মজলুমদের জন্য আমাদের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত : এরদোগান

তুরস্কের প্রসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা নির্যাতিত শরনার্থীদের জন্য তুরস্কের দরজা সর্বদা খোলা থাকবে।

গত শনিবার (৩ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে একটি অর্থোডক্স চার্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্পেন থেকে উত্তর আফ্রিকায় আসা নিপীড়িতদের জন্য আমাদের হৃদয় ও দরজা সবসময়ই উন্মুক্ত ছিলো৷ ইতিহাস যার সাক্ষী।

তিনি আরো বলেন, আমরা বর্তমানে সিরিয়া, ইরাক, আরব, কুর্দী এবং তুর্কিমেন এর পাশাপাশি সিরিয়ান, ইয়াজদিন ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে আমাদের প্রায় ৪ মিলিয়ন মুসলিম ভাইদের (মেহমানদারীর) ব্যবস্থা করছি।

তিনি বলেন, যখন ইরাক ও সিরিয়ার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের উপর বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার করেছে এবং তাদের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করেছে, তখন আমরা কোনরকম বৈষম্য ছাড়াই আমাদের হৃদয় খুলে দিয়েছি।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, আমাদের মন ও মননে কখনো বৈষম্যের জায়গা হয়নি। আর হবেও না।

এছাড়াও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ও তাদের পরিচালনাকারী বাহিনীর মূল লক্ষই হলো ‘আমাদের স্বদেশ”

এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলা ব্যর্থ করার একমাত্র পথ হলো, দেশের সকল নাগরিক এক ব্যক্তির হৃদয়ে থাকবে।

সূত্র : আনাদুলু

পানিতে ডুবে যাওয়া কাবা শরীফ সাঁতার কেটে তওয়াফ করেছিলেন যিনি

১৯৪১ সালে একাধারে ৭দিন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন পবিত্র কাবা শরীফ ৬ফুট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। সে সময় কাবা শরীফ পানিতে ডুবে গেছে, আর একজন সাঁতার কেটে তওয়াফ করেছে। ১২ বছর বয়সী বাহরাইনের শেখ আলআওয়াদী তখন মক্কায় দ্বীনি স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

সেসময়ের ১২ বছর বয়সি কিশোর ২০১৫ র মে মাসের ১৬ তারিখ ৮৬ বছর বয়সে শেখ আল আওয়াদি বাহরাইনে ইন্তেকাল করেন। তার ছেলে আব্দুল মজিদ ২০ বছর আগে হজ্জ করতে গিয়ে তার বাবার ছবির পোস্টার কপি কিনে এনেছিলো মক্কা থেকে পিতার জন্যে উপহার হিসাবে।

ন্তেকালের আগে ২০১৩ সনে কুয়েত আল রাই টেলিভিশনে তিনি তার স্মৃতি চারণে বলেন, “বন্যার পানিতে মানুষ, যানবাহন, আর গবাদি পশু ভেসে যেতে দেখেছি। ৭ দিন পর বৃষ্টি থামলে আমর ভাই হানিফ, বন্ধুবর তিমবাক্তুর মালিয়ান শহরের মোহাম্মদ আল তাইয়িব, ও আলী থাবিত, আর ইয়ামেনের এডেনের হাসিম আল বার, আর আমাদের শিক্ষক তিউনিসের আব্দুল রউফ মিলে কাবা শরীফের বন্যার অবস্থা দেখতে যাই।

তিনি আরো বলেন, ‘বাচ্চারা পানি দেখলে যা করে আমরাও তাই করলাম, মাথায় আসলো সাতরিয়ে তওয়াফ করবো। যা ভাবা তাই, আমরা চারজন পানিতে ঝাপিয়ে পড়লাম।পুলিশ হই হই করে উঠলো, আমরা কালো পাথর চুরি করার নিয়তে পানিতে নেমেছি কিনা।

আমি সাতরাতে সাতরাতে পুলিশকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, আমি শুধু সাতরিয়ে তওয়াফ করব ৭ বার, পুলিশ তার স্বভাব সুলভ খবরদারী করেই চলছিলো। ইতিমধ্যে আলী থাবিত আর মোহাম্মদ আল তাইয়িব ক্লান্ত হয়ে পড়লে কাবা শরীফের দরজার ওপর বসে থাকে, উদ্ধার হবার আশায়।”

শেখ আলআওয়াদী আরো বলেন, “আমার ভয় হচ্ছিলো যে পুলিশ আমাকে গুলি করে না বসে আবার আনন্দ হচ্ছিলো এই ভেবে যে, পৃথিবীতে কেউ কোনদিন এই ভাবে কাবা প্রদক্ষিন করেনি, আমিই প্রথম। তাই ভয় আর আনন্দের মিশ্র অনুভুতি নিয়ে আমি কাবার চারপাশে সাতরিয়েই চললাম। পরবর্তীতে জানতে পেরেছিলাম, পুলিশের রাইফেলে আসলে গুলি ছিলোনা।”

শেখ জানান তিনি তৎকালীন মক্কার বুড়ো মানুষদের কাছে জানতে চেয়ে ছিলেন তারা এরকম বানের পানি আগে দেখেছেন কিনা, তারা কস্মিন কালেও এত পানি দেখেননি বলে খবর দিয়েছেন।
সূত্র: এমটিনিউজ২৪