আজারবাইজানে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১২ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

আজারবাইজান জানিয়েছে, শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জাতে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ছোড়া গোলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আঘাত হেনেছে।

আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের এক সহকারী হিকমত হাজিয়েভ টুইটারে জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে ২০টির বেশ বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

এই হামলার বিষয়ে আর্মেনিয়ার এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্যাঞ্জাতে শনিবার ভোরে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তৃতীয় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে কৌশলগত শহর মিঙ্গেসেভিরে। আজারবাইজান আর্মেনীয় বিদ্রোহীদের রাজধানী স্টেপানাকার্টে গোলা নিক্ষেপ করার কয়েক ঘণ্টা পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এএফপি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। কালো ব্যাগে মরদেহ নিয়ে যেতে দেখেছেন তারা। হামলায় কয়েকটি বাড়ি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।

তারা আরও জানান, হামলার পর মানুষ এলোপাতাড়ি ছুটছিল। কেউ কেউ নিজেদের ঘুমের পোশাক পরে দৌড়ে বের হন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিশু, দুই নারী ও চার পুরুষকে বের করতে দেখে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। শিশুরা টিভি দেখছিল। আমাদের আশেপাশের সব বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ রয়েছে। অনেকে মৃত, কয়েকজন আহত।

শনিবারের হামলার ৬ দিন আগে গ্যাঞ্জা শহরের আরেকটি এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ওই হামলায় ১০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। গত কয়েক দিনের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

রুশ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষ মস্কোতে অস্ত্রবিরতির আলোচনায় সম্মত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

বাররি মসজিদ ধ্বংসের পর আরেকটি মসজিদ উচ্ছেদের পথে ভারত!

বিতর্কিত বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর আরও একটি ভারতীয় মসজিদ উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে করছে বলে অভিযোগ। কৃষ্ণ জন্মভূমি পুনরুদ্ধারের নামে নতুন করে আরেকটি মুসলিম উপাসনালয় তুলে দেওয়া হতে পারে বলে সন্দেহ করছে ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলিমরা। এ সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে মথুরা আদালতে।

জানা গেছে, শুক্রবার এই মামলাটি গ্রহণ করেন মথুরার ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন জজ সাধন ঠাকুর। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে মসজিদ সরানোর দাবি জানিয়ে করা মামলাটি খারিজ করে দেন নিম্ন আদালত। এদিকে, এই মামলায় শাহী দরগা মসজিদ ট্রাস্ট ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-সহ সকল পক্ষকে নভেম্বরের ১৮ তারিখ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

মথুরার দেওয়ানি আদালতে এবার কৃষ্ণের হয়ে মথুরার কৃষ্ণ মন্দির চত্বর থেকে শাহী দরগা সরানোর দাবিতে কৃষ্ণের ‘বন্ধু’ হিসেবে মামলাটি দায়ের করেছেন উত্তরপ্রদেশে বাসিন্দা রঞ্জন অগ্নিহোত্রি। মামলায় মন্দির চত্বরের থাকা দরগার ১৩.৩৭ একর জমি খালি করানোর দাবি করা হয়েছে।

মামলাকারীর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও শাহী দরগার ম্যানেজমেন্ট ট্রাস্ট স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দার মদতে অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে রেখেছে।

শুধু তাই নয়, নিজের অভিযোগে মামলাকারী রঞ্জন অগ্নিহোত্রি বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থানের উপরই মুসলিম ধর্মস্থলটি রয়েছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান সেবা সংস্থান জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে শাহী দরগা ট্রাস্টের সঙ্গে অবৈধভাবে সমঝোতা করেছে।

উল্লেখ্য, মথুরাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির। হিন্দুদের বিশ্বাস, ওই জায়গাটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেই মন্দির চত্বরেই রয়েছে শাহি ইদগাহ মসজিদ। হিন্দুরা দাবি করে, প্রাচীন কেশবনাথ মন্দির ভেঙেই মসজিদটি তৈরি করেন সম্রাট আড়ঙ্গজেব।

১৯৩৫ সালে ওই মন্দির চত্বরের মালিকানা মথুরার রাজার হাতে সঁপে দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। পর্যায়ক্রমে সেই সত্ব বর্তায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ শ্রী কৃষ্ণভূমি ট্রাস্টের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় সংঘাত। অবশেষে ১৯৬৮ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে জমির মালিকানা হিন্দুদের হাতে থাকলেও মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পায় মুসলিম পক্ষ।

বাতাসে দূষণ বাড়াচ্ছে ভারত: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি রাশিয়া, ভারত ও চীনের মাধ্যমেই বাতাসে দূষণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তবে সেই তালিকায় একেবারে নিচের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে বলে দাবি তার।

নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, এই সমস্ত দেশে বায়ু দূষিত। শুধু তাই নয় ভারত চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে জন্য নিজেদের ভূমিকাও ঠিকভাবে পালন করে না বলেই দাবি ট্রাম্পের।

নর্থ ক্যারোলিনায় এক নির্বাচনী জনসভায় এই বক্তব্য রাখেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন জ্বালানি বাঁচানো থেকে শুরু করে পরিবেশ দূষণ রোধে একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া, ভারত ও চীনের কারণে দূষণ বাড়ছে। আমেরিকার পরিবেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত, রাশিয়া বা চীনের মত দেশগুলো জানেই যা যে পরিবেশ সংরক্ষণ কীভাবে করতে হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে এই দেশগুলোর প্রাথমিক ধারণা নেই বলেই মনে করেন তিনি। আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও শহরের নাম করতে চাই না। কিন্তু এমন কিছু কিছু শহর আছে যেগুলোতে গেলে নিশ্বাস পর্যন্ত নিতে কষ্ট হয়।

উল্লেখ্য, পরিবেশ রক্ষার জন্য প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্পের নেতৃত্বেই বেরিয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎকারে জানান প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে মিনিট পনেরো কথা হবে বলে ঠিক ছিল, কিন্তু শেষ মেশ প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা বলেন তারা। আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে তিনি যথেষ্ট ভাবিত বলেই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

তিনি বলেন, আমি তাকে জানিয়েছি বিভিন্ন রকম তথ্য বলছে আমেরিকার পরিবেশ পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় যথেষ্টই ভালো।

ক্লাসে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

ক্লাসরুমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে ফ্রান্সে এক শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হত্যাকারীকেও গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

শুক্রবার প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমে কনফ্লানস সেইন্তে-হনোরাইন এলাকার একটি রাস্তায় ঘটেছে এ হত্যাকাণ্ড।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর হাতে একটি ছুরি ও একটি এয়ারসফট গান ছিল। শিক্ষককে হত্যার স্থান থেকে ৬০০ মিটার দূরে ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে ইতিহাসের ওই শিক্ষক তার ক্লাসে মহানবী (স)-এর কিছু ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, যা মুসলিমদের কাছে খুবই আপত্তিকর। ওই ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের পর থেকেই হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি।

শুক্রবার নিজ কর্মস্থল মিডল স্কুলটির সামনের সড়কেই হামলার শিকার হন ওই শিক্ষক।

এদিকে, ফ্রান্সের বিচার বিভাগীয় একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক শিশুসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সম্প্রতি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর কোনও সন্তান স্কুলটিতে পড়ে না। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলী জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন তারা।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ জনসাধারণকে আপাতত ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এরাগনির মেয়র থিবল্ট হাম্বার্ট দ্রুততার সঙ্গে সন্দেহভাজন অপরাধীকে নিষ্ক্রিয় করায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, শুক্রবারের এ হামলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ক্রাইসিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা