সবকিছু উল্টে দিল। মনে হলো আমি যেন কিছু একটার জন্য দৌড়াচ্ছি।

কোরআন আমার বোধশক্তিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল। নিদের্শনাবলী দেখে তারপর আমাকে চিন্তা করতে, ভাবতে, বিবেচনা করতে বলল। এটা অন্ধ বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে উৎসাহিত করে। কোরআন মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, স্রষ্টাকে স্বীকার করে নিতে বলে, সেই সাথে আধুনিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতার কথা বলে।
অল্প সময়ের মধ্যেই আমার জীবনকে বদলে দেয়ার আগ্রহ তীব্র হয়। আমি ইসলাম সম্পর্কে অন্যান্য বই পড়তে শুরু করলাম। আমি দেখতে পেলাম, কোরআনে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, অনেক হাদিসেও তেমনটা আছে। আমি দেখলাম, পবিত্র কোরআনে অনেক স্থানে নবি মোহাম্মদকে সংশোধন করা হয়েছে। আমার কাছে অদ্ভূত লাগল। এতেই বোঝা যায়, তিনি গ্রন্থটির লেখক নন।

আমি নতুন পথে হাঁটতে শুরু করলাম, পবিত্র কোরআনের জ্যোতি আর নবি মোহাম্মদের দেখানো রাস্তায়। এই লোকটির মধ্যে মিথ্যাবাদির কোনো আলামত দেখা যায়নি। তিনি সারা রাত নামাজ পড়তেন, তাঁকে নির্যাতনকারীদের ক্ষমা করে দিতে বলতেন, দয়া প্রদর্শনকে উৎসাহিত করতেন। সম্পদ আর ক্ষমতা তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন, কেবল আল্লাহর দিকেই নিবেদনের বিশুদ্ধ বার্তাই প্রচার করতেন। আর তা করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছেন।

সব কিছুই সরল, সহজেই বোঝা যায়। আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। এই মহাবিশ্বের জটিল আর বৈচিত্র্যময় কোনো কিছুই ঘটনাক্রমে ঘটেনি। তা-ই সাধারণ বিষয় হলো, সেই একজন- যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাকে অনুসরণ করতে হবে।

আমার অ্যাপার্টমেন্টের কৃত্রিম লাইটিং এবং বাতাসের ওজন নিয়ে ভাবতে ভাবতে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি পড়লাম :

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশম-লী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, এরপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? (কোরআন ২১:৩০)

এই আয়াত পড়ে আমার মাথা যেন দুই ভাগ হয়ে গেল। এটাই তো বিগ ব্যাং তত্ত্ব (এটা স্রেফ একটা তত্ত্ব নয়)… সব জীবন্ত সত্তাই পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছে, বিজ্ঞানীরা মাত্র এটা আবিষ্কার করেছে। এটা ছিল অবাক করা বিষয়। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং সবচেয়ে ভীতিকর সময়।

আমি বইয়ের পর বই অধ্যায়ন করতে লাগলাম, তথ্যগুলো যাচাই করতে থাকলাম। এক রাতে আমি প্র্যাট ইনস্টিটিউট লাইব্রেরিতে বসে খোলা বইগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার মুখটা হয়তো কিছুটা ফাঁক হয়ে গিয়েছিল। কী ঘটতে যাচ্ছে, আমি বুঝতে পারছিলাম না। তবে এটুকু অনুভব করলাম, আমার সামনে যা রয়েছে, তা হলো সত্য। আগে আমি যেটাকে সত্য ভাবতাম, সেটার আর কোনা অস্তিত্ব ছিল না।

এখন কী
আমার সামনে দুটি বিকল্প ছিল। একটা আসলে কোনো বিকল্পই ছিল না। আমি যা আবিষ্কার করেছিলাম, তা অস্বীকার করতে পারছিলাম না, অগ্রাহ্য করতে পারছিলাম না। আগের মতোই চলব, এমনটাও ভাবছিলাম সামান্য সময়ের জন্য। সেটাও সম্ভব ছিল না। আমার কাছে পথ খোলা ছিল কেবল একটাই।

ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না আমার সামনে। অন্য কিছু করা মানেই ছিল সত্যকে অস্বীকার করা।
(লেখিকা ড্যানিয়েলে লোডুকা ইউরোপিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান। ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ২০০২ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পেশায় তিনি শিল্পী। ব্যক্তিজীবনে পাঁচ সন্তানের মা। ইসলাম নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।)
অনুবাদ : আসিফ হাসান

ইরানের ওপর থেকে উঠে গেল অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: তেহরানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

ইরানের ওপর থেকে আজ (রোববার) সকালে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিভাবে উঠে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আজ ভোর রাতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ (১৮ অক্টোবর) থেকে ইরান কোনো আইনগত বাধা ছাড়াই যেকোনো দেশের কাছ থেকে নিজের প্রয়োজনমতো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং যেকোনো দেশের কাছে বিক্রি করতে পারবে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ব সমাজের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজ ইরানের পরমাণু সমঝোতা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব রক্ষা করেছে।

ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাতিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ফাইল ছবি)
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর ইরানের ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয় ও নিশ্চিতভাবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ঘটা করে কোনো ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইরান-বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৫ সালে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ও নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী আজ (রোববার) তেহরান সময় ভোররাত সাড়ে ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়) ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কথিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মার্কিন প্রচেষ্টা আরেকবার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার মুখোমুখি হলো। পার্সটুডে